• ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]

টাঙ্গাইলে দুর্নীতির অভিযোগে পল্লীউন্নয়ন কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ডরিলিজ

বিডি নিউজ বুক ডেস্ক: / ২২১৭ বার পঠিত
আপডেট : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২০
ম্যাপ- মধুপুর।

:: নিজস্ব সংবাদদাতা ::

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা পল্লীউন্নয়ন কর্মকর্তা লিটন মোহনের বিরুদ্ধে ঋণ দেয়া, পরিশোধের নামে সমবায়ীদের হয়রানী, এক সমিতির দেয়া টাকা আর এক সমিতির নামে ঋণ পরিশোধ দেখানো, সাদাকাগজে টাকা পরিশোধের ভূয়া রশিদ তৈরি, ঋণ পরিশোধের নামে সমিতির শেয়ার সঞ্চয়ের টাকা সমন্বয়ে নয়-ছয় করা এমনকি অফিস সহায়কের বেতন মেরে দেয়া ও চেয়ারম্যানের সম্মানির টাকা তুলে নিজের পকেটে তোলার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সমবায়ীরা বিক্ষোভ প্রকাশ করে দায়ী ওই কর্মকর্তার বিচার দাবিতে কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন সমবায় সমিতি’র সভাপতি, সদস্যগণ উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা কার্যালয়ে এসে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে এসব অভিযোগ উত্থাপন করে বিক্ষোভ প্রকাশ করেন। মঙ্গলবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটে। উপ-পরিচালক ডিজির নিদের্শে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে ক্লোজ করে জেলায় নিয়ে গেছেন।

মধুপুর বিআরডিবি চেয়ারম্যান নুরুল আলম খান রাসেল তার কার্যালয়ে সমবায়ীদের ডেকে এক বৈঠকের আয়োজন করেন। বৈঠকে উপজেলা পল্লীউন্নয়ন কর্মকর্তা লিটন মোহনের উপস্থিতিতে আনীত অভিযোগ ও সে বিষয়ে জানতে চাইলে তার বিতর্কিত আচরণে সমবায়ীরা উত্তেজিত হয়ে উঠেন।

চেয়ারম্যান অবস্থা বেগতিক দেখে টাঙ্গাইলের সংশ্লিষ্ট উপ-পরিচালক একেএম জাকিরুল ইসলামকে মোবাইলে জানিয়ে পদক্ষেপ নিতে বললে তিনি তার এক সহকারিকে নিয়ে দ্রæতঘটনা স্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করেন।

তার উপস্থিতিতে সমবায়ীরা অভিযোগ করেন বিডি নিউজ বুক টোয়েন্টিফোর ডট নেটকে জানান- বোকারবাইদ কৃষক সমবায় সমিতির ঋণ পরিশোধের ৫০ হাজার টাকার বিপরীতে ব্যাংকে জমা হয় ৩৫ হাজার টাকা, ফুলবাগচালা ইউনিয়নের মনতলা কৃষক সমবায় সমিতির নামে ৩৮ হাজার টাকা জমা দিলেও রশিদ দেয়া হয় ২ হাজার ৮৮০ টাকা। আঙ্গালিয়াপাড়া কে এসএস’র নামে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯১০ টাকা অফিসে জমা হলেও উপজেলা পল্লীউন্নয়ন কর্মকর্তার যোগসাজসে ব্যাংকে জমা হয়েছে ৮৯ হাজার ৯১০ টাকা। বাকি ৬০ হাজার টাকা বড়ইকুড়ি কেএসএস এর নামে একই নম্বরের ব্যাংক স্লিপে জমা রশিদ দিয়েছে। যা পুরো জালিয়াতি। অথচ আঙ্গালিয়া পাড়া কে এসএস এর স্লিপে ঘষামাজা করে ৬০ হাজার টাকার আসল পরিশোধ দেখানো হয়েছে। অপরদিকে প্রতিষ্ঠানের পল্লী প্রগতি প্রকল্পের সংগঠক আসাদুজ্জামানের দুই মাসের বেতন প্রদানের কথা বলে ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নিয়ে ৩১ হাজার ৩০০ টাকা ব্যাংক থেকে নিজেই তুলে আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বললে তিনি চাকরিচ্যুতের ভয় দেখান। এ নিয়ে ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।

বিআরডিবির চেয়ারম্যান নুরুল আলম খান রাসেল সম্মানী বাবদ টাকা না তুলে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকে দান করেন বলে অফিস সংশ্লিষ্টরা জানান। উপজেলা পল্লীউন্নয়ন কর্মকর্তা লিটন মোহনদে চেয়ারম্যানের গত ৭ মাসের সম্মানীর ১৭ হাজার ৫০০ টাকা একাউন্ট ট্রান্সফারের নামের কথা বলে চেকে স্বাক্ষর নিয়ে ব্যাংক থেকে তুলে পকেটস্থ করেছেন। এমন গুরুতর অভিযোগে সমবায়ীরা উপজেলা পল্লীউন্নয়ন কর্মকর্তা (ইউআরডিও) লিটন মোহন দে কে প্রত্যাহারের দাবি জানান। এ সব তথ্য ভূক্তভোগীদের আবেদন ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।

মধুপুর বিআরডিবি’র চেয়ারম্যান নুরুল আলম খান রাসেল বিডি নিউজ বুক টোয়েন্টিফোর ডট নেটকে জানান, এসব অভিযোগের সত্যতার প্রাথমিক প্রমাণ মিলে যাওয়ায় আতœপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিলে তিনি লিখিত আকারে দোষ স্বীকার করেন। তার হস্ত মজুদ থাকা বড় অংকের টাকা থেকে চেকের মাধ্যমে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯২০ টাকা নগদ অফিসে জমা দেন। চেয়ারম্যান আরও জানান, উপ পরিচালক একেএম জাকিরুল ইসলাম ডিজির নির্দেশে সমবায়ীদের টাকা তশরূপ,অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ, অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়ানোসহ স্থানীয় পল্লীউন্নয়ন অফিসের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য ইউআরডিওকে টাঙ্গাইলে ক্লোজ করে নেয়া হয়েছে। সহকারি পল্লীউন্নয়ন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।

টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক একেএম জাকিরুল ইসলাম ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত করে বিডি নিউজ বুক টোয়েন্টিফোর ডট নেটকে জানান, অভিযোগের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


এই ধরনের আরও সংবাদ

পুরাতন সব সংবাদ

SatSunMonTueWedThuFri
    123
45678910
18192021222324
252627282930 
       
 123456
78910111213
28293031   
       
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31      
   1234
2627282930  
       
     12
10111213141516
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728     
       
      1
16171819202122
23242526272829
3031     
   1234
       
  12345
27282930   
       
29      
       
1234567
2930     
       

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!