• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]

নওগাঁর আত্রাই নদী এখন দখলবাজদের হতে, নদীর বুকে চাষ হচ্ছে ধান

এম. সাখওয়াত হোসেন- মহাদেবপুর / ৪৪ বার পঠিত
আপডেট : শনিবার, ১ মে, ২০২১
নওগাঁর আত্রাই নদী- ছবি প্রতিনিধি

নওগাঁর মহাদেবপুরে আশির দশকের ভাটিয়ালী গানের সুরে পালতোলা নৌকা নিয়ে ছুটেচলা ভরা যৌবনা উত্তাল আত্রাই নদীর বুকে এখন দোল খাচ্ছে পাকা ধানের শীষ । খুব বেশী আগের কথা নয়। আশির দশক জুড়েই ভরা যৌবনা ছিল আত্রাই। সে সময় আত্রাইয়ের তর্জন-গর্জনে মানুষের বুকে কাঁপন সৃষ্টি হতো। নব্বইয়ের দশক থেকে ক্রমেই যৌবন হারাতে থাকে এ নদী।

এখন এসে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে নদীটির আর হারানোর কিছুই নেই। সেই অতীতে নওগাঁর মহাদেবপুরের এ আত্রাই নদীতে ঢেউয়ের তালে তালে চলাচল করতো পালতোলা অসংখ্য নৌকা। ভাটিয়ালী আর পল্লীগীতি গানের সুরে মাঝিরা নৌকা নিয়ে ছুটে চলতো জেলার ধামইরহাট, পত্নীতলা ও মান্দাসহ অন্যান্য জেলা এবং উপজেলার নদী কেন্দ্রীক ব্যবসা কেন্দ্রগুলোতে। এ নদীকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা বড় বড় হাটবাজার সমূহে ব্যবসার জন্য ধান, পাট, আলু, বেগুন, সরিষা, কালাই ও গমসহ নানান কৃষি পণ্য নিয়ে সওদাগররা নৌকায় পাল তুলে মাঝিমালা নিয়ে ছুটে চলতো। শুধু কৃষি পণ্যই নয় হাটগুলোতে বিক্রির জন্য তারা নিয়ে যেতেন গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও অন্যান্য পণ্য। ওই সময় আত্রাই নদী ছিল পূর্ণ যৌবনা।

এ নদীকে অবলম্বন করে অসংখ্য মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে জীবন-জীবিকার রাস্তা খুঁজে পেয়েছিল। শুধু হাটবাজারই নয় এ নদী কেন্দ্রীক গড়ে উঠেছিল অনেক জনপদ। নদীর অথৈ পানি দিয়ে কৃষক দুই পাড়ের ঊর্বরা জমিতে ফসল ফলাতো। প্রকৃতির অফুরন্ত পানিতে নানা ফল-ফসলে ভরে উঠেছিল কিলোমিটারের পর কিলোমিটার জুড়ে আত্রাই নদীর দুইধারের জমিতে। সে এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। জীবিকার সন্ধানে নদী সংলগ্ন ও আশপাশ এলাকার অসংখ্য জেলে পরিবারের বসতী গড়ে উঠেছিল। ছোট বড় নানা প্রজাতীর মাছের অফুরন্ত উৎস ছিল এ নদী। মাছ পাওয়া যেত সারা বছর।

জীবিকার জন্য মাছের আশায় জেলেরা রাতদিন ডিঙ্গী নৌকায় জাল-দড়ি নিয়ে চষে বেড়াতেন নদীর এ প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। ধরা পড়তো প্রচুর মাছ। সেই সোনালী দিন শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। সময় গড়িয়ে চলার সাথে সাথে সেই ভরা যৌবনা আত্রাই নদী এখন মরাখালে পরিণত হওয়ায় আত্রাইকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অসংখ্য হাটবাজার এখন হয়েছে বিরাণ অঞ্চল, কৃষি জমিগুলো পরিণত হয়েছে ধুধু প্রান্তরে, জেলে পরিবারগুলো হয়ে গেছে বীলিন আর সে সময়ের ব্যবসা-বাণিজ্যের উৎসগুলো হয়ে গেছে প্রায় বন্ধ। এসবই এখন কালের স্বাক্ষী।

ঐতিহ্যের দিক থেকে এ জেলার নদ-নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল আত্রাই নদী। ভৌগলিকভাবে নদীটি ছিল চমৎকার অবস্থানে। নদীটি কোনদিন খনন ও ড্রেজিং করাতে হয়ইনি এমনকি রক্ষণাবেক্ষণের চখে পরার মতো তেমন উদ্যোগ নেয়া হয়নি কখনোই। সরকারের নজর না দেয়ার সুযোগে এক শ্রেণীর দখলবাজ নদীটির অনেক স্থান দখলে নিয়ে খুশিমত ভরাট করে ফেলেছে। কেউ কেউ বর্জ্য ফেলে দূষণ ও ভরাট অব্যাহত রেখেছে। অনেকে অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র থেকে বালু উত্তোলন ও পাড় কেটে মাটি বিক্রির প্রতিযোগীতায় মেতে উঠেছে।


এই ধরনের আরও সংবাদ

পুরাতন সব সংবাদ

SatSunMonTueWedThuFri
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31      
   1234
2627282930  
       
     12
10111213141516
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728     
       
      1
16171819202122
23242526272829
3031     
   1234
       
  12345
27282930   
       
29      
       
1234567
2930     
       

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!