• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]

নওগাঁয় পাশাপাশি গভীর নলকুপ বসানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, দুর্ঘটনার আশংকা

বিকাশ চন্দ্র প্রাং, নওগাঁ / ২০ বার পঠিত
আপডেট : রবিবার, ৩০ মে, ২০২১

নওগাঁ সদর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের ভরট্ট মৌজায় একটি গভীর নলকুপ অবৈধভাবে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক বসানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যে কোন মুহুর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা করছে এলাকাবাসী। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে মানিক উদ্দীন কবিরাজ নামের এক ব্যক্তি ভরট্ট মৌজায় জে,এল নং- ১৪৯, দাগ নং-৩২১৭ এর উপর একটি গভীর নলকুপ বসিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর যাবত সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে ইরি বোরো মৌসুমে চাষাবাদ করে আসছিল। কোন চাষীর সাথে পানি নিয়ে কোন প্রকার দ্বিমত সৃষ্টি হয়নি। এছাড়াও সরকারী বিধি মোতাবেক ২০১৫-১৬ সাল থেকে উপজেলা সেচ কমিটির থেকে প্রাপ্ত লাইসেন্স প্রতিবছর নবায়ন করে আসছে। হঠাৎ কয়েকদিন পূর্বে ওই ইউনিয়নের শিকারপুর গ্রামের জেকের আলীর পুত্র ইব্রাহীম হোসেন একই মৌজার জেএল নং-১৪৯, দাগ নং-৩২০৬ এর উপর তার নলকুপের পাশে প্রায় ৩০০ফিট দুরত্বে অবৈধ ভাবে জোর পূর্বক একটি নলকুপ বসানোর জন্য সকল প্রস্তুতি নিয়ে মালামাল বহন করছে। তাকে নিষেধ করলেও কোন কথায় কর্নপাত করে না।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কতৃপক্ষের কোন নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে তার নলকুপ বসানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কতৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী একটি নলকুপ থেকে অন্য একটি নলকুপের দুরত্ব হবে ২৬০০ ফিট। কিন্তু ইব্রাহিম হোসেন কোন নিয়মনীতি না মেনে অবৈধ ভাবে ও জোরপূর্বক নলকুপ বসানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। যে কোন মুহুর্তে বড় ধরনের দূঘটনা ঘটার আশংকা করছে এলাকাবাসী। মানিক উদ্দীন শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার স্বার্থে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বিএমডিএর নিয়ম অনুযায়ী নলকুপ বসানোর জন্য বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী ও সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর আবেদন করেছেন।

ওই নলকুপের একাধিক কৃষক জানান, আমরা প্রায় ১০বছর ধরে এই নলকুপের মাধ্যমে সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে জমি চাষাবাদ করে আসছি। কোনদিন কোন পানির সংকট বা কোন প্রকার অসুবিধা এখনও হয় নাই। হঠাৎ করে আরও একটি নলকুপ বসানোকে কেন্দ্র করে এখানে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তারা আরও বলেন, যে কেউ নলকুপ বসাতে পারবে। তবে, সরকারের নিয়মনীতি অনুযায়ী বসালে তাদের কোন আপত্তি নাই। কিন্তু জোর পূর্বক অবৈধ ভাবে বসানোর জন্য তারা বিষয়টি মানতে নারাজ। ৩০০ফিট দুরত্বে নলকুপ বসালে দুই নলকুপের অধীনে কৃষকরা ইরি বোরো ধান করতে পারবে না। কারন নীচের স্তরের পানি দুই নলকুপের সাপ্লাই দিতে পারবে না। এছাড়াও এ নিয়ে যে কোন বড় ধরনের দুঘটনা ঘটার আশংকা করছেন তারা। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

আরও পড়ুন : সাপাহারে মাস্ক পড়া নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালদতের অভিযান

নলকূপের মালিক মানিক উদ্দীন কবিরাজ জানান, আমি প্রায় ১০ বছর যাবত সরকারী বিধি মোতাবেক নলকুপ বসিয়ে সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে আমি ও আমার কৃষকরা চাষবাদ করে আসছি। এখনও পর্যন্ত কোন অসুবিধা হয় নাই। প্রতি বছরই সরকারের লাইসেন্স বাবদ ফি দিয়ে আসছি। হঠাৎ করে জোরপূর্বক অবৈধ ভাবে মাত্র ৩০০ফিট দুরে শিকারপুর গ্রামের ইব্রাহিম নলকুপ বাসানোর কাজ শুরু করেছে। আমি নিষেধ করেও কোন কথা শোনে নাই। বাধ্য হয়ে উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সেচ কমিটির সদস্য সচিব বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী ও আইন শৃংখলা বজায় রাখার স্বার্থে থানার অফিসার ইনচার্জ এবং স্খানীয় শিকারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বরাবর দরখাস্ত দিয়েছি। কোন প্রকার কার্যকরী পদক্ষেপ এখনও গ্রহণ করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তিনিও লিখিত দরখাস্ত পাওয়ার পরও কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করেন নাই। নলকুপ বসাতে তার কোন আপত্তি নাই তবে সরকারী বিধি মোতাবেক দুরত্ব মেনে বসাতে হবে, কোন অবৈধ ভাবে বা জোর পূর্বক পেশী শক্তি দিয়ে নয়।

ইব্রাহিম হোসেন জানান, আমি সরকারের নিয়ম অনুযায়ী বিএমডিএর অনুমতি নিয়ে নলকুপ বসাচ্ছি। কোন অন্যায় ভাবে বা জোর পূর্বক ভাবে নয়। এর বেশী কোন কথা বলতে রাজি নই আমি।

উপজেলা সেচ কমিটির সচিব ও বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইতিমধ্যেই ওই এলাকার মেকানিককে নির্দেশ দিয়েছি। তবে তদন্তের রিপোর্ট এখনও লিখিত ভাবে পাই নাই।

উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মির্জা ইমাম উদ্দীন বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি এবং বিষয়টি নিরসনের জন্য বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলীকে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশনা দিয়েছি। তবে কেউ আইনকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে জোরপূর্বক কোন কাজ করলে সেটিরও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এই ধরনের আরও সংবাদ

পুরাতন সব সংবাদ

SatSunMonTueWedThuFri
   1234
12131415161718
19202122232425
2627282930  
       
     12
10111213141516
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728     
       
      1
16171819202122
23242526272829
3031     
   1234
       
  12345
27282930   
       
29      
       
1234567
2930     
       

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!