• ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]

সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবীতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ছাবিনা

বিকাশ চন্দ্র প্রাং, নওগাঁ / ১২ বার পঠিত
আপডেট : সোমবার, ২৪ মে, ২০২১
ম্যাপ, নওগাঁ

নওগাঁর পত্নীতলায় বিয়ের প্রলোভন দিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়া গৃহকর্মী ছাবিনা বেগম (৩৪) তার সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবীতে এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। গত ১৪ মে তার কোলজুড়ে জন্ম নেয় এক ফুটফুটে পুত্র সন্তান। ঘটনার পর থেকে ধর্ষক আমিনুল ইসলাম সৈকত পলাতক রয়েছে।

আমিনুল ইসলামের প্রভাবশালী পিতা আখতার হোসেন সাবু স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ভিকটিমের দরিদ্র পিতা-মাতার ওপর হুমকি ধামকি অব্যাহত রেখেছে। বিষয়টি আদালতে মামলা করলে তদন্তের দায়িত্ব পিআইবিকে দেয়া হয়। তবে অদ্যাবধি তদন্তের কোন অগ্রগতি নেই বলে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ।

ধর্ষক আমিনুল ইসলাম সৈকত পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী আখতার হোসেন ওরফে সাবু মিঞার ছেলে। ধর্ষণের বিষয়টি এতদিন চাপা দিয়ে রাখা হলেও ওই গৃহকর্মী ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ধর্ষণকারীর পরিবার বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় ওই তরুণী গত ২২ মার্চ ২০২১ নওগাঁ জেলা লিগ্যাল এইডের সহায়তায় আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পুরাতন বাজারের ব্যবসায়ী আকতার হোসেন ওরফে সাবুর একমাত্র ছেলে দুই সন্তানের জনক আমিনুল ইসলাম সৈকতের স্ত্রী বেশ কয়েক বছর ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় বাসার কাজ ও সন্তানদের দেখা শুনার জন্য পার্শ্ববর্তী পলিপাড়া মহল্লার হতদরিদ্র কলা ব্যবসায়ী আঃ সামাদের স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে ছাবিনা বেগমকে গৃহকর্মী হিসেবে নিযুক্ত করে।

কাজের সুবাদে ওই গৃহকর্মী রাতে গৃহকর্তার বাড়িতেই অবস্থান করত। কাজ শুরু করার কয়েকদিন পর থেকেই গৃহকর্তা আমিনুল ইসলাম সৈকত ওই গৃহকর্মীকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিতে শুরু করে। এতে রাজি না হলে গত ১ আগস্ট/২০২০ রাত আনুমানিক ২টার দিকে গৃহকর্মীর ঘরে ঢুকে ওই গৃহকর্মীকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং বিয়ে করবে বলে আশ্বস্ত করে। পরে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে দিনের পর দিন ওই গৃহকর্মীকে ধর্ষণ করে আসছিল আমিনুল ইসলাম সৈকত। এভাবে ৪-৫ মাস পার হয়ে গেলে গৃহকর্মীর শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। এসময় সে বিষয়টি সৈকতকে জানালে সৈকত বাচ্চাটিকে নষ্ট করতে বলে। কিন্তু গৃহকর্মী এতে রাজি না হয়ে সৈকতকে বিয়ে করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। পরবর্তীতে গত ২০ ফেব্রুয়ারি/২১ গৃহকর্মীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি সৈকতের পরিবার জানতে পারলে গৃহকর্মীকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরে ওই গৃহকর্মী বাড়ি ফিরে বিষয়টি তার নিজ পরিবারকে জানায়।

এ অবস্থায় তারা নানা চাপের মুখে জেলা লিগ্যাল এইডের সহায়তায় গত ২২ মার্চ ২০২১ নওগাঁ বিজ্ঞ জেলা জজ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে আমিনুল ইসলাম ওরফে সৈকতকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে ওই গৃহকর্মীর পিতা আঃ সামাদের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আসামী ও আসামীর পরিবার এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় নানা ভাবে হুমকি প্রদানসহ বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য লোক মারফত চাপ প্রয়োগ করছে। বর্তমানে তিনি তার মেয়ে ও তার সন্তানকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমন কি তার অভাবের সংসারে তাদের ভরনপোষন নিয়েও চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাতে হচ্ছে।


এই ধরনের আরও সংবাদ

পুরাতন সব সংবাদ

SatSunMonTueWedThuFri
   1234
12131415161718
19202122232425
2627282930  
       
     12
10111213141516
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728     
       
      1
16171819202122
23242526272829
3031     
   1234
       
  12345
27282930   
       
29      
       
1234567
2930     
       

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!