• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]

রামদা নিয়ে কলেজে ডাকা হয় 007 গ্রুপে

বিডি নিউজ বুক ডেস্ক: / ৫৫ বার পঠিত
আপডেট : শনিবার, ২৯ জুন, ২০১৯

নিউজ বুক ডেস্ক ::

হঠাৎ নয়, রিফাত শরীফকে খুন করা হয় ঠাণ্ডা মাথায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী। আর সেই কিলিং মিশনের আগে ফেসবুকে একটি গ্রুপে হত্যার পরিকল্পনা সাজানো হয়।

বরগুনা শহরে প্রকাশ্যে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার তদন্তের মধ্যেই আলোচনায় এসেছে ফেসবুকের এই গ্রুপটি। যার নাম ‘বন্ড 007’।

গ্রুপটি হলিউড মুভি জেমস বন্ডের কোড নম্বর ‘জিরো জিরো সেভেন’ এর সঙ্গে মিল রেখে করা হয়েছে। আর এই গ্রুপের প্রধান হলেন রিফাত হত্যার মূল আসামি নয়ন বন্ড। বলা হচ্ছে, ওই ফেসবুক গ্রুপেই রিফাত হত্যার বিষয়ে সদস্যদের মাঝে কথোপকথন হয়।

কথোপকথনে দেখা যায়, রিফাত ফরাজী নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে 007 গ্রুপের সবাইকে সকাল ৯টার দিকে কলেজে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর একটি রামদার ছবি দিয়ে সেটিও নিয়ে যেতে বলা হয়। সেখানে উত্তর দিতে দেখা যায় মোহাম্মদ নামের আরেকটি আইডিকে।

ফেসবুক গ্রুপের কথোপকথন:

রিফাত ফরাজী: 007 গ্রুপের সবাইকে কলেজে দেখতে চাই।

মোহাম্মদ: কয়টায়?

(রিফাতের বক্তব্যকেই আবার রিপোস্ট করে সাগর নামের একটি আইডি। সেখানে ‘ভিক্টরি’ ইমো দেয় সে)

রিফাত ফরাজীকে ট্যাগ দিয়ে মোহাম্মদ আবার লেখে: কয়টায় ভাই?

রিফাত ফরাজী: ৯টার দিকে।

এরপর রিফাত ফরাজী একটি দায়ের ছবি পোস্ট করে। বলে: পারলে এইটাসহ।

মোহাম্মদ: দা নিয়া আমুনে।

রিফাত: আচ্ছা।

মোহাম্মদ: হকিস্টিক দিয়া আমি খেলি ভাই:

রিফাত: ওহ! বাট আজ লাগবে কিন্তু:

মোহাম্মদ: হুম! বুঝি তো ভাই, মুই একটু পরে আইতেছি।

রিফাত: আচ্ছা।

রিফাত আবার বলে: 007- এর আর গুলা কই?
জানা যায়, ‘007’ নামের গ্রুপটি চালান নয়ন বন্ড। এই গ্রুপে নয়নের প্রধান সহযোগী হলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে রিফাত ফরাজী।

এলাকাবাসী বলছে, নয়নের গড়া বন্ড গ্যাংরা শহরের কলেজ রোড, ডিকেপি, দীঘির পাড়, কেজিস্কুল ও ধানসিঁড়ি এলাকায় নানা ধরনের অপরাধ চালিয়ে আসছিল। ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারতো না।

জানা যায়, নয়ন নিজেকে জেমস বন্ড ভাবতে ভালোবাসেন। তাই তিনি নিজের নাম দিয়েছেন নয়ন বন্ড। তার মোটরসাইকেল, বাড়ির দেয়ালে লেখা রয়েছে 007 কোডটি।

বরগুনা সদর থানার ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেন জানান, নয়নের বিরুদ্ধে মাদক কেনাবেচা, ছিনতাই, হামলা, সন্ত্রাসী কাজসহ নানা অভিযোগে মামলা রয়েছে।

ফেসবুক মেসেঞ্জারের কথোপকথনের বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, মেসেঞ্জারের বিষয়টা ঠিক আছে। তবে তদন্তের স্বার্থে গ্রুপ নিয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে চাই না। এ ঘটনায় জড়িতদের শিগগিরই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। তদন্ত এগিয়ে চলছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা জেলা শহরের কলেজ রোডে রিফাতকে স্ত্রীর সামনেই রামদা দিয়ে কোপায় সন্ত্রাসীরা। আর তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি স্বামীকে বাঁচানোর জন্য হামলাকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের কোনোভাবেই থামাতে পারেননি তিনি। সন্ত্রাসীরা রিফাতকে কুপিয়ে চলে যাওয়ার পর তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।


এই ধরনের আরও সংবাদ

পুরাতন সব সংবাদ

SatSunMonTueWedThuFri
15161718192021
22232425262728
293031    
       
     12
10111213141516
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728     
       
      1
16171819202122
23242526272829
3031     
   1234
       
  12345
27282930   
       
29      
       
1234567
2930     
       

বিজ্ঞাপন