• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ১২:৪৩ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]

আমের বাগান করে সফল আজিজুল

বিডি নিউজ বুক ডেস্ক: / ৪৪ বার পঠিত
আপডেট : রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০

বিকাল চন্দ্র প্রাং- :: নওগাঁ ::

বারোমাসি কার্টিমন আমের বাগান করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আজিজুল হক। আর সেই স্বপ্নকে তিনি বাস্তবে রুপান্তর করতেই রাত দিন কাজ করে যাচ্ছেন। গড়ে তুলেছেন মনোমুগ্ধকর একটি আম বাগান। আর গাছে গাছে আমের সমারহ। নতুন জাতের এই আমের ভরে নুইয়ে পড়েছে গাছ।

মাত্র ১০মাস বয়েসেই এসেছে ফলন। এরই মাঝে তিনি দুই দফা আম বিক্রি করেছেন। পেশায় ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আজিজুল হকের বাড়ি নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার ইশ্বরলক্ষীপুর গ্রামে। গ্রামের পাশে ছোট একটি বাজার পাঁঠাকাটা। সেই বাজারেই গড়ে তুলেছেন তার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, রড, সিমেন্ট, লোহা ও টিনের দোকান। ব্যবসা ভাল চললেও মন বসতো আজিজুলের। দোকান ছেলের হাতে দিয়ে অনেক চিন্তা-ভাবনা করে বারোমাসি কার্টিমন আমের বাগান করেন। বাগানে ১০ মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করে সফলতা তার হাতে এসে ধরা দিয়েছে। তিনি এখন একজন সফল বারোমাসি আম চাষি হিসেবে এলাকায় পরিচিত।

আজিজুল হক জানান, দীর্ঘদিন থেকে আমের বাগান করার জন্য স্বপ্ন দেখতেন। সেই ভাবনা থেকেই করেন আমের বাগান। বাড়ির পাশে প্রসাদপুর মাঠে আড়াই বিঘা জমিতে ৫১৪টি আমের চারা রোপন করেন। জমি প্রস্তুত করা, চারা লাগানো ও জমির চারপাশে বেড়া দেয়াসহ খরচ হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা। পরবর্তীতে মানুষ ও গরু-ছাগল থেকে ফসল রক্ষা করতে জিআই তারের বেড়া দেওয়ায় অতিরিক্ত আরো ৫০ হাজার টাকা বেশি গুনতে হয়েছে।

তিনি জানান, পাশের গ্রামের এক নার্সারি মালিক চুয়াডাঙ্গা থেকে মাতৃগাছ নিয়ে আসেন। সেখান থেকে ১১০ টাকা পিচ চারা সংগ্রহ করেন । দশ মাস বয়েসে প্রতিটি গাছে সর্বোচ্চ ৩ থেকে ১০টা পর্যন্ত আম ধরেছে। গত বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে আমের গুটি একটু কম এসেছে। তবে কৃষি অফিসের পরামর্শে তিনি গাছে ওষুধ স্প্রে করছেন।

তিনি আরও জানান, চলতি বছরের শুরুর দিকে বাগান করে প্রথম বার ১০মাস বয়সে ৩শ টাকা কেজি দরে কিছু আম বিক্রিয় করেছেন। গত মঙ্গলবার দ্বিতীয় বার ৪০ কেজি আম বিক্রিয় করেন। প্রতি মন আমের মুল্য ১২ হাজার টাকা। ১৫-২০ দিন পরে আরো প্রায় ২০ কেজি আম বিক্রি হবে হলে আশা করছেন। দুই বছরের মধ্য আম বাগানের সম্পূর্ণ খরচ উঠে আসবে। দুই বছর পরে তেমন কোন খরচ হবে না। একটি আম গাছ ২০ বছর পর্যন্ত ফল দিবে। প্রতিটি গাছেই কম বেশি আম ধরছে। অনেক গাছে নতুন করে মুকুল আসছে। কোন কোন গাছে আবার মুকুল থেকে আমের গুটিও দেখা দিয়েছে। সেই আম আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে। এখন আজিজুল হকের চোখে সফলতার রঙিন স্বপ্ন। সাধারনত অষ্ট্রেলিয়া ভারতসহ বেশ কিছু দেশে বারোমাসি আমের চাষ হলেও বাংলাদেশ অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে।

লেখাপড়া শেষে শুরু করেন ধান চালের ব্যবসা। কিন্তু ধান চালের ব্যবসা থেকে খুব বেশী মুনাফা আসতো না। কয়েক বছরেই বুঝতে পারেন ধান চালের ব্যবসা করে তার স্বপ্ন পুরুন হবে না। তবে কৃষি কাজ দিয়েই নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারবেন-এমন বিশ্বাস ছিল তার। এক পর্যায়ে ধান চালের ব্যবসা বাদ দিয়ে ফুল ও সবজির চাষ শুরু করেন। ফুল ও সবজি চাষে কাক্সিখত মুনাফা পেয়েছিলেন। এতে তার মনে আত্মতৃপ্তি আসে না। এরপর রড, সিমেন্ট, লোহা ও টিনের দোকান করেন। তাতে তার মন ভরে না। আজিজুল এরপর শুরু করেন বারোমাসি আম চাষ। এখন তিনি সফল। তার রঙ্গীন স্বপ্ন বাস্তবে এসে ধরা দিয়েছে। এখন তিনি আম বাগান বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছেন। আগামিতে ১০ বিঘা জমিতে আম বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

স্থানীয় কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, সারা বছর আম পাওয়া যাবে। আমি কখনো কল্পানা করিনি। আমি আজিজুল হকের বারোমাসি কার্টিমন আম বাগান দেখে খুশি হয়েছি। এখন আমিও মনে মনে ভাবছি বারোমাসি আমের বাগান করবো। নার্সারি মালিকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা আমাকে চারা দিতে চেয়েছেন। আমার মতো এলাকার অনেক কৃষক এই বারোমাসি আমের বাগান করতে আগ্রহ প্রকাশ করছে।

শিক্ষিত যুবক শহীদ বলেন, আজিজুল হকের বারোমাসি কার্টিমন আমের বাগানের মাধ্যমে আমরা ফরমালিনমুক্ত সু-স্বদু আম খেতে পারছি। আমিও তার দেখে বারোমাসি আমের বাগান করতে চাচ্ছি। তার বারোমাসি আম চাষে আমি উদ্বুদ্ধ হয়েছি। চারা নিয়ে আমিও চাষ শুরু করব ভাবছি। চারার জন্য অর্ডার দিয়েছি।

মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায় বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে কি ভাবে ফল নির্ভর করা যায় সেই পরিকল্পনায় কাজ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। বিভিন্ন ভাবে ফলমুল চাষ করে ভাতের ওপর থেকে চাপ কমাতে হবে। আমের ভরা মৌসুমে চাষিরা দাম পান না। কারন এ সময় আম একসাথে বাজারে ওঠে। কৃষি বিভাগ থেকে নতুন জাত বারোমাসি কার্টিমন স¤প্রসারণ করা হচ্ছে।


এই ধরনের আরও সংবাদ

পুরাতন সব সংবাদ

SatSunMonTueWedThuFri
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
     12
10111213141516
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728     
       
      1
16171819202122
23242526272829
3031     
   1234
       
  12345
27282930   
       
29      
       
1234567
2930     
       

বিজ্ঞাপন