• ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]

লেবুর ভালো দাম পাওয়া টাঙ্গাইলের লেবু চাষীরা খুশি

টাঙ্গাইল, প্রতিনিধি / ৪৪ বার পঠিত
আপডেট : শনিবার, ১ মে, ২০২১

বাজারে লেবুর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় টাঙ্গাইলের সখীপুরের লেবু চাষীদের মুখে হাসি দেখা দিয়েছে। উপজেলার শতাধিক লেবুচাষী এবার লেবু বিক্রি করে বেশ লাভবান হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সখীপুরে এবার ১৩০ হেক্টর জমিতে লেবুর চাষ হয়েছে। উপজেলার শতাধিক ব্যক্তি বাণিজ্যিকভাবে লেবু চাষ করেছেন। উপজেলার গজারিয়া, কাঁকড়াজান, বহুরিয়া, হাতীবান্ধা, যাদবপুর, দাঁড়িয়াপুর ও কালিয়া ইউনিয়নে লেবু চাষ বেশি হয়েছে।

গজারিয়া গ্রামের মোসলেম, কালিয়ানপাড়ার মারফত আলী, আবদুস সামাদ, জামাল উদ্দিন, শামীম আল মামুন, আলাল উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন, বোখারী, শামসু, জাহাঙ্গীর আলম, রফিকুল ইসলাম, কচুয়া গ্রামের মাইনুল ইসলাম, মহানন্দপুর গ্রামের আবদুল মতিন উল্লেখ্যযোগ্য লেবু চাষী।

গজারিয়া গ্রামের লেবু চাষী মোসলেম উদ্দিন বলেন, তিনি চার একর জমিতে লেবু চাষ করেছেন। প্রতি একরে সাধারণত ৩০০ থেকে ৩৫০টি চারা রোপণ করা হয়। খরচ পড়ে প্রতি একরে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। চারা রোপণের তিন বছর পর সাধারণত লেবু বিক্রি শুরু হয়। এবার মার্চ মাসে প্রতি বস্তা লেবু (১২০ কেজি) পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। এখন কিছুটা দাম কমার কারাণে খুচরা বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা হালি।তিনি বলেন, তিনি এবার ১০ লাখ টাকার লেবু বিক্রি করেছেন। আগামী এক মাসে আরও ৫ লাখ টাকার বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন।

কালিয়ানপাড়া গ্রামের লেবু চাষী মারফত আলী দুই একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে লেবু চাষ করেছেন। তার তিনটি বাগান। চার বছর ধরে তিনি লেবু বিক্রি করছেন। দুই বছর আগে তেমন দাম পাননি। গত বছর ও চলতি বছর করোনাভাইরাস এবং রমজানের কারণে লেবুর চাহিদা বাড়ায় এবার ৫ লাখ টাকার লেবু বিক্রি করেছেন। মারফত আলী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে লেবু বিক্রিতে দ্বিগুণ মূল্য পেয়েছি। লেবুর কলম করে চারা বিক্রি করেও প্রচুর আয় হয়েছে। এবার ১২ হাজার কলমের চারা বিক্রি করে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা পেয়েছি।

কচুয়া গ্রামের মাইনুল ইসলাম বলেন, তিন বছর ধরে উপজেলার কচুয়া এলাকায় পাকা সড়কের ধারে দেড় একর জমিতে লেবু চাষ করেছেন। এবার খরচ বাদে তিনি দেড় লাখ টাকা আয় করেছেন। এ বছর বাগান আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে তার। সারা দেশে লেবুর ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। গাজীপুর থেকে আসা লেবুর পাইকারি ক্রেতা আবদুল খালেক। তিনি বলেন, সখীপুরের বিভিন্ন বাগান থেকে লেবু কিনে ট্রাকে করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠান। এবার লেবুর দাম ভালো থাকায় ব্যবসাও বেশ ভালো হচ্ছে।

এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ওবায়দুল হক খান বলেন, এবার লেবু চাষে ৫ লাখ টাকা লাভ করেছেন এ রকম চাষির সংখ্যা উপজেলায় কমপক্ষে ২৫ জন। করোনায় বিশ্ব অর্থনীতি চাপের মুখে পড়লেও লেবুচাষিরা দ্বিগুণ মূল্য পাওয়ায় তারা খুশি। অবশ্য এক মাসে লেবুর দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে।

উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, লেবুতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ আছে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় বলে করোনাকালে সবাই লেবু খাচ্ছেন। ফলে অন্য সব বছরের তুলনায় দুই বছর ধরে লেবুর চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে। এতে সখীপুরের শতাধিক চাষি লেবু বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন।

সখীপুরের মাটি লেবু, মাল্টা ও কমলা চাষের জন্য খুবই উপযোগী বলে জানান, সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, চাষিদের প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। ফলে চাষিরা লেবু চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। ফলন বেশি হওয়ায় ও ভালো দাম পাওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।

 


এই ধরনের আরও সংবাদ

পুরাতন সব সংবাদ

SatSunMonTueWedThuFri
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31      
   1234
2627282930  
       
     12
10111213141516
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728     
       
      1
16171819202122
23242526272829
3031     
   1234
       
  12345
27282930   
       
29      
       
1234567
2930     
       

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!