• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ১৮ জুলাই ২০২১, ০৭:০৭ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]

হস্তান্তরের আগেই ভূঞাপুর শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের প্যাভিলিয়ন ভবনে ফাটল

বিডি নিউজ বুক ডেস্ক: / ৯১ বার পঠিত
আপডেট : রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০

:: টাঙ্গাইল ::

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে নবনির্মিত শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম হস্তান্তরের কাজ শেষ না হতেই প্যাভিলিয়ন ভবনটির বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। এছাড়াও খসে পড়ছে প্লাস্টার। এমনকি মাঠের চারিদিকে দর্শকদের জন্য বসানো অধিকাংশ বেঞ্চগুলো ভেঙ্গে পড়েছে। বৃষ্টির পানিতে ধসে গেছে মাঠের মাটিও।

ফলে সেখানে কোন ধরনের খেলাধুলা করতে পারছে না স্থানীয় খেলোয়ারগণ। সরেজমিনে দেখা গেছে এমন চিত্র।
জানা গেছে, দেশের ১৩১টি উপজেলায় খেলাধুলার মান-উন্নয়নের জন্য সরকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্টপুত্র শেখ রাসেলের নামে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ শুরু করে। এরমধ্যে টাঙ্গাইলের ৭টি উপজেলায় এই মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়। ৪১ লাখ টাকা ব্যয় নির্মিত স্টেডিয়ামটি নির্মাণের কাজ করেছে ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আকতার এন্টারপ্রাইজ ও ফোর সাইট কোম্পানী নামের দুইটি জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানী।

স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য বরাদ্দ হয় একতলার প্যাভিলিয়ন ভবন, পাবলিক টয়লেট, আধুনিক ফুটবল গোলপোস্ট, মাঠে মাটি ভরাট ও মাঠের চারিদিকে দর্শকদের বসার জন্য ইট ও সিমেন্ট দিয়ে বেঞ্চ তৈরি।
তবে জেলার ভূঞাপুর উপজেলার শিয়ালকোল এলাকায় নির্মিত মিনি স্টেডিয়ামটির নির্মাণে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। স্টেডিয়ামটি নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতেই এটির একতলা বিশিষ্ট প্যাভিলিয়ন ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়াও খসে পড়ছে প্লাস্টার। এদিকে ভূঞাপুর পৌরসভার শিয়ালকোল হাট সংলগ্ন এলাকার যেখানে স্টেডিয়াম নির্মিত হয়েছে পূর্বে সেখানে হেলিকপ্টার উঠা-নামার জন্য হেলিপ্যাড ছিল। ফলে সেই মাঠের জায়গাটা অনেক উঁচুু। এছাড়াও প্রায় ৭০ হাজার ইট দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল ওই হেলিপ্যাডটি।

হেলিপ্যাডের ইটগুলোও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সাবেক খেলোয়ার লিপটন, মাসুদ, আশিক, অনিক, শাওনসহ অনেকেই বলেন, মাঠটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেখানে খেলাধুলার কোন পরিবেশ নেই। স্থানীয় যুবকরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় অনেকেই নেশার জগতে জড়িয়ে পড়েছে।

শিয়ালকোল এলাকার দিপালী স্পোটিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আক্তারুজ্জামান খান (দিপালী) বলেন, শিয়ালকোলের হেলিপ্যাড মাঠে শেখ রাসেলের নামে নির্মাণ হয়েছে একটি মিনি স্টেডিয়াম। তবে স্টেডিয়ামটি নির্মাণে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজ হওয়ায় এটির নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই ফাটল ও প্লাস্টার খসে পড়ছে। এছাড়া মাঠকে খেলার উপযোগী না করায় এর মাটি বৃষ্টির পানিতে ধসে যাচ্ছে। ভেঙে গেছে ইট ও সিমেন্ট দিয়ে তৈরি করা বেঞ্চগুলো। নির্মাণ কাজ আর হস্তান্তরের অজুহাতে প্রায় ২ বছর ধরে খেলাধুলার অনুপযোগী রাখা হয়েছে মাঠটিকে। এ কারণে খেলাধুলা বঞ্চিত স্থানীয় যুবকরা নেশার জগতে জড়িয়ে পরার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, নির্মিত স্টেডিয়ামটির স্থানে থাকা হেলিপ্যাডটি ৭০ হাজার ইট দিয়ে তৈরি হয়েছিল। সেখানে যে ইট ছিল সেগুলো ঠিকাদার বিক্রি করেছে। এছাড়া মাঠে মাটি ভরাটতো দুরের কথা উল্টো হেলিপ্যাডের মাটিই বিক্রি করেছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আক্তার এন্টারপ্রাইজের সাইট ম্যানেজার শামছুল হক সবুজ বলেন, ২০১৭ সালে টেন্ডারের মাধ্যমে ভূঞাপুর উপজেলার শিয়ালকোল এলাকার শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ পায় আক্তার এন্টারপ্রাইজ ও ফোর সাইট কোম্পানি। গত ২০১৯ সালে এটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এরপরও নানা কারণে নির্মিত স্টেডিয়ামটি হস্তান্তর করা যায়নি।

বর্তমানে স্টেডিয়ামটির আবার সংস্কারের সময় হয়েছে। এ কারণে বিল্ডিংয়ের কিছু কিছু অংশে ফাটল, প্লাস্টার উঠে যাচ্ছে এবং মাঠের চারিদিকে বসানো চেয়ারগুলো ভেঙে পড়েছে। এছাড়া মাটি ধসে গেছে বলে জেনেছি। অতিদ্রুতই সংস্কার কাজ শেষ করে স্টেডিয়ামটি স্থানীয় ইউএনও’র কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. নাসরীন পারভীন বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান থেকে নবনির্মিত স্টেডিয়ামটি বুঝে নেয়ার বিষয়ে আমাদের চিঠি দেয়া হয়নি। এছাড়াও, বুঝে নেয়ার আগে স্টেডিয়ামটি ঠিক ভাবে নির্মিত হয়েছে কিনা বিষয়টি দেখার আছে। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান থেকে উপজেলা প্রশাসনের কাছে কেউ আসেননি বলে জানান তিনি।


এই ধরনের আরও সংবাদ

পুরাতন সব সংবাদ

SatSunMonTueWedThuFri
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31      
   1234
2627282930  
       
     12
10111213141516
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728     
       
      1
16171819202122
23242526272829
3031     
   1234
       
  12345
27282930   
       
29      
       
1234567
2930     
       

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!