• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]

করোনা সংক্রমণ বাড়ায় নওগাঁ-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে প্রশাসন

বিকাশ চন্দ্র প্রাং, নওগাঁ / ১২ বার পঠিত
আপডেট : সোমবার, ৩১ মে, ২০২১

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ বাড়ার কারণে ভারতের সীমান্তবর্তী সাত জেলায় লকডাউনের সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটি। এই জেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নওগাঁ। ইতিমধ্যেই এই জেলাকে অতি ঝুঁকিপূর্ন হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই নওগাঁ বর্তমানে লকডাউনের পথে। যদি লকডাউন দেওয়া না হয় তাহলে ভারতীয় সীমান্তবরর্তী ও চাপাইনবাবগঞ্জের কাছের এই জেলাতে করোনা সংক্রমনের হার আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নওগাঁয় গত ঈদুল ফিতরের পর থেকে করোনা সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। জেলার নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহার, পত্নীতলা, ধামইরহাট উপজেলার সঙ্গে ভারতীয় সীমান্ত হয়েছে। এছাড়াও নিয়ামতপুর উপজেলার সঙ্গে মহাসড়কের সংযোগ রয়েছে উচ্চ সংক্রমনের জেলা চাপাইনবাবগঞ্জের। চাপাইনবাবগঞ্জের সঙ্গে যুক্ত নিয়ামতপুর উপজেলায় ইতিমধ্যেই সংক্রমনের হার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এই উপজেলার একটি গ্রামকে লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে। এছাড়াও চাপাইনবাবগঞ্জের সঙ্গে যুক্ত সকল মহাসড়ক ও সড়কে কঠোর নজরদারীর মধ্যে রেখেছে পুলিশ প্রশাসন। ইতিমধ্যেই চাপাইয়ের সঙ্গে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে শুধুমাত্র পন্যবাহী যানবাহন বাদে। চাপাইকে লকডাউন ঘোষনা করা হলেও বাদ রাখা হয়েছে নওগাঁকে।

সিভিল সার্জন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় গত বছরের ১৩মে জেলার রাণীনগর উপজেলাতে প্রথম একজনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। সেই সময় থেকে গত ২৯মে শনিবার পর্যন্ত ১৫ হাজার ২৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২হাজার ২১৫জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এই হিসাবে জেলায় এ পর্যন্ত সংক্রমণের হার ১৪দশমিক ৫১ শতাংশ। তবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর থেকে নওগাঁয় করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে চলেছে। গত ২০ মে থেকে গত রবিবার পর্যন্ত ৯ দিনে ৩৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১০০জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ ১০ দিনে সংক্রমণের হার ২৬ দশমিক ৮০ শতাংশ। আর সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত চার দিনে ১১৩টি নমুনা পরীক্ষায় ৪৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এই হিসাবে চার দিনে করোনা শনাক্তের হার ৩৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। শনাক্তের তুলনায় মৃতের হার ১ দশমিক ৮০ শতাংশ। গত ১০দিনে নওগাঁয় করোনা শনাক্তের হার ২৫দশমিক ৯১শতাংশ। এ পর্যন্ত জেলায় করোনা ভাইরাসে মৃত্যুবরন করেছেন ৪০ব্যক্তি।

নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা: এবিএম আবু হানিফ বলেন, নওগাঁতে ঈদুল ফিতরের পর সংক্রমণ বেড়ে গেছে। করোনা শনাক্তের হার প্রতি দিনই বাড়ছে। এর মধ্যে শুধু মাত্র গত বৃহস্পতিবার শতকরা ৫৭ শতাংশ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন যা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। এই অবস্থায় আমরা অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ওপর বেশি জোর দিচ্ছি। মানুষকে মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের উদ্যোগে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জেলায় সংক্রমনের হার কমাতে হলে মানুষের চলাচলকে কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এছাড়াও সংক্রমনের হার কমাতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। নওগাঁর পার্শ্ববর্তী বেশ কিছু ভারতীয় সীমান্তবর্তী উপজেলা রয়েছে। তারপরেও এখন পর্যন্ত নওগাঁয় কারও দেহে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়নি।

তাই দ্রুত যদি নওগাঁকে লকডাউন ঘোষনা করা না হয় তাহলে আগামীতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ার আতঙ্কে রয়েছে জেলাবাসী।


এই ধরনের আরও সংবাদ

পুরাতন সব সংবাদ

SatSunMonTueWedThuFri
   1234
12131415161718
19202122232425
2627282930  
       
     12
10111213141516
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728     
       
      1
16171819202122
23242526272829
3031     
   1234
       
  12345
27282930   
       
29      
       
1234567
2930     
       

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!