• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]

করোনার ঝুঁকি নিয়েই কেনা-কাটায় ব্যস্ত ধনবাড়ীবাসী

মো. ইউনুস, বিশেষ প্রতিনিধি / ১০০ বার পঠিত
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৩ মে, ২০২১

‘‘রাত পোহালেই আগামীকাল পবিত্র-ঈদুল ফিতর।’’ ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে কার না ভালো লাগে? যদি ঈদের আনন্দটা নতুন কাপড়-চোপড়ের সাথে হয় তাহলে তো আর কথাই নেই। ঈদকে সামনে রেখে নতুন-নতুন পছন্দের কাপড়-চোপড় কেনার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সবাই। হাতে সময় নেই বললেই চলে। কিনতে হবে পছন্দের কাপড়-চোপড়সহ অন্যান্য ঈদ সামগ্রী। এক দোকান থেকে অন্য দোকানে। ‘এমন চিত্রই চোখে পড়ছে টাঙ্গালের ধনবাড়ীর বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে।’ কিন্তু বিশ্ব প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের কারণে আজ পুরো বিশ্ব থমকে গিয়েছে। করোনায় প্রতিদিনই বিশ্বে কেড়ে নিচ্ছে হাজার-হাজার লোকের প্রাণ। বাংলাদেশেও করোনার এর প্রভাব কম নয়। করোনার হাত থেকে রক্ষা পেতে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। জরুরী সেবার পাশাপাশি সরকার সর্তসাপেক্ষে খুলে দিয়েছেন মার্কেট ও শপিংমলগুলো।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (১৩ মে) ধনবাড়ীর বিভিন্ন মার্কেট, শপিংমল ও ফুটপাত ঘুরে দেখা যায়, উপজেলাবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তারা কেনা-কাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকে কেনা-কাটা করতে পুরো পরিবার নিয়েই চলে এসেছেন। আবার অনেকের সাথে রয়েছে ছোট-ছোট শিশু। স্বাস্থ্যবিধি তো দূরের কথা মুখে মাস্কও নেই। গাদাগাদি করে ঈদ সামগ্রী কিনতে দেখা যায়।

করোনার নিরাপত্তার জন্য মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে ব্যবস্থা করা হয়নি হ্যান্ড স্যানিটাইজেশনের। প্রতিষ্ঠানে নেই সর্তককরণ বিজ্ঞপ্তি। করেনাভাইরাসকে তারা কোন প্রকারই তোয়াক্কা করছেন না। এদিকে প্রশাসনের নেই কোন নড়জদারি।
ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে নতুন-নতুন ডিজাইনের নানা পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন ধনবাড়ীর বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলের বিক্রেতারা। মেয়েদের থ্রি-পিস কেনার পাশাপাশি অনেকেই কিনছেন পছন্দে শাড়ী, গহনা ও নানা প্রসাধনী। ছোটদের কেনা-কাটায়ও পিছিয়ে নেই অভিভাবকরা। ঈদে স্মার্টফোন কেনারও চাহিদা কিছুটা বেড়েছে দোকানগুলোতে।

বিক্রেতারা বলছেন, ‘‘লকডাউনের কারণে রোজার শুরুতে মার্কেট বন্ধ ছিলো। মার্কেট খোলার অনুমতি পাওয়ার পর প্রথম দিকে বিক্রি কম ছিলো। কিন্তু শেষ দিকে এসে ক্রেতারা পুরোদমে ক্রয় করতে শুরু করেছেন। যেন দম ফেলানোর সময় নেই তাদের।’’

‘‘কলেজ ছাত্রী লাবণী আক্তার জানান, ঈদের কাপড় কিনতে বান্ধিবীকে সাথে নিয়ে এসেছি। দু’জনে মিলেই পছন্দ করে কিনবো। ঈদের কেনা-কাটা করতে আসা রিয়া মণি ও নাদিয়া এবং আঁখি আক্তার জানান, আগামীকাল ঈদ। আজাই কেনা-কাটার শেষ দিন। তাই দীর্ঘ সময় নিয়ে বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমল ঘুরে-ঘুরে পছন্দের কাপড়, থ্রি পিস (ওয়ান পিস) কিনলাম। এখন শুধু প্রসাধনী কেনার বাকী আছে। সাইফুল ইসলাম, হেলাল মিয়া জানান, শার্ট ও জিন্স প্যান্ট কিনেছি। বাব-মা ও ছোট ভাইয়ের জন্যও কেনা-কাটা করলাম। সবাই মিলে যেন আনন্দে ঈদ উৎযাপন করতে পারি।’’

‘‘ক্যামেলিয়া টাওয়ারের কুয়াশা ফেব্রিক্সের মালিক মো. মিলটন মিয়া জানান, লকডাউন থাকার কারণে দোকানে বিক্রি কম। বিক্রির জন্য যে সকল পন্য উঠেয়েছি তার অর্ধেক পন্যও এবার বিক্রি করতে পারবো না।’’

‘‘অপরদিকে কসমেটিকস এর মালিকরা বলেছেন, ঈদের আগে কিছুটা বিক্রি বেড়েছে। তবে চাহিদা মতো বিক্রি করতে পারছি না। বিভিন্ন জুতার দোকান ঘুরেও দেখা গেছে এমন চিত্র। অপর ব্যবসায়ী আমজাত হোসেন বলেন, যেখানে প্রয়োজন একজনের সেখানে তারা পুরো পরিবার নিয়ে এসেছে। তাদেও মধ্যে যেন করোনার কোন ভয় নেই।’’

করোনা সচেতনের জন্য উপজেলা প্রশাসন বলছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার আগেই ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের বিভিন্ন মাধ্যমে জানানো হয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেন করোনার নিরাপত্তায় সকল স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়। ‘‘এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের পর বাংলাদেশে করোনার ভয়াবহতা বাড়বে।’’

ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় এ পর্যন্ত ১৮১ জন করোনায় আন্ত্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের।


এই ধরনের আরও সংবাদ

পুরাতন সব সংবাদ

SatSunMonTueWedThuFri
   1234
12131415161718
19202122232425
2627282930  
       
     12
10111213141516
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728     
       
      1
16171819202122
23242526272829
3031     
   1234
       
  12345
27282930   
       
29      
       
1234567
2930     
       

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!