• ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]

মধুপুরে ‘জলডুগি’ আনারস চাষে সফল ছানোয়ার

বিডি নিউজ বুক ডেস্ক: / ৩৬৬ বার পঠিত
আপডেট : সোমবার, ১ জুলাই, ২০১৯

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি::

টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ের ‘হানিকুইন’খ্যাত আনারস পুরোপুরি না পাকলেও, গত রমজান থেকেই বাজারে এর বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। তখন থেকেই এলাকার বাজার দখলে রেখেছে ‘জলডুগি’ আনারস।
মধুপুরে সাধারণত ‘ক্যালেন্ডার’ জাতের আনারসের চাষ হয়। ২০১৪-১৫ সালের দিকে এলাকার কিছু চাষি ‘জলডুগি’র আবাদ শুরু করেন। বান্দরবানসহ পার্বত্য অঞ্চল থেকে এসব চারা নিয়ে আসা হয়। ‘জলডুগি’র বিশেষত্ব হলো- এটি আকারে ছোট, কিন্তু স্বাদে মিষ্টি, গন্ধেও চমৎকার। মধুপুরের প্রচলিত আনারসের চেয়ে ফলন আসে দ্রুত। ক্ষেতের সব আনারস পাকেও প্রায় একসঙ্গেই। ফলে চাষিরা সেগুলো এক সঙ্গে বাজারে তুলতে পারেন।

এ আনারস পাকলে হলুদ ও লালচে রং ধারণ করে। আকর্ষণীয় রংয়ের কারণে ক্রেতাদের কাছে জলডুগির চাহিদা বেশ। বিক্রি হয় সহজেই। আর মৌসুম শুরুর আগে বাজারে তুললে আরও বেশি দাম পাওয়া যায়। এ কারণে এলাকার বেশির ভাগ চাষি এখন জলডুগি আনারস চাষের দিকেই ঝুঁকছেন।

এদিকে অধিক মুনাফার আশায় মধুপুরের আনারসে বেশ কয়েক বছর ধরে যেভাবে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার শুরু হয়েছে, ভাবা হয়েছিল, জলডুগির চাষ বাড়লে চাষিরা সেখান থেকে সরে আসবেন। কিন্তু, বেশিরভাগ চাষি এখনো সেই একই পথে হাঁটছেন।

তবে কেউ কেউ যে ব্যতিক্রম নন, এমন নয়। অনেকেই আছেন যাদের কথা- যেটা নিজেরা খেতে পারব না, তা অন্যকেও খাওয়াবো না। বেশ ভাগ চাষি বিষমুক্ত আনারসসহ কয়েক ধরনের ফসল চাষ করছেন। মধুপুর উপজেলা মহিষমারা ইউনিয়নের মহিষমারা গ্রামের ছানোয়ার হোসেন তাদের মধ্যে অন্যতম। বহুমাত্রিক ফসল চাষের ক্ষেত্রে তাকে আদর্শ মানেন অনেক কৃষক। ৯০ দশকে তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন করা ছানোয়ার নিজেকে কৃষক পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তার জমিতে চাষ হয় উন্নত জাতের প্রচলিত ফল-ফসল থেকে শুরু করে দুর্লভ ফল, ওষধি গাছ, এমনকি উন্নত মানের কফিও।

তিনি জানান, বাগানে দামি অ্যারাবিকা ও রুবাস্তা নামে দু’টি জাতের কফির চার শতাধিক চারা লাগিয়ে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন। অতিরিক্ত রাসায়নিক বা হরমোন প্রয়োগ না করে ক্যালেন্ডারের সঙ্গে জলডুগির আবাদ করেছেন এবার। ওই বাগানেই লাগিয়েছেন ড্রাগন ফলের গাছ। সঙ্গে আছে মাল্টাও।

সরেজমিনে ছানোয়ার হোসেন তার জলডুগি আনারসের ক্ষেত ঘুরিয়ে দেখান। দেখান বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছও। পাশাপাশি, অতিরিক্ত রাসায়নিক বা হরমোন মিশ্রিত ও রাসায়নিক ছাড়া আনারসের পার্থক্য বুঝিয়ে দেন তিনি । জানান, কিছুদিন আগে তার দুর্লভ ফল-ফসলের আবাদ দেখতে এসেছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

ছানোয়ার হোসেন বলেন, রাসায়নিক দেওয়া আনারস বাইরে থেকে হলুদ রং ধারণ করবে। তবে, তা খেতে সুস্বাদু হবে না, ঘ্রাণও পাওয়া যাবে না। কিন্তু, ভোক্তারা এসব বিবেচনা করেন না। তারা চটকদার রঙে আকৃষ্ট হয়ে প্রতারিত হন।

তিনি আরো বলেন, আকারে ছোট, সবুজ রং দেখে আনারস কেনা উচিৎ। যে আনারস আকারে বেশি বড় ও রঙে আকর্ষণীয়, তাতে তত বেশি রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে। খাওয়ার জন্য ওই আনারস বিপজ্জনক। শুধু আনারসই নয়, সব ফলের বেলায় একই অবস্থা ও শর্ত প্রযোজ্য।

ছানোয়ার বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই মধুপুরে জলডুগির চাষ হচ্ছে। আমিও বছর দুই ধরে এ জাতের আনারস চাষ করছি। রাসায়নিক বা হরমোন প্রয়োগ না করায় প্রথম দিকে বাজার ধরা কষ্ট হতো। তবুও ওসব ছাড়াই চাষ করেছি। এখন অনলাইনে, মোবাইলেই আনারস সরবরাহের অর্ডার পাই। ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বাগান থেকেও বিক্রি হয়ে যায়। তিনি বলেন, এলাকার বড়-বড় চাষিরা নিজের বাগানের আনারস পরিবারের সদস্যদের খেতে না দিয়ে, আমার বাগান থেকে নিয়ে খাওয়ান। এতেই আমার তৃপ্তি।

ছানোয়ার হোসেনের বিশ্বাস, মধুপুরে আনারসের ঐতিহ্য ফিরবেই। ভালো যেকোনো কিছুর মূল্যায়ন একদিন না একদিন হবেই। রাজধানীর একটি প্রতিষ্ঠান আমার বাগান থেকে আনারস, ড্রাগনসহ বিভিন্ন ফল-ফসল কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, হরমোন পরিমাণমতো ব্যবহার করলে আনারসে খাদ্যমানের কোনো হেরফের হয় না। কিন্তু লোভের বশে বা অসচেতনতায় অনেকেই এটা অতিরিক্ত ব্যবহার করেন। মধুপুরের আনারস চাষিদের মধ্যে রাসায়নিক নির্ভরতা অনেক কমে গেছে। আনারস বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় কৃষকদের তালিকা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আনারসের হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসবে, আশা করি।


এই ধরনের আরও সংবাদ

পুরাতন সব সংবাদ

SatSunMonTueWedThuFri
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
     12
10111213141516
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728     
       
      1
16171819202122
23242526272829
3031     
   1234
       
  12345
27282930   
       
29      
       
1234567
2930     
       

বিজ্ঞাপন