• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে মাটির ঘর

মো. ইউনুস, বিশেষ প্রতিনিধি / ৬৫ বার পঠিত
আপডেট : শুক্রবার, ৭ মে, ২০২১
হারিয়ে যাচ্ছে মাটির ঘর

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় এক সময় মানুষের মৌলিক চাহিদার অত্যতম বাসস্থান হিসাবে মাটির তৈরী টালি ঘরের ব্যাপক প্রচলন ছিল। উপজেলার বানিয়াজান, যদুনাথপুর, পাইস্কা, বীরতারা, ধোপাখালী, মুশুদ্দি ও বলিভদ্রসহ প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই চোখে পড়ত মাটির তৈরী ঘর। কিন্তু এখন আর এগুলো চোখে পড়ে না।

যুগের পরিবর্তনের সাথে শহরের পাশাপশি গ্রামের মানুষের রুচিরও পরিবর্তন হয়েছে। জীবন-যাত্রার মান উন্নয়ন আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রাম থেকে হারিয়ে গেছে এ মাটির ঘর। আড়াই থেকে তিন যুগ আগেও গ্রামে ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ ঘর ছিল মাটির। বসবাসের জন্য প্রাচীন মাটির ঘর ব্যবহার হতো। শীতকালে যেমন গরম অনুভব হতো তেমনি গ্রীষ্মকালেও মাটির ঘরে থাকতো শীতল অনভূতি। যা বর্তমানে যুগের শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের মতোই আরামদায়ক।

এই ঘর তৈরী করার জন্য প্রয়োজন হতো এঁটেল বা দো-আঁশ মাটি। ঘর তৈরী করার জন্য তেমন খরচ হতো না। কৃষক-কৃষাণী ও তাদের পরিবারের সবাই মিলে অল্প কয়েক দিনের মধ্য তারা এই ঘর তৈরী করে ফেলত। যে মাটি দিয়ে ঘর তৈরী করা হবে সেই মাটি কোদাল দিয়ে ভালোভাবে কুপিয়ে ঝুর-ঝুরে করে নেওয়া হতো। তার পর তার সাথে পরিমাণ মতো পানি মিশিয়ে থকথকে কাঁদা করে নেয়া হতো। তার পর সেই কাঁদামাটি দিয়ে তৈরী করা হতো মাটির ঘর। অল্প-অল্প করে মাটি বসিয়ে ৬ থেকে ৭ ফুট উচু করে এবং সেই কাঁদায় ২৫/৩৫ ইঞ্চি চওড়া করে দেয়াল তৈরী করা হতো। এ দেয়াল তৈরী করতে বেশ সময় লাগতো। কারণ এক সাথে বেশি উঁচু করে তৈরী করা যেতো না। প্রতিবার এক থেকে দেড় ফুট পর্যন্ত উঁচু করা যেতো।

কয়েকদিন পর শুকিয়ে গেলে আবার তার উপর একই উচ্চতার দেয়াল তৈরী করা হতো। এভাবে দেয়াল তৈরী করা হলে কিছু দিন রোদে শুকানো হতো। তারপর এই দেয়ালের উপর বাঁশের চাল তৈরী করে খড় বা টিন দিয়ে ছাউনি দেয়া হতো। একটি মাটির ঘর তৈরী করতে ২ থেকে ৩ মাস পর্যন্ত সময় লাগতো।

বণ্যা, ভূমিকম্প বা প্রবল ঝড় না হলে এসব ঘর শত বছর পর্যন্ত টিকে থাকতো। যারা এলাকার প্রবাবশালী তাদের বাড়ীতে থাকতো দু’তালা আর মধ্যবিত্তদের থাকতো একতালা ছোট আকারের ঘর।

এ ব্যাপরে ধনবাড়ী আসায়া হাসান আলী মহিলা ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী মিতু আক্তার ও জেসমিন আক্তর বলেন, কখনো মাটির ঘর দেখিনি। তবে দাদা ও বাবার কাছে মাটির ঘরের কথা শুনেছি। এক সময় গ্রামের অনেকেই মাটির ঘরে বসবাস করতো। এটা দেখতে নাকি খুবই সুন্দর।

কয়ড়া গ্রামের বয়োবৃদ্ধ মো. আঃ সোবহান আলী (৯৫) বলেন, ৩০/৪০ বছর আগেও মাটির ঘর ছিল। এক সময় আমার বাড়ীতে ২টা মাটির ঘর ছিল। বর্তমানের মাটির ঘরেরস্থান করে নিয়েছে পাকা ঘরগুলো। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সবাই নানা বাহারী রকমের পাকা ঘর তৈরী করছে। এখন মাটির ঘরের সংখ্যা কমতে কমতে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

একদিন মাটির ঘরের কথা বাংলার মানুষের মন থেকে হারিয় যাবে। মাটির ঘর রূপকথার গল্প, কবিতার ছন্দ, সাহিত্যর পাতায় বা যাদুঘরে দেখা ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না।


এই ধরনের আরও সংবাদ

পুরাতন সব সংবাদ

SatSunMonTueWedThuFri
   1234
12131415161718
19202122232425
2627282930  
       
     12
10111213141516
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728     
       
      1
16171819202122
23242526272829
3031     
   1234
       
  12345
27282930   
       
29      
       
1234567
2930     
       

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!