• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ১০:৪৮ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]

ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন পূরণ হবে কি সবুজের

মো. ইউনুস, বিশেষ প্রতিনিধি / ২০১ বার পঠিত
আপডেট : বুধবার, ২১ এপ্রিল, ২০২১
বাবা-মা ও ছোট ভায়ের সাথে আশরাফুল ইসলাম সবুজ।

অদম্য ইচ্ছা শক্তি আর দারিদ্রতার কষাঘাত দমাতে পারেনি ভ্যান চালকের ছেলে সবুজকে। সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। চার সদস্যের অভাবী সংসারের মধ্যেই খেয়ে না খেয়ে বড় হয়েছে সবুজ। বাবাই সংসারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। সম্পদ বলতে বাড়ী-ভিটে আর নিজের দেহটা। ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগাতে মাও অন্যের বাড়ীতে ঝি এর কাজ করেন। অদম্য ইচ্ছা শক্তি নিয়েই সবুজ এবার ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ সিলেট-এ ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।

সবুজের পুরো নাম আশরাফুল ইসলাম সবুজ। সে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের কয়ড়া পূর্বপাড়া গ্রামের ভ্যান চালক আব্দুর রশিদের ছেলে। তারা দুই ভাই। ছোট ভাই সবিজ রায়হান ধনবাড়ী মডেল কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ে। মা সুফিয়া বেগম। দাদা জোয়াহের আলীও ভ্যান চালক।

সবুজ ধনবাড়ী মডেল কলেজিয়েট স্কুল থেকে জেএসসি, এসএসসি এবং শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ মায়মনসিংহ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।

এলাকাবাসী জানান, ভ্যান চালক আব্দুর রশিদের দুই ছেলেই খুব মেধাবী। সংসারে রশিদই একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। এতদিন ভ্যান চালিয়ে ও ধারদেনা করে দুই ছেলেকে পাড়ালেখা করিয়ে আসছে। কিভাবে সবুজকে ডাক্তারি পড়াবে এ নিয়ে সবুজের বাবা খুবই চিন্তিত।

ভ্যান চালক আব্দুর রশিদ বলেন, ছোট বেলা থিকে সুবজ ভালা ছাত্র। ছোট থিকে সবইরে কইতো আমি ডাক্তর হমু। অনেক কষ্ট কইরা পুলারে পড়ালেখা করাইতাছি। আল্লাহ রহমতে আমার পুলা ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পাইছে। কিন্তু আমার সংসারে আয়-উন্নতি তেমন নাই। এজন্য অনেক কষ্টের মধ্যে আছি। কিবা কইরা পুলাডারে ডাক্তারি পড়ামু? ডাক্তারি পড়াইতে পারমু কিনা তাও জানি না। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আমগর কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক স্যারসহ সমাজের গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গের কাছে সবুজের জন্য সাহায্য চাই।

সবুজের মা সুফিয়া বেগম বলেন, দুই পুলারে অনেক কষ্ট কইরা পড়ালেখা করাইতাছি। অনেক সময় না খাইয়া থাকি। আমগর পুলাডা পড়াশোনা কইরা ডাক্তরি পড়ার সুযোগ পাইছে। এখন পুলাডারে ভর্তির জন্য টেহা কুনু পামু?

আশরাফুল ইসলাম সবুজ বলেন, নিজস্ব চেষ্টায় অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছি। স্কুল ও কলেজের স্যাররা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছে। অনেক সময় টাকার অভাবে বই কিনতে পারিনি। অন্যের বই পড়েছি। মেডিকেলে পড়ার জন্য যে টাকা লাগবে তা আমার পরিবারে পক্ষে বহন করা সম্ভব না। এ জন্য আমি সমাজের বিত্তবানদের নিকট সহযোগিতা কামনা করি।

ধনবাড়ী মডেল কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক এসএম মাসুদ কবির জানান, সবুজ সব ক্লাসেই ভালো ফলাফল করত। সে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। দরিদ্রতার মাঝে পড়াশোনা চালিয়ে সে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। সবুজের পরিবার অসচ্ছল। আমরা বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ওকে পড়ালেখার জন্য সহযোগিতো করেছি। তার সাফল্য কামনা করি। মেডিকেলে ভর্তি সুযোগ পাওয়ায় আমরা গর্বিত। ওর পরিবার দরিদ্র হওয়ায় মেডিকেলে পড়াশোনা করার জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।


এই ধরনের আরও সংবাদ

পুরাতন সব সংবাদ

SatSunMonTueWedThuFri
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31      
   1234
2627282930  
       
     12
10111213141516
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728     
       
      1
16171819202122
23242526272829
3031     
   1234
       
  12345
27282930   
       
29      
       
1234567
2930     
       

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!