• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]

আজ থেকে বাজেট কার্যকর

বিডি নিউজ বুক ডেস্ক: / ১৩৩ বার পঠিত
আপডেট : সোমবার, ১ জুলাই, ২০১৯

নিউজ বুক ডেস্ক ::

২০১৯-২০ অর্থবছরের নতুন বাজেট কার্যকর হতে যাচ্ছে আজ সোমবার (১ জুলাই ২০১৯) থেকে। বাজেট কার্যকরের সাথে সাথে কার্যকর হবে নতুন ভ্যাট আইনও।

রবিবার (৩০ জুন) সকাল ১০টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে নতুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট এটি। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালেরও এটি প্রথম বাজেট।

গত ১৩ জুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ‘সমৃদ্ধি সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’ শীর্ষক এই বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রীর অসুস্থতার কারণে সে বাজেট বক্তৃতার বাকি অংশ সংসদে উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এবার প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ধরা হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। যা আগেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নতুন বাজেটের এডিপিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগকে। এডিপিতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ, ২৯ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ, ২৬ হাজার ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

প্রস্তাবিত নতুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের আকার চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ৫৮ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে না পারা ও উন্নয়ন প্রকল্পে পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থ খরচ করতে না পারায় চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেটের আকার চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকারের চেয়ে ৮০ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ১২ দশমিক ৬২ শতাংশ ও সংশোধিত বাজেটের আকারের চেয়ে ১৮ দশমিক ২২ শতাংশ বড়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে কর বহির্ভূত আয় ধরা হয়েছে ৩৭ লাখ ৭১০ কোটি টাকা। নতুন বছরে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার চেষ্টার কথা বলা হয়েছে। নতুন বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এই ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বৈদেশিক সহায়তা বাবদ ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা পাওয়ার প্রত্যাশা করছে সরকার। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা থেকে ঋণ নেওয়া হবে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সংগ্রহ করা হবে ২৭ হাজার কোটি টাকা।

বাজেটে সামাজিক অবকাঠামোগত খাতে মোট ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ২৭.৪১ শতাংশ। এর মধ্যে মানব সম্পদ খাতে- শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ বরাদ্দের মধ্যে শিক্ষা খাতে ২৪ হাজার ৪০ কোটি টাকা রয়েছে। ভৌত অবকাঠামো খাতে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে সার্বিক কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৬৬ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা, বৃহত্তর যোগাযোগ খাতে ৬১ হাজার ৩৬০ কোটি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৮ হাজার ৫১ কোটি টাকা রয়েছে। সাধারণ সেবা খাতে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ২৩.৬৩ শতাংশ।

এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) এবং বিভিন্ন শিল্পে আর্থিক সহায়তা, ভর্তুকি, রাষ্ট্রায়ত্ত, বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য ব্যয় বাবদ ৩৩ হাজার ২০২ কোটি টাকা বরাদ্দের দেয়া হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ৬.৩৫ শতাংশ। সুদ পরিশোধ বাবদ ৫৭ হাজার ৭০ কোট টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ১০.৯১ শতাংশ। নিট ঋণদান ও অন্যান্য ব্যয় খাতে ১ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ০.২৪ শতাংশ।

নতুন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো, আবাস, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থাকা ১৪ শ্রেণির জনগোষ্ঠীর পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এবার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি, অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কার্যক্রম, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম, হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম, লিভার সিরোসিস, ক্যান্সার, কিডনি, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগীদের আর্থিক সহায়তা, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি, গ্রামীণ দুঃস্থ মায়েদের মাতৃত্বকালীন ভাতা, কর্মজীবী মায়েদের সহায়তা তহবিল ও ভিজিডি কার্যক্রম বেড়েছে। এই বেষ্টনীতে নতুন ভাবে যুক্ত করা হয়েছে আরও ১৩ লাখ মানুষকে। এর মধ্য দিয়ে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বেষ্টনীর আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৭ লাখ।


এই ধরনের আরও সংবাদ

পুরাতন সব সংবাদ

SatSunMonTueWedThuFri
15161718192021
22232425262728
293031    
       
     12
10111213141516
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728     
       
      1
16171819202122
23242526272829
3031     
   1234
       
  12345
27282930   
       
29      
       
1234567
2930     
       

বিজ্ঞাপন