• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]

সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১১৪টি

বিডি নিউজ বুক ডেস্ক: / ১২৮ বার পঠিত
আপডেট : শনিবার, ২৯ জুন, ২০১৯

নিউজ বুক ডেস্ক ::

২০১৫ সালের শুমারিতে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১০৬টি থাকলেও ২০১৮ সালের ক্যামেরা ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে পরিচালিত জরিপে বাঘের সংখ্যা ১১৪টি বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন।

শনিবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মানিকগঞ্জ-২ আসনের মমতাজ বেগমের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।

তিনি জানান, সুন্দরবনে সুন্দরী গাছের পরিমাণ কিছুটা কমতি থাকলেও গেওয়া গাছের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বাড়ছে।

চট্টগ্রাম-১১ আসনের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে বনমন্ত্রী জানান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য সরকার ৪৮টি সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে বন্যপ্রাণির অভয়ারণ্য এলাকা ২০টি, জাতীয় উদ্যান ১৯টি, ইকোপার্ক ৩টি, বিশেষ জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ২টি, সাফারি পার্ক ২টি, এভিয়ারি ইকোপার্ক একটি ও মেরিন পার্ক একটি।

মন্ত্রী জানান, সুন্দরবন রক্ষায় ৪৫৯ কোটি ৯২ লাখ ৫৬ হাজার ৯শ টাকার পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

এর আগে বাংলাদেশের সুন্দরবন অংশে গত তিন বছরে বাঘের সংখ্যা ৮টি বেড়েছে বলে জানায় বন মন্ত্রণালয়। ২০১৫ সালে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে মোট বাঘের সংখ্যা ১১৪টি।

গত ২২ মে সুন্দরবনে বাঘ জরিপের ফলাফল প্রকাশ ও রিপোর্টের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান পরিবেশ ও বনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট চারটি ধাপে তিনটি ব্লকে ১ হাজার ৬ শত ৫৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ক্যামেরা বসিয়ে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ২শ ৪৯ দিন ধরে পরিচালিত জরিপে ৬৩টি পূর্ণ বয়স্ক বাঘ, ৪টি জুভেনাইল বাঘ (১২-১৪ মাস বয়সী) এবং ৫টি বাঘের বাচ্চার (০-১২ মাস বয়সী) ২৪৬৬টি ছবি পেয়েছে। সুন্দরবনে বাঘের বিচরণ ক্ষেত্র ৪৪৬৪ কিলোমিটার এলাকাকে আপেক্ষিক ঘনত্ব দিয়ে গুণ করে বাঘের সংখ্যা হিসাব করা হয়েছে ১১৪টি।

এছাড়া এসইসিআর মডেলে তথ্য বিশ্লেষণ বলছে, সুন্দরবনে প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে বাঘের আপেক্ষিক ঘনত্ব পাওয়া যায় ২ দশমিক ৫৫ + ০ দশমিক ৩২।

এ দিকে বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৩৫টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে স্বাভাবিকভাবে মারা গেছে মাত্র ১০টি। বাকি ২৫টির মধ্যে ১৪টি বাঘ পিটিয়ে মেরেছেন স্থানীয় জনতা, ১০টি নিহত হয়েছে শিকারিদের হাতে এবং একটি নিহত হয়েছে ২০০৭ সালের সিডরে।

জানা যায়, বন অধিদপ্তরের সঙ্গে চলতি বাঘ শুমারীতে অংশ গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথসনিয়ান কনজারভেশন ইন্সটিটিউটের ওয়াইল্ড টিম। আর গবেষণায় তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ। ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘ গণনার এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১১৪ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট একজন বন কর্মকর্তা জানান, সুন্দরবনকে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা এই তিন অংশে ভাগ করে যেসব এলাকায় বাঘ চলাচল বেশি সেখানে বাঘ জরিপ পরিচালনা করা হয়।

সাতক্ষীরা অংশে জরিপ করা হয় ২০১৬ সালে। অতঃপর গত বছর খুলনা ও বাগেরহাট অংশে জরিপ চালানো হয়। অতীতের প্রায় সবগুলো জরিপই করা হয়েছিল পাগমার্ক (পায়ের ছাপ) পদ্ধতিতে। এবারই প্রথম ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে সুন্দরবনে ১১৪টি বাঘের অস্তিত্ব চিহ্নিত হয়েছে। সে হিসেবে তিন বছরের ব্যবধানে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে ৮ শতাংশ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বাঘ বিশেষজ্ঞ ড. মনিরুল এইচ খান জানান, বাঘের সংখ্যা কমে যায়নি এটাই সুখবর। ২০১৫ সালে বাঘের সংখ্যা যে ১০৬টিই ছিল তা নয়, কম-বেশিও হতে পারে। আবার এখন ১১৪টি আছে, তার মানে ১১৪টিই এমন নয়। বেশিও হতে পারে।

তিনি বলেন, তবে বাঘ শুমারিতে ‘ক্যামেরা ফাঁদ’ বা ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে উঠে আসা এ সংখ্যাটি মোটামুটি বাস্তব সংখ্যার কাছাকাছি।

বনবিভাগের একজন জরিপ কর্মকর্তা জানান, সুন্দরবনে যে অঞ্চলগুলোতে বাঘের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি সেই এলাকাগুলোতে জরিপ চালানো হয়েছে। ফলে প্রকৃত সংখ্যাটা পাওয়া গেছে।

প্রসঙ্গত চলতি বছর জাতিসংঘের নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। এ অবস্থায় হারিয়ে যেতে পারে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার।

২০৭০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বাঘের জন্য কোনো উপযুক্ত জায়গা থাকবে না। কেননা, বিশ্বের তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধিসহ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এই বনে টিকে থাকা কয়েক শত বাঘ বিলীন হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

বাংলাদেশ ও ভারতের চার হাজার বর্গমাইল এলাকা নিয়ে সুন্দরবন। সুন্দরবনে এই প্রাণির আবাসস্থল এখন চরম হুমকির মুখে। বিবিসির খবরে বলা হয়, সুন্দরবনই হচ্ছে এশিয়ার মধ্যে বন্য প্রাণির বৃহত্তম আবাসভূমি। বর্তমানে সুন্দরবনে ৩৭৫ প্রজাতির বন্য প্রাণি রয়েছে। বন বিভাগের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সুন্দরবন অঞ্চলে ৪৪টি বাঘ হত্যার ঘটনা ঘটে।


এই ধরনের আরও সংবাদ

পুরাতন সব সংবাদ

SatSunMonTueWedThuFri
15161718192021
22232425262728
293031    
       
     12
10111213141516
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728     
       
      1
16171819202122
23242526272829
3031     
   1234
       
  12345
27282930   
       
29      
       
1234567
2930     
       

বিজ্ঞাপন