• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]

ইসলাম ও মধুবালার গপ্পো!

সাইদুজ্জামান সাগর, নঁওগা / ৮৩ বার পঠিত
আপডেট : সোমবার, ৩ মে, ২০২১

“দয়া করে ভাষার অলংকার খুঁজবেন নাহ”

##

আত্মরক্ষার চেষ্টা করবার জন্য আমাকে মেরে ফেলা হচ্ছে। আমার এই কোটের আবরণের নীচে আছে একটি শান্ত হৃদয়- খুব দয়ালু-কাউকে সে ক্ষতি করবে না। ধুর ভাল লাগছে না! একটু ফেসবুক দেখি…।

একুশের এপ্রিল মাস, মুসলিমদের রোজা লেগেছে, গ্রামীণ জনপদে ইরিবোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের ভরা মৌসুম, একই সাথে পাল্লা দিয়ে করোনা ভাইরাস মানুষকে ধরা ও মারার খেলায় মেতে উঠেছে। এমন দাপটি খেলায় পুরো দুনিয়া কাঁপছে। এ ভাইরাসের দাপটে চিকিৎসাবিদ্যা বড় অসহায়। এমন পরিস্থিতিতে একমাত্র ভরাসা প্রতিরোধ ব্যবস্থা, এমন রকমারি স্ট্যাটাস।

বলছিলাম দুই হাজার একুশ সালের ২৮ এপ্রিল সকালের কথা, ফেসবুকে ঢুকতেই চোখে পড়লো একটি নাচের দৃশ্য শব্দ হচ্ছে ‘আইলারে নয়া দামান আসমানের তারা’! আরে কি এটা দেখি তো, স্ট্যাটাসে লেখা আছে এক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করোনা রোগীদের মনোবল বাড়াতে পুরুষ-নারীর যৌথ নাচ এর ব্যবস্থা করেছে। নাচের সে ভিডিও জুকারবার্গের নীল দেয়ালে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি আপলোড দিয়েছে মধুবাল! তার কাছে সেই পদ্ধতি ভাল লেগেছে।

ভালো লাগা স্বাভাবিক বিষয়, তার ভালো- লাগা যে সবার ভালো লাগবে এটা কিন্তু স্বাভাবিক নয়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ভূতের গলির মত স্থান, দুই পাশে বেশকিছু বন্ধ দরজা। সেখানে একটিও রোগী নেয়! এক মোদ্দা দাঁড়িয়ে আর দুই মেদি মোদ্দার সামনে নাগিনীর নাচ শুরু করলো! তিন জনেরই পোশাক সিনেমার নাগ-নাগিনীর মত।

দৃশ্য দেখে গ্রামের কথা মনে হলো, গ্রামের লোক বছর কয়েক আগেও গাভী গরু প্রজনের জন্য ষাঁড়ের কাছে নিয়ে গিয়ে ষাঁড়কে কামভাবে উত্তেজিত করতে নানান কলা-কৌশল করতো, এক পর্যায় কাজ হয়ে গেলে গাভীটি গর্ভবতী হয়। ঠিক একই দৃশ্য শুধু প্রাণীগুলো ভিন্ন! (বিঃদ্রঃ শেষের অংশটুকু এডিটে হয়তো কেটে ফেলা হয়েছে!) যার সুশীল পরিণাম কুমারীর মাতৃত্ব ও ভ্রুণ হত্যা।

করোনা মহামারিতে চিকিৎসা জগতের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণীর মানুষ প্রগতির নামে সমাজে কুসংস্কার ছড়িয়ে দিতে ব্যস্ত, এর পক্ষে রয়েছে কথিত শিক্ষিত নামক বহু ভক্ত! মনে হয় যেন কাজী ম্যাক এর লেখা “হাজার বছরের অব্যক্ত শয়তান” এর জগতে বাস করছি।

মধুবালার পোস্টে একজন কমেন্ট করেছেন “এটা ঘৃণ্যতম কাজ” মধুবালা রিপ্লাই দিলো”কেন কোন যুক্তিতে? কমেন্টকারী তাকে বুঝাতে চাইলেন, মৃত্যু পথযাত্রীদের সামনে গানের তালে তালে নারী-পুরুষের নৃত্য এটা খারাপ এবং ইহুদিদের কাজ! কারণ এক এক রোগী এক এক ধর্মের, সবার জন্য এটা গ্রহণযোগ্য নয়। “ওই পদ্ধতির বিকল্প হিসাবে রোগী ও স্বজনরা সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রর্থনা করবে দোয়া পড়বে, কুরআন তেলাওয়াত শুনবেন অথবা নিজেই পড়বেন।

পবিত্র কুরআনুল কারীমের সূরা:- ইসরা’র ৮২ নং আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন, “অর্থ:- আর আমি কুরআনে এমন বিষয় অবতীর্ণ করেছি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনদের জন্য আরোগ্য রহমত” সূরা সাদ: এর ২৯নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলছেন, অর্থ:- এক কল্যাণময় কিতাব ইহা আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি”।

“মুসলিম হয়ে নাচের পদ্ধতি মানি না।” এমন কমেন্টের রিপ্লাই নিয়ে আলিফ লায়লার জ্বিনের মত হাজির হলেন মধুবালার এক পুরুষ বন্ধু ! তিনি কমেন্টকারীর প্রোফাইল দেখে নিশ্চিত হয়ে প্রশ্ন করলেন, “যে ক্লিন সেভ করে, সে আবার নিজেকে মুসলমান দাবি করে?” ভারতের গায়িকা নায়ক নায়িকাদের যে ফলো করে সে তো নিজেই এক ভন্ড! ইহুদিদের পদ্ধতি ভালো লাগে না! তো ফেসবুক ব্যবহার করেন কেনো? কমেন্টকারী বুঝতে পারলেন মধুবালার ভক্তের উদয় হয়েছে। মধুবালার প্রীতি পেতে ভক্ত তর্কে লিপ্ত হয়েছে! ভিন্ন মতের কোনো দামিই নেয় তার কাছে, থাকবেই বা কেনো? নারী প্রীতি যে তাকে গ্রাস করেছে!? অথচ তারাই ভিন্ন মত এবং বাক-স্বাধীনতার দাবিতে অস্থির হয়ে পড়ে মাঝে মধ্যে। এবার মধুবালা তার এক রিপ্লায়ে বুঝালেন, ভিডিওটি যেসব মুসলিমদের ভালো লাগছে না, তারা যেন চোখ বন্ধ করে থাকে! সময় গড়াচ্ছে আর মধুবালার ভক্তের সংখ্যা বাড়ছে, এক পর্যায় কমেন্ট বিস্ফোরনে বিধ্বস্ত করে দিলো ওই ভিন্ন মতের লোকটাকে।

আশ্চর্যরের বিষয় হলো এদের সবার প্রোফাইলে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা! মনে পড়ে গেলো নায়ক মিঠুন চক্রবর্তী অভিনিত টাইগার সিনেমার কথা। সিনেমায় প্রফেসর ইন্দ্রজিৎ সেন কি ভাবে ক্রাইম করতো। ঠিক একই কৌশল অবলম্বন করছে এরা।

ভিন্ন মত প্রকাশকারী নিজেকে তর্কে না জরিয়ে, তরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান কে খেয়াল করে নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করলেন, এরদোগান মুসলিম না বোদ্ধ!? তার মুখে তো দাঁড়ি নেই! তারপর ইসলামের পাতা উল্টে দেখা গেলো, দাঁড়ি রাখা তো ফরজ না, এটা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। কাউকে ফলো করলেই মুসলমান কখনো হিন্দু হয় না কিংবা হিন্দু মুসলমান হয় না। ইহুদি বোদ্ধ খ্রিষ্টান ধর্মের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

সালমান আল ফারসি, ইমাম বুখারী, তিরজিমি, মুসলিম সহ অনেকেই জানার জন্য এবং সত্যের সন্ধানে কতই না ত্যাগ স্বীকার করেছেন, বর্তমানে ড. জাকির নায়েক, ড.আলী মুহাম্মাদ সাল্লাবী, ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, ড. জন আদাইর, নোমান আলী খান সহ পৃথীবির অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিদের সম্পর্কে অল্প ঘাটাঘাটি করলেই স্পষ্ট হয় কোনো কিছু জানার জন্য বিশেষ করে সত্য জানা ও বুঝার জন্য যে কাউকে শুধু ফলো নয় বরং তার কাছে থেকে তাকে বুঝার চেষ্টা এবং বিভিন্ন ধর্ম ও বিষয় নিয়ে পড়া-শুনা, পর্যাবেক্ষণ, গবেষণা ইসলাম সমর্থন করে।

কেউ বলিউডের সিনেমা দেখলেই তাকে ইসলাম থেকে বের করে দেওয়া হবে বা সে ইহুদি হয়ে যাবে এমন কোনো বিধান ইসলামে নেই। মূল কথা হলো জানতে হলে পড়তে হবে, বুঝতে হলে শুনতে হবে, অনুভব করতে হলে দেখতে হবে।

ফেসবুক যারিই তৈরি হোক না কেনো, নিজের টাকায় কেনা মোবাইল ও মেগাবাইট দিয়ে সফটওয়্যার নিয়েছি এক কথায় পূণ্য কেনার মত, যা দিয়ে ভাল কিছু করার এবং প্রচার করার চেষ্টা করা যায়। এতে কোন বাঁধা নেই।

সূরা:- আল-ইমরান এর ১৮৬ নং আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন, ” অবশ্যই তোমাদেরকে তোমাদের ধন-সম্পদ ও তোমাদের নিজ জীবন সম্পর্কে পরীক্ষা করা হবে। আর তোমাদের আগে যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের পক্ষ থেকে এবং মুশরিকদের পক্ষ থেকে অবশ্যই তোমরা অনেক কষ্টদায়ক কথা শুনবে। এ অবস্থায় যদি তোমরা ধৈর্য ধরো এবং তাক্বওয়া অবলম্বন করো তবে নিশ্চয়ই তা হবে দৃঢ় সংকল্পের কাজ”। আয়াতটা নিয়ে ভাবতে ভাবতে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন।

হঠাৎ মধুবালা প্রাসঙ্গিক বিষয়টি বাদ দিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশকারীকে একটি গপ্পো লেখে রিপ্লাই দিলেন, এক তরুণীর করোনা হয়েছে, তরুণী তখন অসহায় হয়ে পড়লেন, নিরুপায় হয়ে তার বড় বোনের কাছে আশ্রয় নিলেন। তার বোন চিকিৎসা হিসাবে প্রয়োগ করলেন গান-গপ্পো-জোগস- আর একই থালাই খাওয়া, ক’দিন পরে বড় বোনটাও করোনায় আক্রান্ত হলেন, আর তাদের গান-গপ্পো-হাসির ঠ্যালায় একদিন দুম করে করোনা তাদের শরীর ছেড়ে চলে গেলো! গপ্পোটি গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ছিলেন তিনি। কিন্তু হতাশ হয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, যেনো জ্বলে উঠা প্রদ্বীপ নিভে গেলো! সকল পাঠকই এই করোনা পরিস্থিতে কি কি প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছিল এবং খাবারের বিষয় কিম্বা চিকিৎসক কি কি পরামর্শ দিয়েছিলেন সে সম্পর্কে জানতে চায় । কিন্তু মধুবালা কি করলো? কুসংস্কার প্রচার করলেন!

ইসলাম ধর্মে কেউ কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে তা থেকে আরোগ্য বা মুক্তি পেতে সূরা:- আম্বিয়ার ৮৩ নং আয়াত, সহীহ আত-তিরমিযীর ৩৬০৪ নং হাদিসে ও আবু দাউদের ১৫৫৪ নং হাদিসে উল্লেখিত দোয়া পাঠ করার পরামর্শ দেওয়া আছে। এছাড়াও আয়াতুল শিফা এবং দরুদে শিফা পড়লে রোগী আরোগ্য হবেন ইনশাআল্লাহ।

যাই হোক, আমরা যে ধর্মেরি হই না কেনো আমরা সব সময়ই স্মরণ করি সৃষ্টিকর্তাকে, বিশেষ করে বিপদ-আপদে পড়লে। কিন্তু মধুবালা তার গপ্পের কোনো জায়গায় সৃষ্টিকর্তাকে স্থান দেয়নি।পাঠকের নিরাশ হওয়া না হওয়ায় তার কোনো যায়-আসে না! কারণ মধুবালা বস্তুবাদী নারী।

ইসলাম ধর্ম মতে মহামারিতে কোনো মুমিন – মুমিনাত ব্যক্তির মৃত্যু হলে তিনি শহীদের মর্যাদা পাবেন। কিন্তু মধুবালার দল ভুক্তরা মুমিনদের কি ভাবে জাহান্নামী করা যায় সে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তার জলজ্যান্ত উদাহরণ ওই নাচ। মৃত্যুর আগ-মূহুর্তে তওবা দোয়া ও কালেমা যেন কোন মুমিন নারী-পুরুষ পড়তে না পারে তার কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে ওই গান সিলেক্ট করা হয়েছে বলে অনেকেই মনে করছে।

মধুবালার গপ্পে আল্লাদে আটখানা হয়ে তার সম্পর্কে একটু খোঁজ নিতেই অারেক গপ্পো মনে হলো:- এক রাজ্যের নির্বাচিত রাজা চিকিৎসার জন্য গেলেন উন্নত এক দেশে, চিকিৎসক রাজাকে বললেন, বয়স তো দিন দিন বাড়ছে মশায়? চেহারাও নষ্টের পথে! চেহারা ও যৌবন তো ধরে রাখতে হবে, কারণ আপনি যে রাজা মশায়। কথা অবশ্য মন্দ বলেননি, তা কি ভাবে? দেশে গিয়ে সুন্দরী কচি কচি তরুণী ভক্ষণ করবেন! তাদের অর্থ দিবেন অলঙ্কার দিবেন ভাল বাসস্থান, পোশাক-আশাক সহ সকল চাহিদা মিটাবেন, আর ভক্ষণ করবেন! দুঃখজনক হলেও সত্য এমন পরামর্শ আমাদের সমাজের অনেকেই গ্রহণ করেছে! শুধু কৌশল গুলো ভিন্ন যেমন একটি অফিসের ডেস্কের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য সুন্দরী চাই! সভা সমাবেশে ললনা না থাকলে বে-মানান দেখায়, সংগঠন করতে গেলেও রুপসী চাই, মেওয়া ও শরবৎ খেতে রমণী চাই ।

এমন চিকিৎসকের পরামর্শে অনেক রাজা আসন হারিয়েছে এবং তাদের বিভৎস মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে, শুধু রাজারা নয় হিসেব করলে তরুণীদের সংখ্যায় বেশি হবে! মধুবালাও সেসব তরুণীদের মত প্রথম পর্যায়ে দাঁড়িয়ে নিজেকে নন্দিনী ভাবতে শুরু করেছে! আসলে মধুবালা বর্তমানে যাদের অধিনস্থ তাদের কাছে সে শুধুমাত্র ওয়ান টায়েম ব্যবহারের বস্তু! তার চাইতে সুন্দর কেউ এলে তাকে ময়লা আবর্জনা রাখার ঝুড়িতে ছুড়ে ফেলে দেবে। যা স্বাভাবিক।

চলতি বছরে এক বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অল্প-বয়সী বান্ধবীর রহস্যজনক মৃত্যুর খবরে চারদিক হৈহুল্লোর পরিস্থিতি আমরা দেখেছি। অন্ধকারে গপ্পো দর্শন প্রায় শেষ পর্যায় কিন্তু শেষ করতে পারছি না, ভয় হচ্ছে মধুবালার যদি কিছু হয়ে যায়? “ডেস্ক” শব্দ পড়ে কোনো লেখা-লেখির জগৎ ভাববেন না প্লিজ। মধুবালা সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য না!? এ হতে পারে না….? আমি মানি না..! বলে চিৎকার করছি কিন্তু কেউ শুনতে পাচ্ছে না, সারা শরীর অবশ হয়ে আসছে নড়া-চড়া করতে পারছিনা, গা ঘেঁমে একাকার! মধুবালা আমাকে বলছে ছিঃ আপনি এতো খারাপ? সুন্দর মুখের আড়ালে কুৎসিত আপনার মন!? এমন সময় কে যেন আমায় ধাক্কা দিয়ে ডাকছে উঠো-উঠো, ঘুম ভেঙ্গে যেতেই পাশ থেকে ভাতিজা খিলখিল করে হেসে বললো চাচ্চু তোমাকে ঘুমের-ঘরে “বোবায়” ধরছিল! যান ফ্রেশ হয়ে নিন!

শেষ কথা:-
“সত্যের পথ আর মিথ্যার পথ- দুটোই পরিষ্কার”।

সাইদুজ্জামান সাগর
সংবাদকর্মী
sagorahamed50@gmail.com


এই ধরনের আরও সংবাদ

পুরাতন সব সংবাদ

SatSunMonTueWedThuFri
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31      
   1234
2627282930  
       
     12
10111213141516
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728     
       
      1
16171819202122
23242526272829
3031     
   1234
       
  12345
27282930   
       
29      
       
1234567
2930     
       

বিজ্ঞাপন

error: Content is protected !!