• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০১:২৪ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]

স্মৃতিতে কোভিড -১৯ মহামারি

বিডি নিউজ বুক ডেস্ক: / ১০৩ বার পঠিত
আপডেট : শুক্রবার, ১ জানুয়ারি, ২০২১

ভয় শঙ্কা আর আতঙ্ক দিয়ে গোটা পৃথিবী রাজ করছে করোনা ভাইরাস রোগ! শুরু হয়েছে বেঁচে থাকার লড়াই, সকল মহামারির মতই কোভিড১৯ আমাদের বন্দি করেছে, আমাদের চলমান প্রবল গতি রুদ্ধ করে দিয়েছে, কেউ কেউ সুযোগ বুঝে ধাঁন্দা এবং বিভ্রম চিন্তার মুক্তি দিয়েছে, কেউ আবার টাকার নেশায় নানান ফুন্দি-ফিকিরে মগ্ন, আমরাই আবার নিজেকে বাঁচাতে দূষিত করছি পরিবেশ, নিজ দায়-দ্বায়িত্ব এড়াবার প্রবনতা বিরাজ করছিল আমাদের মাঝে, বহু পরামর্শের ভিড়ে হঠাৎ একদিন স্বস্তির খবর এলো। করোনা ভাইরাস মহামারির সেই দিনগুলি খন্ড খন্ড করে তুলে ধরার চেষ্টা.. ।

তখন আমরা সকলেই বন্দি!

দুনিয়া জুড়ে শুরু হয়েছে মৃত্যুর মহামারি! অদেখা, অদৃশ্য একটা শক্তি— যা গণহারে মৃত্যু ঘটায়! আমরা লড়াই করছি নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য। চারদিক অস্বস্তিকর, অনাকাঙ্ক্ষিত ও বেদনাদায়ক খবরে ভরে গেছে। পিছু ছাড়ছে না ভয়, শঙ্কা আর আতঙ্ক! সবাই জানে মহামারি পৃথিবীতে ফিরে ফিরে আসে, তবু যেন মেনে নিতে পারছে না কেউ! ভাইরাসের কবলে পড়ে অনিশ্চিত একটা শঙ্কা নিয়ে পৃথিবীর মানুষ কাঁদছে ! আর মুক্তি পেতে প্রার্থনা করছে যে যার মত করে।

সারা পৃথিবীতে ৮, ২৬, ৬৩, ৯৪৫ জন মানুষ নতুন করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১৮, ০৪, ১৩৮জনের ! সুস্থ্য হয়েছে ৪, ৬৬,০৫৩ জন। বাংলাদেশে ৫, ১২, ৪৯৬ আক্রান্ত হয়, ৪,৫৬, ০৭০ জন সুস্থ্য হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ৭,৫৩১ জনের।(এতথ্য ০১-০১-২০২১ খ্রি. পর্যন্ত, সূত্র দৈনিক সংবাদ)।

মধ্য চীনের উহান শহর থেকে এই রোগের সূচনা হয়েছিল। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর এই শহরে নিউমোনিয়ার মতো একটি রোগ ছড়াতে দেখে প্রথম চীনের কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংক্রমনের ব্যাপারটা জানিয়েছিল। এর পর ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।
ঠিক কীভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়েছিল তা এখনও নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা।

তবে তারা বলেছেন, সম্ভবত কোন প্রাণী এর উৎস ছিল। প্রাণী থেকেই প্রথমে ভাইরাসটি কোন মানুষের দেহে ঢুকেছে, এবং তারপর মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়েছে। উহান শহরে সামুদ্রিক খাবারের একটি বাজারে গিয়েছিল এমন লোকদের সম্পর্ক আছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়। মহামারির পরিস্থিতিতে একটি প্রবাদ বারবার মনে হচ্ছিল “দের আয়েদ দুরুস্ত আয়েদ” ( যা দেরিতে আসে তা সাজানো গোছানো হয়েই আসে)

ফার্সি এ প্রবাদ স্বার্থক করতেই যেন করোনা ভাইরাস সাজানো গোছানো হয়ে এসেছে! নামেই তা বুঝা যায়। ভাইরাসের নামটি যদি একটু ভেঙ্গে বলি তাহলে এর সাজানো গোছানোর একটি স্বাদ পাওয়া যাবে যেমন:- করোনার (corona) co, ভাইরাসের (virus) vi, রোগের(Disease) d,এবং ২০১৯ এর 19, মিলে হয়েছে covid19। যার ৭ রকম প্রকরণে পুরো দুনিয়া কাঁপছে!

১৯১৮ থেকে ১৯২০-র মধ্যে স্প্যানিশ ফ্লু-এ গোটা বিশ্বে ৫ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে ছিল ভারত। এটাই সম্ভবত ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ানক মহামারি।

নতুন করোনাভাইরাস মহামারিতে লকডাউন স্পেনে শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের ১৪ মার্চে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দেশের মত আমাদের দেশেও লকডাউন ঘোষনা করা হয়। বাংলাদেশের করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকাকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন বা লাল, হলুদ ও সবুজ – এই তিন ভাগে ভাগ করে জোনভিত্তিক লকডাউন করার পরিকল্পনা করে সরকার। তখন আমরা সকলেই বন্দি হয়েছিলাম!

যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের সময় বেশির ভাগ মানুষের জীবনই স্বাভাবিক ভাবে চলে। এত মৃত্যু ও হিংসার পরেও। বিপরীতে, মহামারি আমাদের সকলকেই বন্দি করে। তবু যেন তত কিছু পাল্টায় না!
প্রবল গতি হঠাৎ রুদ্ধ!

ঘৃণা, বিদ্বেষ আর উপরে ওঠার প্রবল তাড়া নিয়ে আমরা ছুটছিলাম। ভীষণ গতিতে এগিয়ে যেতে মগ্ন আমরা। হঠাৎ গতি রুদ্ধ হলো! আমরা জানতাম, সঙ্কট তো যখন-তখন আমাদের গতিকে থামিয়ে দিতে পারে। কিন্তু সঙ্কট যে বিশ্বব্যাপী হবে, এমন চিন্তা মনে আসেনি। সকলে ভেবেছি, যা-ই হোক আমার কিছু হতে দেওয়া যাবে না। সম্মিলিত থাকার যাবতীয় উপাদান থাকা সত্ত্বেও স্বার্থের আরোপিত নেশা সে উপাদানকে কাজে লাগতে দেয়নি।

আজ তাই আমরা মৃত্যুপথযাত্রী! আমরা আজ শুধুই সংখ্যা হতে চলেছি! বেঁচে থাকা অনেক মানুষ সাধ্যমতো বা সাধ্যের বাইরে গিয়ে এক অসম লড়াই লড়ে যাচ্ছেন। কয়েক প্রজন্ম পরে এই চরম বর্তমান আবেগমথিত অতীতের জায়গা নেবে। ইতিহাস বলবে, এত আক্রান্ত সংখ্যা, এত মানুষ সুস্থ হয়েছিলেন, আর এত জন মারা গিয়েছিল। ইতিহাস, ভূগোল, বিজ্ঞানের পাতায় অক্ষয় হয়ে থাকবে।

স্তব্ধতা আর বিষণ্ণতার এই আচমকা আঘাত থেকে আমরা সবাই মুক্তি পাব না! আমার আশপাশের কেউ হয়তো ভোর রাতে আর উঠবে না। তবু যাঁরা বেঁচে থাকবেন, যাঁরা পূর্ণিমার চাঁদ আরও অনেক বার দেখবেন, সেই মৃত্যুঞ্জয়ীরা ভবিষ্যৎকে অন্তত বলে যাবেন, চরম গতিতে এগিয়ে যাও, ক্ষতি নেই। কিন্তু মাঝে মাঝে থামতে হবে, গতি যখন তখন রুদ্ধ হবে, তার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রেখো।

বিভ্রম চিন্তার মুক্তি

ঘরে থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে সর্ব মহল থেকে, জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাহিরে বের হলে মাস্ক পড়তে বলা হচ্ছে, সবান দিয়ে ঘন ঘন হাত ধোয়া ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কে শুনে কার কথা চায়ের দোকান ভরপুর বসার জায়গা নেই, বাজারে দাঁড়ানোর উপায় নেই, নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাদের টহল। মাঝে মধ্যে দুম করে পুলিশ এসে ধাওয়া দিয়ে বিভিন্ন মোড়- বাসস্ট্যান্ড ও বাজার ফাঁকা করে দিচ্ছে, কয়েক জায়গায় লাঠি পেটার ঘটনাও ঘটে। চারদিকে যেন বেঁচে থাকার লড়াই আর না মানার সংস্কৃতির প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে! এর মধ্যে আবেগ ও ভয়কে কাজে লাগিয়ে তৈরী হয় ধাঁন্দার বাজার! এ বাজার তৈরীতে আমাদের প্রচেষ্টার কোন কমতি ছিল না। ধাঁন্দার বাজারে যা চলছিল, করোনা ভাইরাস স্বপ্নে এসে কথা বলেছে, কখন কোথায় সংক্রমন ঘটাবে! অতএব ভয়ের কারন নেই।

রাস্তার পাশে ছালার চট বিছিয়ে ব্যানার টাঙ্গিয়ে করোনার ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। তিনদিনের মাথায় মুক্তি বিফলে মূল্য ফেরত। মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার মানুষের দরকার অতএব এগুলোর মজুদ ও দাম বাড়িয়ে দিচ্ছি। আদা, গোলমরিচ এক সাথে বাটিয়ে এর রস শিশুদের খাওয়াতে হবে। মাথা ন্যাড়া করলে করোনায় ধরবে না! অমুক জায়গায় এতোজন মানুষ আক্রান্ত, এতোজন মারা গেছে টাইপের খবর মুখে মুখে ছড়িয়ে দিচ্ছি। যতো পারি আজগুবি ডট কমের আজব খবর শেয়ার করছি। প্রয়োজনীয় কোন কিছুই সরকারি হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে না, প্রাইভেট হাসপাতাল গুলো রমরমা।

আমাদের এই কাজগুলো আমাদের ক্ষতির পরিমাণ অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়। স্বয়ং ইউনিসেফ অবিশ্বস্ত বা অ-যাচাইকৃত উৎস থেকে পাওয়া তথ্য শেয়ার বা প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলছে, এতে করে আতঙ্ক, ভয়ভীতি আরো ছড়াতে পারে বা কারো নামে কলঙ্ক রটে যেতে পারে। এর ফলে লোকজন এ ভাইরাস থেকে অরক্ষিত বা আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়তে পারে।

ঘনবসতির এই দেশে খুব সহজে এই ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করতে পারে। নিজেদের ভালোর জন্য অন্তত এটি নিয়ে বিভ্রম চিন্তা থেকে বিরত থাকা জরুরি ছিল। আবেগিয় হোক আর বানিজ্যিক হোক। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা আর সচেতনতাই পারে এই দুর্যোগ থেকে রক্ষা করতে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে প্রতিরোধ ও প্রতিকারে সোচ্চার থাকাটাই জরুরি।

ফুন্দির শিকলে আটকা মানবিকতা

সংক্রমণের ভয়ে আক্রান্ত কিংবা মৃতদের কাছে আসছেন না পরিবারের সদস্যরাও! স্ত্রী-সন্তানের মতো স্বজনরাও দূর থেকে দেখিয়ে দেয়, ওই ঘরে লাশ। শেষ বারের মতো মৃতের মুখটাও যেন দেখতে চায় না তারা! আক্রান্ত স্বজনকে চুপিসারে ফেলে রেখে অনেকেই চলে যাচ্ছে অন্যত্র! আক্রান্ত মানুষ তো দূরের কথা অন্য কোনো কারনে অসুস্থ্য মানুষ এ-হাসপাতাল ও- হাসপাতাল ঘুরে ঘুরেও চিকিৎসা পাচ্ছে না। প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে এমন সব অমানবিক, করুন ও বেদনাদায়ক খবর! ভাইরাস সংক্রমনের ভয়ে এবং লকডাউনে প্রায় সব শ্রেণীর মানুষের কর্ম তখন প্রায় বন্ধের পথে, এমন পরিস্থিতিতে সরকার পর্যায় ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি উদ্যোগে অসহায়দের মাঝে ত্রান বিতরনের ব্যবস্থা নেয়। এক কথায়, পুরোদেশ একটি সংকট মোকাবিলায় যুদ্ধ করতে ব্যস্ত, তখন কিছু জনপ্রতিনিধি, ক্ষমতাশীন দলের নেতা ও ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) ব্যবসায়ী অসহায় মানুষের প্রকল্পের চাল চুরিতে ব্যস্ত! এছাড়া ত্রানের প্যাকেট কৌশলে সরিয়ে ফেলে অন্যত্র বিক্রি করছে!

বাড়ির বক্স খাটের ভিতরে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা হয়েছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ন্যায্যমূল্যের বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল। অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদকৃত এসব তেল উদ্ধার করা হয়।

চলমান করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট সঙ্কটে হতদরিদ্র ও কর্মহীন পরিবারের জন্য আড়াই হাজার টাকা করে ঈদ উপহার দেয়ার ঘোষনা দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখানেও করা হয় ধাঁন্দা ও স্বজনপ্রীতি।

লকডাউনের অজুহাতে গ্রামীণ জনপদে শুরু হয় ধাঁন্দার ব্যাপক ধস্তা-ধস্তি! তখন পুরোদমে গ্রামে গ্রামে চলছে ইরি-বোরো ধান কাটামাড়াই। ভরা মৌসুমে পাকা ধান নিয়ে চরম বিপাকে পড়ে আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাদের স্বজনরা। আড়ালে থাকা শক্তি কাটতে দিচ্ছে না তাদের ধান! ইস্যু একটায় করোনা আক্রান্ত পরিবার! ক্ষমতাশীন দলের স্থানীয় নেতারা লকডাউন ঘোষিত বাড়ি যথা সময়ে লকডাউন মুক্ত করতে দেয়নি।

রাজধানী ঢাকা থেকে কেউ গ্রামে এলে সহজে ঢুকতে দেয়া হয়নি, অনেক এলাকায় ঢুকতে দেয়া দূরের কথা তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ঢাকা ফেরত অনেক সুস্থ্য ব্যক্তিকে এক সপ্তাহ দশ দিন বাড়ি থেকে বেড়তে দেয়া হয়নি। শুধুমাত্র ফুন্দি ফিকিরের উদ্দেশ্যে! এসব মহামারির অমানবিকতা? নাকি সুযোগের নিষ্ঠুরতা? তা আমার জানা নেয়!

মাঝে মধ্যে বড় ঘটনা থেকে একজন নায়ক বা খলনায়ক বেরিয়ে আসে। নায়কের আবির্ভাব না হলেও, বাংলাদেশে একজন খলনায়ক যে তৈরি হয়েছে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

করোনাভাইরাস পরীক্ষা ছাড়া ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রিজেন্ট হাসপাতাল সিলগালা করে দেওয়া হয়, তার মালিক মোহাম্মদ সাহেদকে গ্রেফতার করা হয়। একই বিষয়ে জালিয়াতি করার অভিযোগে জেকেজি হেলথ কেয়ার-এর ডা: সাবরিনা চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়।

যখন করোনাভাইরাস নিয়ে দেশ হিমসিম খাচ্ছে, তখন তারা মানবতার সেবা না করে রাজনৈতিক প্রভাবে অর্থের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তবে এরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, উপযুক্ত কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত । তাহলে আর এই রকম অপরাধ করার সাহস কারো হবে না।

উপরোক্ত ঘটনাবলি ছাড়াও দেশে অর্থকষ্ট, নির্যাতন, লাঞ্চিত-বঞ্চিত, বিবাহবহির্ভূত গর্ভধারণ ও যৌনযসম্পর্ক জনিত আত্মহত্যার মত ঘটনা প্রায়ই ঘটছিল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক বাংলাদেশে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, পারিবারিক সমস্যা (৪১.২%), পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া (১১.৮%), বৈবাহিক সমস্যা (১১.৮%), ভালোবাসায় কষ্ট পাওয়া (১১.৮%), বিবাহবহির্ভূত গর্ভধারণ ও যৌন সম্পর্ক (১১.৮%), স্বামীর নির্যাতন (৫.৯%) এবং অর্থকষ্ট (৫.৯%) থেকে রেহাই পেতে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।(সূত্র:- বিডি নিউজ বুক অনলাইন পোর্টাল) ভাল থাকা, সুখ-শান্তি, বাঁচার ইচ্ছা ছোঁয়াচে হোক।সবার মধ্যে সুন্দর ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করার শুভবোধ জেগে উঠুক। পৃথিবী সকলের সমান বাসযোগ্য হোক।

দায় ও দ্বায়িত্ব

দ্বায়িত্বের গভীরে নিহিত রয়েছে দায়। দায়বোধ জোরদার হলে তবেই দায়িত্বজ্ঞান পাকাপোক্ত হতে পারে। সঙ্কট দেখা দিলে সমাজকে দায়িত্ববোধের পরীক্ষা দিতে হয়। রাষ্ট্র, সমাজ, সংগঠন এবং পরিবার তাদের দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারে না। সকল স্তরের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আপন দায় স্বীকার করলে তবেই দায়িত্ব পালনের যথেষ্ট তাগিদ তৈরি হতে পারে। দুঃখের কথা সেই দায় এড়াবার প্রবণতাই এ দেশে নানা ভাবে প্রকট। রাষ্ট্রের দায় এড়াবার অগণন কথা প্রতিনিয়ত শুনতে হচ্ছে। রাষ্ট্র আপন দায় স্বীকার না করলে গণতন্ত্র ব্যর্থ! রাষ্ট্রকে তার দায় স্বীকারে বাধ্য না করতে পারলে গণতন্ত্রের অক্ষমতাই প্রমাণিত হয়।
মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের নানামুখী উদ্যোগের বাস্তববোধের খাতিরে একটু খাদ থাকতে পারে।

সেই খাদটুকুকে সহজে গ্রহণ করতে হবে, তার কারণ আমরা সবাই জানি খাঁটি সোনায় গহনা হয় না।
সংক্রমনের শুরুতে দেখা গেছে, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা সম্পূর্ণ ভুলে মানুষ যথেষ্ট ভিড় জমাচ্ছেন, বাজারে লোক ভেঙ্গে পড়ছে, আড্ডার আসর বসছে, অনেকেই মাস্ক পরছেন না, উচ্চাসনে বসেও সেটিকে মালা করে গলায় ঝুলে রাখছেন। সব মিলে এক বেপরোয়া মানসিকতার প্রদর্শনী চলছে। সমস্ত অনিয়মের জন্য নিশ্চয়ই মানসিকতাকে দায়ী করা চলে না, অন্য কারণও থাকতে পারে। সাধারণ ভাবে বলা চলে বহু মানুষই সংক্রমণ রোধে আপন দায় সম্পর্কে সচেতন নয়! দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে অ-চেতনারই প্রমাণ মিলে!

পরিবেশ দূষন

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বেড়ে গিয়েছিল বর্জ্য। এর বেশিরভাগই হচ্ছে সার্জিক্যাল মাস্ক, পলিথিনের হ্যান্ড গ্লাভস, সার্জিক্যাল হ্যান্ড গ্লাভস, পলিথিন ব্যাগ এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বোতল।

মহামারি ক্রান্তিকালে বাংলাদেশে একবার ব্যবহার করা প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়। এনভায়রনমেন্ট এন্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) নামের সংস্থাটি বলছে, ২৬শে মার্চ থেকে ২৫শে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ১৪ হাজার ৫০০ টন স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ প্লাস্টিক বর্জ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস সব কিছু বর্জ্যের সঙ্গে একত্রে মিশে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হচ্ছে, সেই সঙ্গে যারা এসব বর্জ্য সংগ্রহ করছেন তাদের স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

বেসরকারি ওই সংস্থাটি বলছে, এসব বর্জ্যের ফলে অ্যাজমা, ফুসফুসের রোগ, হৃদরোগে আগাম মৃত্যু, শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা, ঝাপসা লাগা, চর্মরোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের সমস্যা, ব্লাডপ্রেশার, শিশুদের স্বল্পবুদ্ধি হওয়ার মতো সমস্যার তৈরি হতে পারে।

এসডো তাদের গবেষণায় দেখতে পেয়েছে, এসব বর্জ্যের প্রায় ১২ দশমিক ৭ শতাংশ সার্জিক্যাল ফেসমাস্ক, ২৪ দশমিক ২ শতাংশ পলিথিনের তৈরি সাধারণ হ্যান্ড গ্লাভস, ২২ দশমিক ৬ শতাংশ সার্জিক্যাল হ্যান্ড গ্লাভস এবং ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ খাদ্যদ্রব্য বহনের একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিনের বাজারের ব্যাগ।(সূত্র:- বিবিসি বাংলা অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়)

পরিস্থিতি মোকাবেলায় নানান পরামর্শ

করোনা ভাইরাসের দাপটে চলমান পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলতে পারছিল না যে এটির ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে কিনা! এ পরিস্থিতিতে করোনার সঙ্গেই সহাবস্থান করার অঘোষিত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এছাড়া কোনো উপায় ছিল না। তখন ভাইরাস ঠ্যাকাতে স্ব-স্ব এলাকাকে করোনা সহিঞ্চু এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজন পড়েছিল।

করোনা সহিঞ্চু এলাকা গড়ে তুলতে হলে প্রথমে আমাদের জীবন-যাপন পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। সেক্ষেত্রে বেশকিছু বিষয় কঠোর ভাবে পালন করতে হবে আমাদের যেমন:- পরস্পর স্পর্শ থেকে বিরত থাকা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনে বাহিরে ঘোরাঘুড়ি না করা, শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, সব সময় হাত পরিস্কার রাখা, দীর্ঘদিনের কিছু লালিত অভ্যাস পরিবর্তন করা, এলাকা ভিত্তিক মুরব্বি ও তরুন-তরুনীদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা, যে কমিটি করোনা পরিস্থিতিতে বিভিন্ন কর্মকান্ডে ভূমিকা রাখবে, যেখানে সেখানে কাশি থুথু না ফেলা, করোনা শনাক্ত ব্যক্তি বা পরিবারকে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য্যশীল হতে উদ্ধুদ্ধ করা এবং যথাসাধ্য সব ধরণের সহযোগিতা প্রদান করা, এছাড়াও এলাকার অসহায় পরিবারদের সহযোগিতা মূলক সব বিষয় গুলো নিশ্চিত করা। এছাড়া প্রতিটি গ্রামে বা মহল্লায় চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট একটি রাস্তা খোলা রাখা। এতে সকলের মধ্যে সতর্কতা সৃষ্টি হবে। এবং বহিরাগতদের ব্যাপারে সজাগ থাকা সম্ভব হবে। আমাদের বহুদিনের কিছু খাদ্যাভাস পরিবর্তন করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এমন খাবার খাওয়া। এলাচ লবঙ্গ ও আদা দিয়ে চা খাওয়াসহ হরেক রকমের পরামর্শ দেয়া হয় বিভিন্ন মাধ্যম থেকে।

পরিশেষে একটি কথাই রয়ে যায়, নিজের সুরক্ষার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে তাহলেই করোনা সহিঞ্চু এলাকা গড়ে তোলা এবং এর সঙ্গে সহাবস্থান করা সম্ভব হবে।

স্বস্তির নিশ্বাস

নানান জল্পনা কল্পনা আর দীর্ঘ প্রতিক্ষার মধ্যে ২০২০ সালের ১১ আগষ্ট মঙ্গলবার দিন বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয় বিশ্বে রাশিয়া প্রথম করোনার টিকা তৈরি করেছে। খবরে বলা হয় নতুন করোনাভাইরাসের জন্য প্রথম টিকা নিবন্ধন করা হলো। বিশ্বে ছয়টি সম্ভাব্য টিকা মানবপরীক্ষার তৃতীয় ধাপে রয়েছে। এর মধ্যে দুটি টিকা রাশিয়ার। ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ওষুধের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার সময় সংক্ষিপ্ত করার আদেশ দেন। এর মধ্যে করোনার টিকার পরীক্ষার বিষয়টিও ছিল।

শুরুতে এ বছরের ১৭ জুন টিকাটি ৭৬ জন স্বেচ্ছাসেবীর ওপর প্রাথমিক পরীক্ষা হয়। তাঁদের মধ্যে অর্ধেককে তরল টিকা ইনজেকশনের মাধ্যমে পুশ করা হয় আর বাকি অর্ধেককে দ্রবণীয় পাউডার হিসেবে টিকাটি দেওয়া হয়। প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির শরীরে প্রতিরোধী সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এ টিকার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। ২০২০ সালের অক্টোবরে জনগণের বড় অংশের মধ্যেটিকা প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া। বিভিন্ন মাধ্যমে এমন সংবাদ পেয়ে সকলেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে। বেঁচে থাকার নতুন সঞ্চার জেগে উঠে মানুষের মাঝে।

কিন্তু শেষ হয়েও হলো না শেষ! রয়েই গেলো ভয় শঙ্কা আর ঝুঁকি!

বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ বা বিসিএসআইআর-এর বিজ্ঞানীরা বলছেন যে করোনাভাইরাসের নতুন একটি স্ট্রেইন বাংলাদেশে শনাক্ত হয়েছে, যেটির সঙ্গে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে পাওয়া নতুন ধরনের করোনাভাইরাসের সাদৃশ্য রয়েছে।

বিসিএসআইআর-এর বিজ্ঞানীরা গত মাসে ১৭টি নতুন জিনোম সিকোয়েন্স পরীক্ষা করে পাঁচটিতে করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের এই স্ট্রেইন শনাক্ত করেন।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের নতুন যে একটি স্ট্রেইন পাওয়া গেছে, সেটি আগের স্ট্রেইনটির তুলনায় ৭০ শতাংশ বেশি গতিতে ছড়ায় বলে জানানো হয়েছে।(তথ্য সূত্র:-বিবিসি বাংলা) রয়েই গেলো শেষ কথা গুলো!

সমাপ্ত

সাইদুজ্জামান সাগর
:: সাংবাদিক ::
রাণীনগর, নওগাঁ।


এই ধরনের আরও সংবাদ

পুরাতন সব সংবাদ

SatSunMonTueWedThuFri
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
     12
10111213141516
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728     
       
      1
16171819202122
23242526272829
3031     
   1234
       
  12345
27282930   
       
29      
       
1234567
2930     
       

বিজ্ঞাপন