প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি চান কৃষিমন্ত্রী

প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি চান কৃষিমন্ত্রী

নিউজ বুক ডেস্ক ::

কৃষিমন্ত্রী ড. মো.  আব্দুর রাজ্জাক কৃষি সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, আমাদের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ধীরগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রকল্প হস্তান্তরের তারিখ পার হয়ে গেলেও সেগুলোর কোনো খোঁজ খবর থাকে না।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সচিবালয়ের কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ১৭টি দফতর ও সংস্থার সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি ২০১৯-২০ সই অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সব দফতরপ্রধান চুক্তিপত্রে সই করে তা কৃষিমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান দফতরপ্রধানদের সঙ্গে আলাদা কর্মসম্পাদন চুক্তি সই করেন।

প্রকল্প হস্তান্তরের তারিখ পার হওয়ার ব্যাপারে উদাহরণ দেখিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৮টি সাইলো (আধুনিক খাদ্যগুদাম) নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১০ সালের দিকে, যা ২০১৯ সালে শেষ হওয়ার কথা। অথচ, সেগুলোর মাত্র তিনটির কাজ শুরু হয়েছে, বাকি পাঁচটির কোনো খবর নেই। এগুলো বাস্তবায়ন হলে এবার ধান সংরক্ষণ করা যেত অনেক বেশি।

কর্মকর্তারা অর্জিত জ্ঞানের সঠিক প্রয়োগ করছেন না এমন কথা জানিয়ে ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অনেক দেশ ঘুরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সভা-সেমিনারে অংশ নেন। কিন্তু, সেখান থেকে পাওয়া জ্ঞানের প্রয়োগ তেমন দেখা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নিতে বিদেশ গেলে, সেখান থেকে পাওয়া জ্ঞান দেশে এসে প্রয়োগ করতে হবে।

ধানের দাম নিয়ে অস্বস্তির মধ্যে আছি এমন কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাল রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শুধু সিদ্ধান্ত নিলে হবে না। আমাদের আন্তর্জাতিক বাজারে যেতে হবে। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে, ফিলিপাইনে ৩-৪ লাখ মেট্রিক টন চাল রফতানির কথা চলছে। এটা আমাদের জন্য ভালো খবর।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের জন্য, জনগণের জন্য, এ দেশের মেহনতি খেটে খাওয়া মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। সামনে এগিয়ে যেতে হবে দেশ সেবার ব্রত নিয়ে। আপনাদের প্রচেষ্টা ও দক্ষতায় দেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়শীল দেশে উন্নীত হয়েছে। এক্ষেত্রে কৃষকরা অপরিসীম ভূমিকা রেখেছেন। আমাদের ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়ন করে উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জন করতে হবে। এরপর রয়েছে ডেল্টা প্লান ২১০০।

অনুষ্ঠানে চুক্তি সই হয় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, কৃষি বিপণন অধিদফতর, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, তুলা উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি তথ্য সার্ভিস, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি ও বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সঙ্গে।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই পোর্টালের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!