দুর্ভোগে অপর নাম ঈদযাত্রা

দুর্ভোগে অপর নাম ঈদযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

ঈদ আনন্দ উদযাপন করতে বাড়ি ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ। কিন্তু যাত্রা দুর্ভোগে পথেই যাত্রীদের আনন্দ ম্লান হয়ে যাচ্ছে। ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়, ভাঙাচোরা সড়কে দীর্ঘ যানজট, লঞ্চ বিলম্ব ও বৈরী আবহাওয়ায় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে বিভিন্ন রুটের ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছাড়তে পারেনি। ট্রেনগুলো তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে ছেড়েছে। একই অবস্থা মহাসড়ক ও লঞ্চে। তিন পথেই মানুষ ঝুঁকি নিয়ে ছুটে চলেছে নাড়ির টানে। নির্ধারিত টিকিটের চেয়ে তিন-চারগুণ বেশি যাত্রী ট্রেনে চেপে বসছেন।

ফলে নড়বড়ে রেলপথে পুরনো ইঞ্জিনে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই বগি নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে। এছাড়া গতকাল বঙ্গবন্ধু সেতুর উপর ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। এতে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানীর রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। তিন ঘণ্টা পর উত্তরবঙ্গে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, ঈদযাত্রায় রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠছে। ট্রেনের অগ্রিম টিকিট নিয়ে তৃতীয় দিনের মতো গতকাল শুক্রবার রাজধানী ছেড়েছেন যাত্রীরা। নির্ধারিত টিকিটধারীর চেয়ে তিন-চারগুণ যাত্রী ট্রেনে ভ্রমণ করছেন।

ট্রেন দেরিতে আসছে, দেরিতে ছাড়ছে। এছাড়া সড়কপথে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাশে দীর্ঘ ৪০ কিলোমিটার এবং সেতুর পশ্চিম পাশে প্রায় ১৮ কিলোমিটারের মতো দীর্ঘ যানজট।

আরও পড়ুন : বিএনপি-জামায়াত বিষধর সাপের চেয়েও ভয়ঙ্কর; নানক

কমলাপুর স্টেশন থেকে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস গতকাল সকাল ৬টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ট্রেনটি স্টেশনে এসে পৌঁছায় সকাল সোয়া ১০টার পরে। এরপর ট্রেনটি ছাড়ার সম্ভাব্য সময় ১০টা ৪০ মিনিটে বলা হলেও ছেড়ে যায় সকাল ১১টায়।

চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন সকাল ৮টায় স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও পরে ছাড়ার নির্ধারিত সময় দেয়া হয় বেলা ১২টা ৫ মিনিটে। রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ১২টা পর্যন্ত স্টেশনে এসে পৌঁছায়নি।

দিনাজপুর-পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেন কমলাপুর ছেড়ে যাওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল ১০টায়। পরে সেটি স্টেশন ছেড়েছে সকাল সাড়ে ১১টায়। রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেসের নির্ধারিত সময় সকাল ৬টা। কিন্তু ট্রেনটি রাজশাহী থেকে ১০টা ১৫ মিনিটে কমলাপুর স্টেশনের ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে পৌঁছায়।

কমলাপুরে রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী শাবানা আক্তার বলেন, সকাল ৯টার আগেই স্টেশনে এসে পৌঁছেছি। এখন বেলা ১২টা। সম্ভাব্য সময়ও দেয়া হয়নি। দুপুর ২টায়ও ট্রেনে উঠতে পারবো কিনা জানি না। বাচ্চাদের নিয়ে সমস্যায় পড়েছি।

নীলসাগর এক্সপ্রেসের যাত্রী লায়লা আক্তার জানান, তিন সন্তান আর বৃদ্ধা মাকে নিয়ে চার ঘণ্টা অপেক্ষায় আছেন। চার ঘণ্টা পর ট্রেনটি এসেছে। এটি নাকি আরও ১ ঘণ্টা বিলম্বে স্টেশন ছেড়ে যাবে। কমলাপুর রেলস্টেশন ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ঈদ উপলক্ষে যেসব ট্রেন বিলম্বে চলছে, সেগুলোকে আমরা শিডিউল বিপর্যয় বলতে চাচ্ছি না।

সড়কপথ : এদিকে সড়কপথে যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল চরমে। অনেক কোম্পানির বাস নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দুই-তিন ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে।

উত্তরবঙ্গগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের কাউন্টার কর্মী রবিউল ইসলাম জানান, সকাল থেকে গাড়িগুলো যথাসময়ে ছাড়লেও দুপুরের পর টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও কড্ডার মোড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে নির্ধারিত সময়ে বাসগুলো কাউন্টারে পৌঁছতে পারছে না। ফলে শিডিউল ঠিক রাখা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন : সেলফি তুলে জেনে নিন আপনার রক্তচাপ কত!

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে মুলিবাড়ি রেলক্রসিং থেকে হাটিকুমরুল মোড় পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা কড্ডার মোড় থেকে নলকা সেতুর ১৪ কিলোমিটার অংশে। ওই মহাসড়কে যানবাহন আটকা থাকায় দুর্ভোগে পড়েন উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীরা।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই পোর্টালের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!