ঘাটাইলের মাঠ জুড়ে দুলছে হলুদের বর্ণিল সমারোহ

ঘাটাইলের মাঠ জুড়ে দুলছে হলুদের বর্ণিল সমারোহ

:: টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ::

সবুজ শ্যামল প্রকৃতি ও ষডঋতুর এই দেশে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বদলে গেছে ফসলের মাঠের চিত্র। ঋতু বৈচিত্র্যের এ খেলার ধারাবাহিকতায় এবার শীতে সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য পাল্টে দিয়েছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ানাধীন ফসলের মাঠের দৃশ্যপট।

উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এ মৌসুমে ব্যাপক সরিষার চাষ করা হয়েছে। মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত ফসলের মাঠ। চারিদিকে এখন শুধু সরিষা ফুলের হলুদ রঙের বর্ণিল সমারোহ। মৌমাছির গুনগুন শব্দে ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহ আর প্রজাপতির এক ফুল থেকে আরেক ফুলে পদার্পণ এ অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যিই যেন মনোমুগ্ধকর এক মুহূর্ত। সকালের মিষ্টি রোদ আর বিন্দু বিন্দু শিশির ছুঁয়ে যায় সেই ফুলগুলোকে। সরিষা ফুলের হলুদ হাসিতে রঙিন এখন উপজেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠ।

কেউ আবার এই ফুরের ভিতরে নিজের সেলফি তুলে নিজেকে একটু রাঙিয়ে নিচ্ছে। জানা গেছে, সরিষা চাষে খরচ অনেক কম কিন্তু লাভটা বেশি হওয়ায় অনেকেই সরিষা চাষে আগ্রহী। এ মৌসুমে অনেক কৃষক সরিষা শাক ব্যবসায় কভাবে উৎপাদন করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে। সরিষার তে হলুদ ফুলে যেন দিক দিগন্ত রাঙিয়ে দিয়েছে। হলুদ হাসিতে একাকার বিস্তীর্ণ মাঠ। প্রতিবছর সরিষার ফলন ভাল হওয়ায় বাড়ছে সরিষার চাষাবাদ। তাই চলতি মৌসুমে পাল্টে গেছে উপজেলার দিগন্ত জোড়ো মাঠের চিত্রও। প্রকৃতি যেন নতুন রূপে হলদে শাড়ি পরা তরুণীর সাজে সজ্জিত হয়ে আছে। মাঠের পর মাঠ শুধু সর্ষে ফুলের হলুদ হাসিতে রাঙিয়ে দিয়েছে এ উপজেলার বাস্তব চিত্র। সরেজমিনে যশোর সদর উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের কৃষক হাবিব মিয়ার সাথে আলাপকালে জানা যায়, বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই তারা সরিষার বীজ বুনে থাকে। কম সময়ে এ ফসল কৃষক ঘরে তুলতে পারে দ্রত। যে জমিতে কৃষক সরিষা বুনেছে এগুলোতে একসময় প্রচুর আলু আবাদ করতো বলে জানান তিনি। কিন্তু আলুতে তেমন লাভবান হচ্ছে না বিধায় এখন প্রায় আলুর জমিতে সরিষা বুনেছেন তারা। তিনি আরও বলেন, সরিষাসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্যের ক্ষেত্রে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকলে এখানকার কৃষকরা আরো বেশি উপকৃত হতো।

উপজেলার কান্দুলিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের ও গৌরাঙ্গী গ্রামের কৃষক লেবু মিয়া জানান, এবার চার বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। প্রাকৃতিক দুযোর্গ না হলে বাম্পার ফলনের আশা করছেন। এতে খরচ বাদে প্রতি বিঘায় ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা আয় হবে।

এ ব্যাপারে ঘাটাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. উম্মে হাবিবা জানান, উপজেলায় ২ হাজার ২ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। কম খরচে অধিক মুনাফা হওয়ায় প্রতি বছরই সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর আমাদের ৫৫৭ হেক্টর জমিতে আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে ।

সরকারী ভাবে ও বিভিন্ন প্রকল্পের সহায়তায় উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষার আবাদ ভবিষ্যতে আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল সরিষা আবাদের জন্য সব সময়ই উৎসাহ ও সহায়তা করে থাকি। উপযুক্ত বীজ নির্বাচন, সুষম সার প্রয়োগে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকি। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই পোর্টালের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!