টাঙ্গাইলে পোল্ট্রি খামারের বর্জে নষ্ট হচ্ছে আবাদি জমি ও পরিবেশ, এলাকাবাসী বিপাকে

টাঙ্গাইলে পোল্ট্রি খামারের বর্জে নষ্ট হচ্ছে আবাদি জমি ও পরিবেশ, এলাকাবাসী বিপাকে

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ::

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পোল্ট্রি খামারিদের খামারের বর্জে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশসহ আশেপাশের আবাদী জমি। এতে করে পুকুরের মাছসহ আবাদি জমি চাষবাদের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য।

জমির মালিকসহ এলাকাবাসীরা পড়েছেন চরম দূর্ভোগে। শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে নানা ধরনের জটিল রোগে। এলাকার ভূক্তভোগীরা এ বিষয়ে প্রশাসনের নিকট একেএকে দুইবার লিখিত অভিযোগ করলেও এর কোন সুরাহা হয়নি বরং উল্টো পোল্ট্রি খামারিদের হুমকীর শিকার হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে কালিহাতী উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের কুটুরিয়া গ্রামে।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, মো. হোসেনের ছেলে ছিদ্দিক হোসেন প্রভাবশালী হওয়ায় নিরিহ মানুষের বাড়ির পাশে এক এক করে চারটি পোল্ট্রি ও লেয়ার মুরগির খামার গড়েছেন। খামারের প্রায় ৫ সহশ্রাধিক মুরগির জন্য ব্যবহৃত পানি, বিষ্ঠা, বর্জ নালার মাধ্যমে আশেপাশের প্রায় ৪০/৫০ বিঘা জমিতে প্রবেশ করায় ফসলি জমিগুলো আবাদের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগি জমির মালিকরা তাদের জমিতে অনেক চেষ্টা করেও কোন ফসল উৎপাদন করতে পারছেন না।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, খামারের আশেপাশের জমির মালিক কুতুব উদ্দিন, আহাম্মদ আলী, রফিকুল হোসেন, মিন্টু মিয়া, আবু হানিফ মন্ডল ও আব্দুস সালামসহ স্থানীয়রা পোল্ট্রি খামারের বর্জে শুধু আশেপাশের জমিই নষ্ট হচ্ছে না দূর্গন্ধে এলাকায় টেকে থাকা দায়। ব্যবসা বাণিজ্য, মসজিদে নামাজ আদায় ও চলাফেরা করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। কলেজ ছএ রাব্বি হোসেন জানান, মুরগির বর্জের গন্ধে এলাকা দূষিত হয়ে পড়েছে এবং এলাকার ছাত্রছাত্রীরা অনেকেই অসুস্থতার কারণে কলেজে যেতে পারছে না।

স্থানীয়রা আরও জানান, খামার মালিক ছিদ্দিক কারো কথা শুনেন না। তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে ওই ব্যক্তিকে নানা হয়রানী করে বিপদে ফেলার চেষ্টা করেন। বাড়ির পাশে মরা মুরগি, মুরগির বিষ্ঠা ফেলে দিয়ে সাধারণ জীবন যাপনে বিঘ্ন ঘটাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদপ্তর কর্মকর্তা বরাবর গণস্বাক্ষর সম্বলিত একটি লিখিত আবেদন করেছিলেন গত কয়েকদিন আগে। অথচ এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। উল্টো পোল্ট্রি খামার নিয়ে অভিযোগ করা ভূক্তভোগীরা খামার মালিক ছিদ্দিক হোসেনের রোশানলে পড়েছেন।

উপজেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিম আরা নিপা লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরে কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। তার প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই পোর্টালের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!