যমুনার ভূয়াপুর চরাঞ্চলের ‘ঘোড়ার গাড়ি’ এখন পরিবহণ

যমুনার ভূয়াপুর চরাঞ্চলের ‘ঘোড়ার গাড়ি’ এখন পরিবহণ

:: বিডি নিউজ বুক প্রতিবেদক ::

যমুনার ভূয়াপুর চরাঞ্চলে এখন ‘ঘোড়া গাড়ি’ পরিবহণ হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে। প্রায় দেড় যুগ আগেও পরিবহনের জন্য ছিল না তেমন কোন কিছু। বর্ষা মৌসুমে নৌকায় আর শুকনো মৌসুমে মাইলের পর মাইল ধূঁ-ধূঁ বালুচর পায়ে হেঁটেই প্রয়োজনীয় মালামাল মাথায় নিয়ে হাটে যেতে হতো গন্তব্যস্থানে।গ্রামাঞ্চলের পথে পরিবহন বলতে ছিল গরু ও মহিষের গাড়ি। কালের পরিবর্তনে এখন প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে অধিকাংশ গরু ও মহিষের পরিবহন। বর্তমানে আধুনিকতায় ছোঁয়ায় অটো-ভ্যান, অটো-রিকশাসহ বিভিন্ন ধরণের যান্ত্রিক গাড়ি দখল করে নিয়েছে গ্রামাঞ্চলের পথ ঘাট। আধুনিক যুগে গরু ও মহিষের গাড়ি বিলুপ্তি হলেও টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার দুর্গম যমুনার চরাঞ্চলে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ঘোড়ার গাড়ি।

এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠদের নিকট থেকে জানা যায়, গরু ও মহিষের গাড়ি ছিল সেসময়ে অন্যতম পরিবহন। ঘোড়ার গাড়ি বলতে ছিল সে সময়ে রাজা-বাদশা ও জমিদারদের পরিবহন। সাধারণ মানুষের কল্পনার বাহিরে ছিল ঘোড়ার গাড়িতে উঠা। যমুনার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে সব ধরণের মানুষের রাজকীয় আদলে না হলেও বর্তমান সময়ে ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে পরিবহন এখন বেশ জনপ্রিয় এই চরাঞ্চলবাসীদের।

উপজেলার পুংলীপাড়া গ্রামের ঘোড়া চালক মো. শাহ কামাল বলেন, এখন যমুনা চরাঞ্চল মরা। শুকনো মৌসুমে উঁচু নিচু বালু আর বালু । এ চরাঞ্চল এলাকার জমি থেকে উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলার জন্য ঘোড়া গাড়ি একমাত্র বাহক। কেননা মাইলের পর মাইল বালুচর পায়ে হেঁটে মাথায় করে ফসল বাড়িতে নিয়ে আসা খুবই কষ্টকর। তাই বর্তমানে এ চরাঞ্চলে মালামাল ও বিভিন্ন ধরণের পরিবহনের জন্য ঘোড়ার গাড়ি প্রধান মাধ্যম। তবে বর্ষার সময়ে ঘোড়ার গাড়ির ব্যবহার হয় না।

যমুনা চরাঞ্চলের মানুষদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চরাঞ্চলের উৎপাদিত ফসল, বাদাম, ভুট্টা, মসুর ডাল, কাউন, খেসারি ডাল, বোরো ধান, মিষ্টি আলু, কাঁশফুলের শুকনো খড় ইত্যাদি ফসল জমি থেকে ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ীতে আনা হয় ।
সরেজমিনে উপজেলার গাবাসারা, অর্জুনা ও নিকরাইল ইউনিয়নের অধিকাংশ ঘোড়ার গাড়িতে সব ধরণের কৃষি পণ্য ও মালামাল নিয়ে আসা হচ্ছে। চালক হিসেবে বেশী ভাগ ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সের ছেলেরা পরিবারে অভাব-অনটন, বাল্যশিক্ষা থেকে ঝড়ে পড়া ও সংসারের হাল ধরতেই তারা এ পেশা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে ।

ঘোড়ার গাড়ি চালক মো. শফিকুল ইসলাম, মো. চান মিয়া. আ. রশিদ জানান, সংসারে অভাব অনটনের কারণে লেখা পড়া করতে পারি না্ই। জীবন চালানোর জন্য এখন ঘোড়ার গড়ি চালিয়ে সংসার চালাই। দিন তাতে করে ভালোই টাকা পয়াসা পাই। নিজে ঘোড়ার গাড়ি চালানো পাশাপাশি ২ টি আরো গাড়ি বানিয়ে ভাড়া দিছি। তাতে করে আমাদের ভালোই চলছে।

এদিকে যমুনা চরাঞ্চলে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরণের কৃষি পণ্য ও পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ি ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। চরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চলাচলের রাস্তা-ঘাটের অভাবে যেখানে আধুনিক যান্ত্রিক পরিবহন গাড়ি চলতে পারে না সেখানে বালুকে উপেক্ষা করে ঘোড়ার গাড়িতে পরিবহনে মানুষের নানা ধরণের সুবিধা দিয়ে আসছে। চরাঞ্চলের জমি থেকে উৎপাদিত ফসল বাড়িতে নিয়ে যেতে জুড়ি নেই এই ঘোড়ার গাড়ি। যার কারণে যান্ত্রিক যুগেও দিন দিন জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে যমুনা চরাঞ্চলের মানুষের কাছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই পোর্টালের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!