আপনার সন্তানের সাথে বন্ধু হয়ে উঠুন

আপনার সন্তানের সাথে বন্ধু হয়ে উঠুন

:: মঈন আব্দুল্লাহ ::

কে বলে যে মা-বাবা তাদের সন্তানের কাছের বন্ধু হয়ে উঠতে পারবেন না? মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক প্রশ্নাতীত। তাই মায়ের সঙ্গেই তার যত দাবি-দাওয়া, চাওয়া-পাওয়া, আলোচনা। শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করা খুবই জরুরি। আপনি হয়তো ভাবছেন শিশুদের খেলার পরিবেশ তৈরি করে দেবেন তাহলেই তো হল। কিন্তু এটাই যথেষ্ট নয়। শিশুদের সঙ্গে নিজেও খেলাধুলায় মেতে উঠুন। তাই সব সফল সম্পর্কের ভিতই হচ্ছে বন্ধুত্ব। সেই তালিকা থেকে বাদ পড়বে না মা-বাবা ও সন্তানের সম্পর্কও। শুনে অবাক হলেন নাকি? অবাক হওয়ার কিছু নেই। ভেবে দেখুন, আপনি আপনার সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতালে, তার সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিলে তাকে মানুষ করাও সহজ হয়ে উঠবে। একটা সময় ছিল যখন মা-বাবা শুধুই সন্তানের অভিভাবক। কিন্তু এখন যুগ বদলেছে। এখনকার ছেলেমেয়েরা অনেক বেশি স্বাধীনচেতা। তাদের মানুষ করতে হলে তাদের জগতের একজন হয়ে উঠতে হবে আপনাকে। আপনার সন্তানের বন্ধু হয়ে উঠলে খুব সহজেই তার বিশ্বাস অর্জন করতে পারবেন, তাকে মানুষ করাও সহজ হয়ে উঠবে। কিন্তু একজন বাচ্চার সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতানো খুব একটা সহজ কাজ নয়। বেশিরভাগ বাচ্চাই প্রাপ্তবয়স্কদের খুব একটা বিশ্বাসের চোখে দেখে না। তাদের জগতে ঢোকার কোনো নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড নেই। বিশ্বাস অর্জন করতে হলে আপনাকে তাদের মতো করে ভাবতে হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মায়ের সঙ্গেই সন্তানের বন্ধুত্বটা খুব বেশি। কিন্তু কখনও কখনও একজন বাবা যে মায়ের থেকেও সন্তানের অনেক ভালো বন্ধু হতে পারেন, তা আমাদের অনেকেরই জানা নেই। আসুন জেনে নেই-

একজন বাবাকে ভালো বন্ধু

হতে হলে কী করতে হবে-
কথা দিয়ে কথা রাখুন, আপনার শত ব্যস্ততা থাকতে পারে কিন্তু সন্তানের ছোট ছোট চাওয়াকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
প্রথম থেকেই বাড়ির এবং বাইরের কাজ সমানভাবে ভাগ করে নিন স্ত্রীর সঙ্গে। ছেলেমেয়েরা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ওপরও দায়িত্ব দিন, যাতে পুরো পরিবার একটা অভিন্ন ইউনিট হিসেবে সংসারের কাজ করতে পারে। ছেলেমেয়ের সঙ্গে তাদের মায়ের নানা দোষ নিয়ে মজা করবেন না। আপনার সুন্দর ব্যবহার এবং অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ওদের চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব গঠনে প্রভাব ফেলবে। সন্তানকে নিয়মিত সময় দিন। পড়াশোনায় সাহায্য, বেড়াতে যাওয়া, ছুটির দিনে একসঙ্গে খেলা ইত্যাদি। বাচ্চার জামা-কাপড় বদলানো, ডায়পার বদলানো, ঘুম পাড়ানোর মতো কাজকে মেয়েলি বলে তুচ্ছ করবেন না। বাবা হয়ে মাঝে মাঝে এ কাজগুলো করলে সন্তানের সঙ্গে আপনার বন্ধন আরও নিবিড় হবে। আপনি যে কাজগুলো ভালো পারেন, সেগুলো ধীরে ধীরে আপনার ছেলেমেয়েকে শিখিয়ে দিন। ছেলেমেয়েদের পছন্দের কাজগুলো করতে উৎসাহ দেখান। ওরা বুঝতে পারবে যে ওদের সঙ্গে আপনি সব সময় রয়েছেন।

সব ধরনের নেশা বা মাদক থেকে দূরে থাকুন। আপনার কাজ, পছন্দ, রুচি এবং বিভিন্ন আচরণ শিশুদের মধ্যে প্রভাব ফেলে। আর ধূমপানের মতো খারাপ অভ্যাস শুধু নিজের জন্যই নয় প্রিয়জনের স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।

সন্তানকে নিজের মতো বড় হতে দিন। নিজের অপূর্ণ ইচ্ছা ওর ওপর চাপিয়ে দেবেন না। তাকে স্বপ্ন দেখাতে সাহায্য করুন।

সন্তানকে স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে দেখুন

আমরা অনেক সময় ভুলে যাই যে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো বাচ্চাদেরও নিজস্ব অনুভূতি, পছন্দ-অপছন্দ মতামত রয়েছে। সন্তান ‘মানুষ’ করতে গিয়ে তারা যে এক একটা খুদে মানুষ, সে কথা আমরা মনে রাখি না। ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতানোর প্রথম ধাপই হবে ওকে একজন স্বতন্ত্র মানুষ হিসেবে স্বীকার করা। হতে পারে সে বয়সে, অভিজ্ঞতায়ও আপনার সমকক্ষ নয়, কিন্তু কখনোই ওকে আপনার অধস্তন ভাববেন না। বড়রা অনেক সময় বাচ্চাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা জমাতে ব্যর্থ হন কেননা অজান্তেই তারা এ বাচ্চাদের তাচ্ছিল্যের চোখে দেখে ফেলেন। কিন্তু ওকে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে ভাবলে, সন্তানের নিজের প্রতিও বিশ্বাস জন্মাবে।

শিশুদের বন্ধু হওয়ার এটাই সুযোগ
আমরা মনে করি শৈশবে শিশুদের প্রয়োজন আদর আর শাসন। কৈশোরে বন্ধুত্ব। কিন্তু এটা কখনোই সম্ভব নয়। আপনাকে শৈশব থেকেই বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে হবে। হঠাৎ করে বন্ধু হতে গেলে আপনার সন্তান সেটিকে তার ব্যক্তিগত জীবনে অনধিকারচর্চা হিসেবে ধরে নিতে পারে। তাই তার সঙ্গে খেলুন, গল্প করুন, তার বন্ধুদেরও বন্ধু হয়ে উঠুন।

উৎসাহ জোগান
একজন প্রকৃত বন্ধুর কর্তব্যই হল তার বন্ধুকে সব কাজে উৎসাহ জোগানো। ওর প্রচেষ্টা বা উদ্যমকে সব সময় যথাসম্ভব সম্মান জানাবার চেষ্টা করুন। চেষ্টা করুন ওর সব কাজে ওর পাশে থাকতে। নিজের বিছানা গোছানো থেকে আপনার ব্যাগ বহন করা, ওর সব কাজের তদারকি করতে ভুলবেন না। এতে ও আপনাকে নিজের বেস্ট ফ্রেন্ড ভাবতে শুরু করবে। একবার নিজের সন্তানের বিশ্বাসী বন্ধু হয়ে উঠলে তাকে মানুষ করাও পানির মতো সোজা হয়ে উঠবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই পোর্টালের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!