সর্বশেষ:
বগুড়ায় বাসের চাপায় সিএনজির ৪ যাত্রী নিহত ধনবাড়ীতে পিকআপ ভ্যান ও ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত -১ : আহত ৫ ‘ঘরই কাল হলো লাকির’ সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে বগুড়ায় সাংবাদিকদের মানববন্ধন বীর মুক্তিযোদ্ধা কয়েস উদ্দীনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন চলে গেলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ পৌর নির্বাচনে বগুড়ায় সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে সুজনের পদযাত্রা ও মানববন্ধন সাপাহারে অবৈধভাবে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে ২২ টি স’মিল মান্দায় বঙ্গবন্ধু’র ম্যুরাল নির্মান কাজের উদ্বোধন সাপাহারে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন
কুড়িগ্রামের ডিসি ভাইরাস

কুড়িগ্রামের ডিসি ভাইরাস

সারা পৃথিবীই কিছুদিন হলো এক মারাত্মক ভাইরাসে আক্রান্ত। নাম করোনাভাইরাস। জানি না পরিস্থিতি বাংলাদেশে কখন কেমন দাঁড়াবে; তবে সতর্কতা ও প্রতিরোধ প্রস্তুতি কতটা তা সঠিকভাবে না জানা থাকলেও আক্রান্তের আশঙ্কা পুরোপুরিই বিদ্যমান। কিন্তু বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম জেলা শহরে কর্মরত সাংবাদিকরা ডিসি ভাইরাসে ভয়ানকভাবে আক্রান্ত। ভাইরাসটি এমনই কল্পনাতীত যে, সেখানে কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনের সংবাদদাতা আরিফুল ইসলামের বাড়িতে ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ পাঠিয়ে গভীর রাতে তাদের দিয়ে ওই সাংবাদিকের শোয়ার ঘরের দরজা ভেঙে ঠুকে তাকে তুলে নিয়ে এসে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জেলে পাঠানো হয়।

আরিফুল ইসলামের ব্যক্তিগত পরিচয়ের সুযোগ কদাপি ঘটেনি; সম্ভবত ঘটবেও না। কিন্তু ডিসির অপকর্মের বিরুদ্ধে সাহস করে খবর প্রকাশ করায় তাকে দূর থেকে অভিনন্দন জানাই। কী অসাধারণ ক্ষমতাধর কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন! তিনি চাইলেন, সেখানকার একটি পুকুর খনন করে তার নাম সুলতানা সরোবর রাখার। একটি মৌলিক চিন্তা নিঃসন্দেহে। এই মৌলিক চিন্তার মৌলিকত্ব অনুধাবন না করে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম এর বিরোধিতা করে খবর বের করলেন। তা ছাড়াও ওই জেলা প্রশাসকের কথিত কর্মকর্তার দুর্নীতির খবরও তিনি প্রকাশ করলেন।

একবিংশ শতাব্দীর সিকিভাগে পৌঁছে জনগণের সেবার দায়িত্বে এসে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন আরিফুল ইসলামকে একটা উচিত শিক্ষা দিতে অগ্রসর হলেন। সাংবাদিকের বাড়িতে গভীর রাতে কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও আনসার পাঠিয়ে ঘুমন্ত আরিফুল ইসলামের শোয়ার ঘরের দরজা ভেঙে তাকে তুলে আনলেন। অতঃপর ওই রাতেই বসানো হলো ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই আদালত এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়ে আরিফকে পাঠিয়ে দিলেন কারাগারে ওই রাতেই।

মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ পূরণ হলো ১৭ মার্চ। তা ওই জেলা প্রশাসক জানেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলেও জানা গেল। তিনি নিশ্চয়ই ঘটা করে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী যথাযথভাবে উদযাপনও করলেন। কিন্তু সুলতানা পারভীন কি জানেন- বঙ্গবন্ধু গণতন্ত্র, ব্যক্তিস্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন এবং অবিরাম সংগ্রাম করে গেছেন? অবশ্য সে কারণে তিনি দফায় দফায় সুদীর্ঘ কারাজীবনও ভোগ করতে বাধ্য হয়েছেন।

সুলতানা পারভীনের ভালোভাবেই জানার কথা যে, এমন কারাদণ্ড বঙ্গবন্ধুকে এতটুকুও কাবু করতে পারেনি। তিনি তাঁর অগণিত সহকর্মী, সহযোদ্ধা ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সংগ্রাম চালাতে চালাতে দেশি-বিদেশি সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে ১৯৭১ সালে এসে দূরদেশের কারাগারে থেকেও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সফল নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। এ কারণেই তো মানুষ তাঁকে বঙ্গবন্ধু খেতাবে সম্মানিত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর লড়াই-সংগ্রাম-আন্দোলন ও তাতে বিজয় অর্জনের পর এখন সুলতানা পারভীনরা সেই লড়াইয়ের বেনিফিশিয়ারি হয়েই ডিসি হতে পেরেছেন এবং অনেক ওপরের পদমর্যাদায়ও স্থান করে নিতে পারবেন। কিন্তু সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম যখন অসংকোচে সত্য প্রকাশ করে তাঁর জেলার ডিসির অপকর্মের, ক্ষমতা অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দু’কলম লেখেন এবং তা প্রকাশিত হয়, তখন সুলতানা পারভীন ও তার মতো ডিসিরা বা ছোট-বড় আমলাদের একাংশ তা সইতে না পেরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বেআইনি ও ক্ষমতাবহির্ভূত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বিন্দুমাত্র পরোয়া করেন না। তাই আরিফুল ইসলামরা হন নির্যাতিত ও নির্মম অত্যাচারের শিকার।

এক পর্যায়ে এসে জানতে পারলাম, সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ডিসি সুলতানা পারভীনকে বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রত্যাহার করে নিয়েছে এবং ওই ডিসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঘটনা এটুকুই। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িত বহু প্রশ্ন। এক. তাহলে অপরাধী কে? জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন? দুই. যদি সাংবাদিক অপরাধী হয়ে থাকেন অর্থাৎ যদি তিনি মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে থাকেন এবং মাদকদ্রব্য ঘরে রেখে থাকেন, তবে আইনত বাধ্যতামূলক তা কি সরকারিভাবে গৃহীত হয়েছিল? তিন. রাতের বেলায় সাংবাদিক বা যে কোনো নাগরিকের বাড়িতে কি সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়া কোনো পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তা আইনত ঢুকতে পারেন? চার. কোনো নাগরিকের ঘরে রাতের বেলায় ঢুকে কি কোনো সরকারি লোক কারও ঘরের দরজা ভেঙে অনুপ্রবেশ করতে বা তাকে মারধর করাসহ জোর করে তুলে নিয়ে যেতে পারেন? পাঁচ. এভাবেই কোনো সাংবাদিক বা নাগরিককে কালেক্টরেট বিল্ডিংয়ে রাতের বেলার তুলে নিয়ে তার কাপড় খোলার মতো অশ্নীল, বিকৃত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায়? যদি তিনি প্রকৃত অপরাধী হন, তবুও কি এগুলো করার আইনগত কোনো সুযোগ আছে? ছয়. সাংবাদিক আরিফুলের ঘর থেকে মাদকদ্রব্য কি সত্যই উদ্ধার হয়েছিল? হয়ে থাকলে তার জব্দ তালিকা কোথায়? তাতে বেসরকারি সাক্ষী ও সরকারি সাক্ষী হিসেবে কে কে স্বাক্ষর করেছেন?

আরিফুলের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগই ভিত্তিহীন। তাই তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটিরও কোনো আইনগত ভিত্তি না থাকায় বিনাশর্তে মামলাটি প্রত্যাহারযোগ্য হওয়ায় অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করে নিয়ে আরিফুলের পূর্ণ স্বাধীনতা (আদালতে হাজিরা প্রভৃতি থেকে অব্যাহতি) দেওয়া হোক। ডিসি সুলতানা পারভীন কেন মারাত্মক অপরাধগুলোতে দোষী হওয়া সত্ত্বেও শুধু কুড়িগ্রাম থেকে প্রত্যাহার ও বিভাগীয় মামলার নামে লোক দেখানো ব্যাপার করা হবে? যা প্রয়োজন তা হলো, সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার; মিথ্যা অজুহাতে সাংবাদিক নির্যাতন; সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের মানহানি; সাংবাদিকের বাড়িতে রাতে বেআইনিভাবে একদল ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ-আনসার পাঠিয়ে অনুপ্রবেশ করিয়ে দরজা ভাঙার ক্ষতিপূরণ প্রভৃতি নির্দিষ্ট অভিযোগে অবিলম্বে ফৌজদারি মোকদ্দমা দায়ের করা। এসব পদক্ষেপই পারে নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার সংরক্ষণ করতে।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, ঐক্য ন্যাপ

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই পোর্টালের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!