বারহাট্টায় এক বৃদ্ধা ভিক্ষুক মসজিদে ৩১ হাজার টাকা দান করলো

বারহাট্টায় এক বৃদ্ধা ভিক্ষুক মসজিদে ৩১ হাজার টাকা দান করলো

:: আজিজুল হক ফারুক – নিজস্ব প্রতিবেদক ::

ভিক্ষে করে জীবন চালানো ৯০ বছরের শীর্ণ দেহের এক বৃদ্ধ মহিলা তার সারাজীবনের ভিক্ষে করে জমানো ৩১ হাজার টাকা দান করলেন মসজিদে ।

এই মহৎ ব্যক্তি নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের জয়গন। বয়সের ভারে ন্যুজুৃ জয়গনের কোন সন্তানাদি নেই। স্বামী অনেক আগেই মারা গেছেন। বর্তমানে বারহাট্টা বিএডিসির কীটনাশক রাখার পরিত্যক্ত বসবাসের অনুপোযোগী ছোট্ট একটি রুমে তার বসবাস। কাছাকাছি কোন বাড়ি ঘর নেই। একাই থাকে। নিজেই কষ্ট করে রান্না করে খায়, না পারলে না খেয়ে থাকে। ভিক্ষে করার পর যতটুকু সময় তার কাছে থাকে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী করে।

যে বয়সে একটু আরাম আয়েশ করার কথা সেখানে সে প্রতিদিন শরীরের ক্ষমতায় যতটুকু পারে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে হাত পাতে। মানুষ দয়া করে যা দেয় তাই থেকে নিজের প্রয়োজনে খরচ করার পর যা থাকে তা বারহাট্টা পশু হাসপাতাল রোড, শান্ত ভেটেরিনারী কর্ণারের মালিক মোঃ নূরুল ইসলাম খান (নজরুল) এর কাছে জমা রাখেন।

সৎ ব্যক্তি নূরুল ইসলাম খান জানান, ৮ মে ২০১১ থেকে আমার কাছে ভিক্ষে করার টাকা জমা রাখে। বর্তমানে তার জমানো টাকা ৩৯ হাজার ১শত। নূরুল ইসলাম খান আরো জানান, আমাদের গোপালপুর রেল কোয়াটার জামে মসজিদটি মুসুল্লিদের নামাজ পরার অনুযোগী। আমরা চিন্তা ভাবনা করছি মসজিদের নির্মাণ কাজ ধরব। এই বৃদ্ধা জয়গন মসজিদের পাশ দিয়ে প্রতিদিন যায় এবং মসজিদের দিকে তাকিয়ে থাকে।

এক পর্যায়ে বলে ‘বাবাজি মসজিদের কামডা ধরুইন্যা কেরে? মরণের আগে একটু দেইখ্যা যাইতাম।’ আমি বলি খালা টাকা পয়সা তো নাই। কিভাবে ধরি। কিছুদিন পর সে আমার দোকানে আসে এবং বলেÑ ‘বাবাজি দেহুইনছে আমার কয় টেহা জমা অইছে?’ আমি খাতা দেখে বললাম- ৩৯ হাজার ১শত টাকা।

তখন সে বলে ‘বাবাজি আপনে আমার জমা পুরাডা টেহা মসজিদে দেলাইন।’ আমি বললাম সব টাকা দিয়ে দিলে আপনি এই বয়সে খাবেন কি? আপনাকে দেখবে কে? আর আমরা চাইনা আপনি মরার পর অন্যের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আপনার দাফন কাফনের ব্যবস্থা করি। আপনি যদি দিতে চান তাহলে ৩১ হাজার টাকা দান করুন। বাকিটা থাকুক।

বৃদ্ধা জয়গন বলেন ‘আপনি যা বালা মনে করুইন।’ তখনই মহল্লার কয়েজনের মোকাবেলায় তার জমানো টাকার মধ্য থেকে ৩১ হাজার টাকা মসজিদের ফান্ডে জমা করি এবং এই বৃদ্ধার জমানো টাকা দিয়েই তার মনের সন্তুষ্টির জন্য আমরা মসজিদের কাজ আরম্ভ করি। বর্তমানে মসজিদটির কাজ চলমান। বৃদ্ধা জয়গণকে জিজ্ঞেস করলে আপনি আপনার সারাজীবনের জমানো টাকা মসজিদে দান করলেন কেন? এখন চলবে কিভাবে ? জবাবে জয়গন বলেন ‘আমি আখেরাতের লাইগ্যা দান করছি আর আল্লাই চালাইব।’

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই পোর্টালের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!