নালিতাবাড়ীতে মাদরাসা প্রধানের বিরুদ্ধে অসুস্থ শিক্ষকের বেতন কর্তনের অভিযোগ

নালিতাবাড়ীতে মাদরাসা প্রধানের বিরুদ্ধে অসুস্থ শিক্ষকের বেতন কর্তনের অভিযোগ

:: শেরপুর প্রতিনিধি ::

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সূর্যনগর বড়ডুবি আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একই মাদরাসার শারীরিকভাবে অসুস্থ এক সহকারী মৌলভী শিক্ষকের প্রতিমাসের বেতনের অর্ধেক টাকা প্রক্সি শিক্ষকের নাম করে কর্তন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ২২ এপ্রিল একটি লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সূর্যনগর বড়ডুবি আলিম (এইচএসসি সমমান) মাদরাসায় ১৯৭৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সহকারী মৌলভী হিসেবে নিয়োগ পান শ্রীবরদী উপজেলার পোড়াগড় গ্রামের খলিলুর রহমান। এরপর ১৯৭৬ সালের পহেলা জানুয়ারি তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করে শিক্ষকতা শুরু করেন। ২০১৫ সালে হঠাৎ তিনি শারিরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে পাঠদান চালিয়ে যেতে প্যারা শিক্ষক হিসেবে তারই ছেলে মাওলানা জামাল উদ্দিনকে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অধ্যক্ষের আপত্তি থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে অসুস্থতা দীর্ঘায়িত হলে সহকারী শিক্ষক খলিলকে চাকুরীচ্যুতির হুমকী দিয়ে বেতন উত্তোলনের চেকবই জমা নেওয়া হয়। এরপর বারবার চাকুরী থেকে অব্যাহতির নোটিশ প্রদান করলে এ বিষয়ে খলিলুর রহমান শিক্ষা ভবন ও শিক্ষাবোর্ডে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে শিক্ষাবোর্ড উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়। শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর বিষয়টি মৌখিকভাবে নিষ্পত্তি করেন। কিন্তু অধ্যক্ষ মাওলানা সুরুজ্জামান বিষয়টি আমলে না নিয়ে ২০১৭ সালের শেষদিকে প্যারা শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন বলে খলিলুর রহমানের উত্তোলিত বেতনের প্রায় ২৩ হাজার টাকা থেকে প্রতিমাসে ১১ হাজার কেটে রাখা শুরু করেন।

জানা গেছে, প্রায় আড়াই বছর যাবত ভ্যানগাড়িতে শোয়ে শ্রীবরদী থেকে নালিতাবাড়ী এসে একটি করে চেক এর পাতা উত্তোলন করে টিপসই দিয়ে তারপর বেতনের টাকা উত্তোলন করছেন খলিলুর রহমান। তদুপরি সেখান থেকে প্রতিমাসেই ১১ হাজার টাকা কর্তন করে রেখে দিচ্ছেন অধ্যক্ষ সুরুজ্জামান। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে কোন প্যারা শিক্ষক নিয়োগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ সুরুজ্জামান জানান, খলিলুর রহমান দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় তিনি মাদরাসায় অনুপস্থিত। আমরা মানবিক কারণে চাকুরী থেকে অব্যাহতি না দিয়ে প্যারা শিক্ষক দিয়ে চালিয়ে নিচ্ছি। তাই বেতন থেকে প্রতিমাসে টাকা কর্তন করি।

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলামের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাক্ষাত ব্যতীত কথা বলতে অসম্মতি প্রকাশ করেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর বিডি নিউজ বুক টোয়েন্টিফোর ডট নেটকে জানান, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকলে মেডিকেল সনদ জমা দিয়ে ছুটি নেওয়া যায়। খলিলুর রহমান তা করেননি। তবে মানবিক কারণে বেতন কর্তন না করতে আমি অধ্যক্ষকে বলে দিয়েছি। এসময় প্যারা শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই পোর্টালের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!