ঘূর্ণিঝড় আম্ফান : ফসল রক্ষায় ১১ পরামর্শ

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান : ফসল রক্ষায় ১১ পরামর্শ

:: চপল মাহমুদ ::

করোনার মহামারীর মধ্যেই ধেয়ে আসছে আরেক দানব ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হচ্ছে। মঙ্গলবার শেষরাত থেকে বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা ধারণা করছেন। সম্ভাব্য দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে কৃষি ফসল রক্ষায় ১১টি পরামর্শ দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
এ পরামর্শ বাগেরহাট, বান্দরবান, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, গোপালগঞ্জ, যশোর, ঝালকাঠি, খাগড়াছড়ি, খুলনা, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নড়াইল, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, রাঙামাটি, সাতক্ষীরা ও শরীয়তপুর জেলার জন্য প্রযোজ্য।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ফসলে ভারী বৃষ্টি প্রভাব ফেলতে পারে। এ জন্য যে ফসলগুলো সংগ্রহ করা সম্ভব তা দ্রুত সংগ্রহ করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক বুলেটিনে কৃষকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে আঘাত হানলেও কৃষিতে বড় ধরনের ক্ষতির কোনো শঙ্কা দেখছে না সরকার।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে সম্ভাব্য দুর্যোগপূর্ণ ২৪টি জেলায় ১৯ থেকে ২১ মে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ঝড়ো হাওয়া এবং হালকা থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দ-ায়মান ফসলের ওপর ঝড়ো হাওয়া এবং ভারী বৃষ্টিপাত প্রভাব ফেলতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার জন্য নিম্নোক্ত জরুরি আবহাওয়াবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এক. বোরো ধান ৮০ ভাগ পরিপক্ব হয়ে গেলে দ্রুত সংগ্রহ করে ফেলুন।

দুই. সংগ্রহ করা ফসল পরিবহন না করা গেলে গাদা করে পলিথিন শিট দিয়ে ঢেকে রাখুন।

তিন. দ্রুত পরিপক্ব সবজি ও ফল সংগ্রহ করে ফেলুন। চার. বালাইনাশক প্রয়োগ থেকে বিরত থাকুন।

পাঁচ. পানির স্রোত থেকে রক্ষায় বোরো ধানের জমির আইল উঁচু করে দিন।

ছয়. নিষ্কাশন নালা পরিষ্কার রাখুন যেন জমিতে পানি জমে না থাকতে পারে।

সাত. খামারজাত সত পণ্য নিরাপদ স্থানে রাখুন।

আট. আখের ঝাড় বেঁধে দিন। কলা এবং অন্য উদ্যানতাত্ত্বিক ফসল এবং সবজির জন্য খুঁটির ব্যবস্থা করুন।

নয়. পুকুরের চারপাশে জাল দিয়ে ঘিরে দিন। ভারী বৃষ্টিপাতে পানিতে মাছ যেন ভেসে না যায়।

দশ. গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি শুকনো ও নিরাপদ জায়গায় রাখুন। এগারো. মৎস্যজীবীদের সমুদ্র গমন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হলো।

এদিকে হাওর অঞ্চলের শতভাগ এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে প্রায় ৯০ শতাংশের বোরো ধান কাটা শেষ হওয়ায় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলেও কৃষকদের তেমন ক্ষতি হবে না বলেই মনে করছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ফসলের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ মাঠে তেমন কোনো ফসল নেই। সামান্য পরিমাণে মাঠে রয়েছে পাকা ধান ও মুগ ডাল। এসবও প্রায় কাটা হয়ে গেছে।

এ ছাড়া খুলনা ও চট্টগ্রামে ৯০ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে। শুধু বরিশাল একটু পিছিয়ে আছে ধান কাটায়। সেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ ধান কাটা শেষ। তার পরও সরকারের সহয়তায় সেখানে পাকা ধান কাটার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, পটুয়াখালীতে সব থেকে বেশি মুগ ডালের আবাদ হয়। ইতোমধ্যে সেখানকার ৯০ শতাংশ মুগডাল ওঠানো হয়েছে। বাকিগুলোর দ্রুত ওঠানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে মাঠে এখন শুধু বাদাম আছে। ঝড় হলেও বাদামের তেমন ক্ষতি হবে না।
ঘূর্ণিঝড়ে সারাদেশে ফসলের কোনো প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী জানান, আশা করি এই ঘূর্ণিঝড়ে সারাদেশের ফসলে কোনো প্রভাব পড়বে না।

অন্যদিকে এই ঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়ার পর যেসব কৃষকের ধান ৮০ শতাংশের বেশি পেকেছে, সেগুলো কেটে ফেলতে সরকারের তরফ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান। তিনি বলেন, যে এলাকাগুলোয় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে তার মধ্যে শুধু বরিশাল জেলায় ৭০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক এলাকায় ৯০ শতাংশ ধানও কাটা হয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে কৃষিতে খুব একটা ক্ষতি হবে না।

তিনি আরও বলেন, গত দুই দিন ধরে মাইকিং করে কৃষকদের বলা হচ্ছে, যাদের ধান ৮০ শতাংশ পেকেছে তারা যেন ধান কেটে ফেলেন। আমরা মনে করছি, ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগেই কৃষকরা ধান কাটা শেষ করতে পারবেন।

ধান, বাদামের বাইরে সাতক্ষীরা অঞ্চলের কিছু আম এখনো পাকেনি জানিয়ে নাসিরুজ্জামান বলেন, ওই আমগুলো জুলাই মাসে পাকবে, ঝড় হলে এই জেলার আমের ক্ষতি হবে। এ ছাড়া কৃষিতে খুব একটা ক্ষতি হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই পোর্টালের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!