ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের বিনামূল্যে সার, বীজ ও নগদ সহায়তা দেয়া হবে -কৃষিমন্ত্রী

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের বিনামূল্যে সার, বীজ ও নগদ সহায়তা দেয়া হবে -কৃষিমন্ত্রী

- ফাইল ফটো।

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, গত ১৫ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পান আঘাত হানার পূর্বাভাস পাওয়ার সাথে সাথেই কৃষি মন্ত্রণালয় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাই ছিলেন সতর্ক। ফসলের ক্ষতি কমিয়ে আনার জন্য কৃষককে দেয়া হয়েছিল প্রয়োজনীয় পরামর্শ। ফলে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ফলে কৃষিতে ব্যাপক ভিত্তিক ক্ষতি সাধিত হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ংকরী ঘুর্ণিঝড় আম্পানের ফলে কৃষিতে ক্ষয়-ক্ষতি নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে অনলাইনে (জুম প্ল্যাটফর্মে) মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ক্ষয়-ক্ষতির প্রাথমিক প্রতিবেদন তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি না হলেও অল্প কিছু কৃষিজ ফসলের বিশেষ করে ফলের মধ্যে আম, লিচু, কলা, সবজি, তিল এবং অল্প কিছু বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে।

প্রাথমিকভাবে ঘুর্ণিঝড়ে আক্রান্ত মোট জমির পরিমাণ ১ লাখ ৭৬ হাজার হেক্টর। ইতোমধ্যে হাওড়ে শতভাগ, উপকূলীয় অঞ্চলে ১৭ জেলায় শতকরা ৯৬ ভাগসহ সারাদেশে গড়ে ইতোমধ্যে ৭২ শতাংশ বোরো ধান কাটা হয়েছে। ফলে ক্ষতির পরিমাণ সামান্য যা আমাদের খাদ্য উৎপাদনে তেমন প্রভাব পড়বে না।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রলয়ংকরী ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শাকসবজি ও মসলা চাষিদের তালিকা প্রণয়ন করে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমন মৌসুমে বিনামূল্যে সার, বীজ ও নগদ সহায়তাসহ বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদান করা হবে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, ফল ও পান চাষিদের মাত্র ৪ ভাগ সুদে কৃষি ঋণের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, সাতক্ষীরায় প্রায় ৬০-৭০ ভাগ আম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলায় ঝড়ে পড়া আমগুলো ত্রাণ হিসেবে দুঃস্থ জনগণের মাঝে বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে একদিকে যেমন আমচাষিরা কিছুটা আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে, অন্যদিকে তেমনি দুঃস্থ এবং অসহায় জনগণের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হবে।

কৃষিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক প্রতিবেদন বোরো ধান ৪৭ হাজার হেক্টরের শতকরা ১০ ভাগ, ভূট্টা ৩ হাজার ২৮৪ হেক্টরের শতকরা ৫ ভাগ, পাট ৩৪ হাজার ১৩৯ হেক্টরের শতকরা ৫ ভাগ, পান ২ হাজার ৩৩৩ হেক্টরপর শতকরা ১৫ ভাগ, সবজি ৪১ হাজার ৯৬৭ হেক্টরপর শতকরা ২৫ ভাগ জমির ফসল আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ব্রিফিংকালে কৃষিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ও সবার সহযোগিতায় মহামারি করোনা এবং সুপার সাইক্লোন আম্পানের মতো দুর্যোগ মোকাবিলা করে দেশের খাদ্য উৎপাদনের বর্তমান ধারা শুধু অব্যাহত রাখা নয়, তা আরো বৃদ্ধি করে ২০৩০ সালের ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট’ (এসডিজি) অর্জন করার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই পোর্টালের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!