শুভ জন্মদিন শাবানা সবার হৃদয়ের এক অভিনেত্রী

শুভ জন্মদিন শাবানা সবার হৃদয়ের এক অভিনেত্রী

:: বিনোদন প্রতিবেদক – ঢাকা ::

শাবানা বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী। চলচ্চিত্রে সুনিপুণ অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি জয় করে নিয়েছেন কোটি দর্শকের মন। দর্শকদের কাঁদিয়েছেন, শিখিয়েছেন। পেয়েছেন রেকর্ডসংখ্যক ১০ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। আজ এই গুণী অভিনেত্রীর জন্মদিন। ১৯৫২ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। আমাদের সময়ের পক্ষ থেকে তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

চলচ্চিত্রে ৩০ বছর ধরে শাবানা রাজত্ব করেছিলেন। একাধারে এতটা সময় রাজত্ব আর কোনো তারকা করতে পারেননি। ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত শুধু তার নামেই চলচ্চিত্র চলত। কোনো ছবিতে শাবানা আছেন, শুনলেই বিটিভি দেখতে ভিড় হতো প্রচুর দর্শকের। তার অভিনয় ঝলকানিতে মুগ্ধ ছিল তামাম বাংলাদেশি দর্শক। শাবানা যখন নায়িকা ছিলেন, তখন সবশ্রেণির দর্শকই ছবি দেখত। শাবানার প্রথম ছবি ‘নতুন সুর’-এ নায়ক-নায়িকা ছিলেন রহমান ও রওশন আরা। ওই সময় তিনি ছিলেন একেবারে শিশু। এভাবেই চলচ্চিত্রে তার আবির্ভাব। ‘নতুন সুর’ মুক্তি পেয়েছিল ১৯৬২ সালের ১৬ নভেম্বর। ছবির পরিচালক ছিলেন এহতেশাম। এর পর ১৯৬৬ সালে শাবানার যথার্থ উত্থান ঘটে ‘আবার বনবাসে রূপবান’ ছবির মাধ্যমে। এই ছবিতে তিনি রূপবানের কন্যা ‘সোনাভান’ চরিত্রে অভিনয় করেন। এতে শাবানার নায়ক ছিলেন কাশেম। ‘আবার বনবাসে রূপবান’ মুক্তি পেয়েছিল ১৯৬৬ সালের ৮ এপ্রিল। পরিচালক ছিলেন ইবনে মিজান। ১৯৬৭ সালের ‘জংলী মেয়ে’ ও ‘চকোরী’ ছবি দুটি শাবানাকে দিয়েছিল আকাশচুম্বী খ্যাতি। ‘জংলী মেয়ে’ ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন আজিম। এটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৬৭ সালের ১৯ মে। এর পর ১৯৬৭ সালে মুক্তি পেয়েছিল শাবানার ‘ছোটে সাহেব’ ছবিটি। মুস্তাফিজ পরিচালিত এটি ছিল উর্দু ভাষায় নির্মিত একটি ছবি। নায়ক ছিলেন নাদিম। আর একই বছরে উর্দু ভাষায় তাকে নিয়ে নির্মিত হয়েছিল ‘চকোরী’ ছবিটি, যা শাবানার খ্যাতি পৌঁছে দিয়েছিল সুদূর করাচি, পিন্ডি, পেশোয়ার, কোয়েটা, মারী পর্যন্ত। এই ছবিতে পরিচয় হয়ে নায়ক নাদিম পরিচালক এহতেশামের মেয়েকে বিয়ে করে পাকিস্তানে চলে যান। আবার এই ছবির মাধ্যমে শাবানার পারিবারিক নাম আফরোজা সুলতানা রতœা থেকে হয়ে যান শাবানা।

যে ছবিগুলোর জন্য পুরস্কার জিতেছিলেন

শাবানা ১৯৭৭ সালে মুক্তি পাওয়া সিরাজুল ইসলাম পরিচালিত ছবি ‘জননী’তে শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্র ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার জিতে নেন। কিন্তু তিনি এই পুরস্কার নিতে অস্বীকৃতি জানান। আর তারই মাধ্যমে বাংলাদেশে পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের রীতি চালু হয়। ১৯৮০ সালে আবদুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত ‘সখী তুমি কার’ ছবিতে রাজ্জাক-শাবানা-ফারুক ত্রয়ীর ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনি পর্দায় ফুটে উঠে অসাধারণভাবে। এ ছবির জন্য তিনি সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতেন। ১৯৮২ সালে রাজ্জাকের বিপরীতে ‘দুই পয়সার আলতা’ ছবিতে অভিনয় করে সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলেন কুসুম চরিত্রটি। ১৯৮৩ সালে ‘ভাত দে’ সিনেমায় জরির চরিত্রে অভিনয় করে কাঁদিয়েছিলেন সব দর্শককে। এত সাবলীল অভিনয় আর হৃদয়বিদারক সমাপ্তি বাংলা চলচ্চিত্র জগতে যোগ করেছিল এক নতুন মাত্রা। ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন নায়ক আলমগীর। এই দুটি ছবিই পরিচালনা করেন আমজাদ হোসেন। ১৯৮৭ সালে দীলিপ বিশ্বাসের ‘অপেক্ষা’ ও ১৯৮৯ সালে মতিন রহমানের ‘রাঙা ভাবী’ ছবি দুটির জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছিলেন শাবানা। এ দুটি ছবিতেই তিনি আলমগীরের বিপরীতে অভিনয় করেন। ১৯৯০ সালে শাবানা প্রথমবারের মতো ‘গরীবের বউ’ ছবির জন্য চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে পুরস্কার জেতেন। সে বছরই আজহারুল ইসলামের ‘মরণের পরে’ ছবির জন্য জয় করে নেন সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারও। ১৯৯১ সালে শিবলী সাদিকের পরিচালনায় ‘অচেনা’ ছবির মাধ্যমে তিনি ক্যারিয়ারে শেষবারের মতো সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জয় করেন। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা দেন।

কেন ছাড়লেন অভিনয়

১৯৭৩ সালে সরকারি কর্মকর্তা ওয়াহিদ সাদিককে বিয়ে করেন শাবানা। এর পর দুজনে মিলে প্রতিষ্ঠা করেন এসএস প্রোডাকশন। ১৯৯৭ সালে হঠাৎ করেই তিনি চলচ্চিত্র থেকে বিদায় দেন। ২০০০ সালে সপরিবারে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। শাবানা-সাদিক দম্পতির দুই মেয়ে ও এক ছেলে। তারা হলেনÑ সুমি, ঊর্মি ও নাহিন। কী কারণে হঠাৎ অভিনয় ছেড়েছিলেন লাখো দর্শকের প্রিয় এই তারকা? সেই কথা জানান শাবানার স্বামী প্রযোজক ওয়াহিদ সাদিক। তিনি বলেন, ‘শৈশব থেকে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল শাবানা। নিজেকে সে সময় দিতে পারেনি। তাই অভিনয় ছেড়ে এখন নিজের মতো করে সময় কাটাচ্ছে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প এখনো শাবানাকে হারানোর ক্ষত সেরে উঠতে পারেনি। তার শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। শাবানা অভিনয় ছাড়ার পর ঢাকাই চলচ্চিত্রের এমন দুরবস্থা হবে, কেউ কল্পনাও করেনি। একজন অভিনয় থেকে অবসর নিতেই পারে, তাই বলে আরেকজন চলচ্চিত্র করবে না, তা তো হয় না। এমনটা হচ্ছে বলেই ইন্ডাস্ট্রি সংকট কাটিয়ে উঠতে পারছে না।’

উল্লেখযোগ্য ছবি

চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে ২৯৯টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন শাবানা। এর মধ্যে ১৩০টি ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন আলমগীর। এ ছাড়া রাজ্জাক, জসীম, সোহেল রানা, ফারুক প্রমুখ গুণী অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে জুটি বেঁধে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় ছবি। ১৯৬৮Ñ ‘চাঁদ আওর চাঁদনী’, ‘কুলি’, ১৯৬৯Ñ ‘মুক্তি’, ‘আনাড়ী’, ১৯৭০Ñ ‘পায়েল’, ‘সমাপ্তি’, ১৯৭২Ñ ‘সমাধান’, ‘ওরা ১১ জন’, ‘অবুঝ মন’, ১৯৭৩Ñ ‘ঝড়ের পাখি’, ১৯৭৪Ñ ‘দস্যুরাণী’, ‘মালকা বানু’, ‘অবাক পৃথিবী’, ‘ভাইবোন’, ১৯৭৫ থেকে ১৯৯২Ñ ‘সাধু শয়তান’, ‘বাদশা’, ‘মায়ার বাঁধন’, ‘জয় পরাজয়’, ‘অমর প্রেম’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘দোস্ত দুশমন’, ‘তুফান’, ‘কন্যাবদল’, ‘মধুমিতা’, ‘স্বামীর আদেশ’, ‘ভাত দে’, ‘লাল কাজল’, ‘কাজের বেটি রহিমা’, ‘আয়না’, ‘রাজ নন্দিনী’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘মা যখন বিচারক’, ‘সকাল সন্ধ্যা’, ‘বউ শ্বাশুড়ি’, ‘চাঁপা ডাঙার বউ’, ‘মেয়েরাও মানুষ’, ‘জিদ্দি’, ‘লাট সাহেব’ ইত্যাদি।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই পোর্টালের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!