মঞ্চ ও টেলিভিশন ভুবনের কিংবদন্তি ফেরদৌসী মজুমদারের জন্মদিন আজ

মঞ্চ ও টেলিভিশন ভুবনের কিংবদন্তি ফেরদৌসী মজুমদারের জন্মদিন আজ

:: বিনোদন প্রতিবেদক – ঢাকা ::

বাংলাদেশের মঞ্চ ও টেলিভিশন জগতের জীবন্ত কিংবদন্তি ফেরদৌসী মজুমদার। স্বাধীনতা-উত্তরকালে দুই ভুবনে সমান সফলতার সঙ্গে অভিনয় করে আসছেন। ধারাবাহিক নাটক ‘সংশপ্তক’-এ হুরমতি চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বিপুল প্রশংসা লাভ করেন। আজ তার ৭৭তম জন্মদিন। আজকের আয়োজন তাকে নিয়েই।

প্রাথমিক জীবন

বরিশালে জন্ম হলেও ফেরদৌসী মজুমদার বেড়ে উঠেছেন ঢাকাতেই। বাবা খান বাহাদুর আবদুল হালিম চৌধুরী ছিলেন ডিস্ট্রিক ম্যাজিস্ট্রেট। তার ভাইবোন ছিল মোট ১৪ জন। যাদের মধ্যে আটজন ভাই ও ছয়জন বোন। সবার বড় ভাই কবীর চৌধুরী এবং মেজ ভাই শহীদ মুনীর চৌধুরী। দারুল আফিয়া নামের বাড়িতে তার শৈশব কেটেছে। তাদের পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালীতে। ফেরদৌসী মজুমদারের পরিবার ছিল খুব রক্ষণশীল। বাড়িতে সাংস্কৃতিক চর্চা ছিল নিষিদ্ধ। তার লেখাপড়া শুরু হয় নারী শিক্ষা মন্দির স্কুল থেকে। এ স্কুলে ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়ার পর তিনি ভর্তি হন মুসলিম গার্লস স্কুলে, যেখান থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরে ভর্তি হন ইডেন কলেজে। ছোটবেলায় খেলাধুলা করতে পছন্দ করতেন ফেরদৌসী মজুমদার। একবার ৯৬৬ বার স্কিপিং করে তিনি ক্রিস্টালের বাটি পেয়েছিলেন।

অভিনয়ে শুরু

ইডেন কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময় ভাই মুনীর চৌধুরী থেকে প্রস্তাব পান একটি নাটকে রোবটের চরিত্রে অভিনয় করার, যার নাম ছিল ‘ডাক্তার আবদুল্লাহর কারখানা’। এটি লিখেছিলেন শওকত ওসমান এবং মঞ্চস্থ হয়েছিল ইকবাল হলে, বর্তমানে যেটি জহুরুল হক হল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর ফেরদৌসী মজুমদার পাবলিক লাইব্রেরিতে ‘দ- ও দ-ধর’ নাটকে অভিনয় করেন শিক্ষক রফিকুল ইসলামের বিপরীতে। এর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নাটকের ফোরামে জড়িয়ে পড়েন এবং সম্মানী হিসেবে ৭৫ টাকা পান। এ টাকা দিয়ে দামি নেটের মশারি কেনেন তিনি।

ব্যক্তিজীবন

মা-বাবার অমতে ১৯৭০ সালের ১৪ মার্চ রামেন্দু মজুমদারকে বিয়ে করেন তিনি। এ বছর তাদের দাম্পত্য জীবনের ৫০ বছর পূর্ণ হয়েছে। বিয়ের অর্ধশততম বছরের প্রথম দিন ফেরদৌসী মজুমদার পরেছিলেন ৫০ বছর আগের একটি শাড়ি। বিয়ের দিন রামেন্দু মজুমদার সেটি কিনে দিয়েছিলেন ২৫০ টাকায়। তাদের একমাত্র মেয়ে ত্রপা মজুমদারও সংস্কৃতি অঙ্গনের সঙ্গে জড়িত।

স্বাধীনতার পর

১৯৭২ সালে ‘থিয়েটার’ গঠন করা হয়, যেখানে ছিলেন আবদুল্লাহ আল মামুন, রামেন্দু মজুমদারসহ অনেকে। ফেরদৌসী মজুমদার সেই দলে যোগ দেন। তিনি মোট দুটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এগুলো হলোÑ ‘মায়ের অধিকার’ ও ‘দমকা’। বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রায় ৩০০-এর মতো নাটক করেন তিনি। তার অভিনয় জীবন প্রায় তিন দশকের মতো দীর্ঘ। আবদুল্লাহ আল মামুন ফেরদৌসী মজুমদারকে নিয়ে ৮৬ মিনিটের একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন, যার নাম ‘জীবন ও অভিনয়’।

উল্লেখযোগ্য নাটক

কোকিলারা, এখনো ক্রীতদাস, বরফ গলা নদী, জীবিত ও মৃত, বাঁচা, অকুল দরিয়া, যোগাযোগ, সংশপ্তক, চোখের বালি, নিভৃত যতনে, শঙ্খনীল কারাগার, এখনও দুঃসময়, পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই পোর্টালের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!