শুভ জন্মদিন পর্দার মা দিলারা জামান

শুভ জন্মদিন পর্দার মা দিলারা জামান

:: বিনোদন প্রতিবেদক – ঢাকা ::

বাংলাদেশি নাট্য ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী দিলারা জামান। তার অভিনয়ের শুরু ১৯৬৬ সালে ত্রিধরা নাটক দিয়ে। নাটকের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন। তাকে পর্দার মা বলে থাকে অনেকেই। মা চরিত্রে সব চাইতে বেশি মানানসই দিলারা জামান। আজ এ অভিনেত্রীর জন্মদিন।

প্রাথমিক জীবন

দিলারা ১৯৪৩ সালের ১৯ জুন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ) বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম রফিকউদ্দিন আহমেদ এবং মাতার নাম সিতারা বেগম। তার জন্মের কিছুদিন পর তার পরিবার আসানসোল জেলায় চলে যায়। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর তারা যশোর জেলায় চলে আসেন। তিনি ঢাকার বাংলাবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পডাশোনা করেন। স্কুলে তিনি প্রথম মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন। পরে তিনি ইডেন মহিলা কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি নুরুল মোমেনের ছাত্রী ছিলেন।

কর্মজীবন

দিলারা জামানের কর্মজীবন শুরু হয় শিক্ষকতা দিয়ে। তিনি শাহীন স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি প্রথম টেলিভিশনে অভিনয় করেন ১৯৬৬ সালে ‘ত্রিধরা’ নাটকে। এ নাটকে তার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন নাট্যকার মুনীর চৌধুরীর স্ত্রী লিলি চৌধুরী। তার অভিনীত প্রথম ধারাবাহিক নাটক ‘সকাল সন্ধ্যা’। ১৯৯৩ সালে তিনি মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘চাকা’তে অভিনয় করেন। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’। ২০০৮ সালে তিনি মুরাদ পারভেজ পরিচালিত ‘চন্দ্রগ্রহণ’ চলচ্চিত্রে ময়রা মাসি চরিত্রে অভিনয় করেন। এ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি একই চলচ্চিত্রের তার সহশিল্পী চম্পার সঙ্গে যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৪ সালে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে নির্মিত চয়নিকা চৌধুরী নির্দেশিত ‘ভোরের ফুল’ ও রেদওয়ান রনি নির্দেশিত ‘ভালোবাসা ১০১’ নাটকে অভিনয় করেন। এ ছাড়া মুরাদ পারভেজ পরিচালিত ‘বৃহন্নলা’ চলচ্চিত্রে গ্রামের এক বুড়ির চরিত্রে অভিনয় করেন। ২০১৬ সালে তিনি সাদাত হোসাইন পরিচালিত ‘প্রযতেœ শীর্ষক’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এ ছাড়া ‘থ্রি সিস্টার্স’ ও ফেরদৌস হাসান রানার নির্দেশনায় ‘ফুল আর কাঁটা’ টিভি নাটক, গুগল সব জানে ও মতিয়া বানু শুকুর নির্দেশনায় ‘কালো আল্পনা’ ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেন। ২০১৭ সালে তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় ‘হালদা’ চলচ্চিত্রে তিনি বয়োজ্যেষ্ঠ নারী সুরৎ বানু চরিত্রে অভিনয় করেন।

ব্যক্তিগত জীবন

দিলারা জামান ফখরুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ফখরুজ্জামান বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক। তাদের দুই কন্যাÑ তানিয়া ও যুবায়রা। দুই কন্যার মধ্যে তানিয়া ডাক্তার এবং যুবায়রা পেশায় আইনজীবী। তা ছাড়া দিলারা জামানের একজন পালক ছেলেসন্তান রয়েছে, যার নাম আশফাক।

টেলিভিশন

ত্রিধরা (১৯৬৬), এইসব দিনরাত্রি (১৯৮৫), অয়োময় (১৯৮৮), আজ আমাদের ছুটি (১৯৯২), হিমু (১৯৯৪), সমুদ্রবিলাস প্রাইভেট লিমিটেড (১৯৯৯), ভোরের ফুল (২০১৪), ভালোবাসা ১০১ (২০১৪), থ্রি সিস্টার্স (২০১৬), ফুল আর কাঁটা (২০১৬), গুগল সব জানে (২০১৬), কালো আল্পনা (২০১৬)।

পুরস্কার

শিল্পকলায় অবদানের জন্য ১৯৯৩ সালে পেয়েছেন একুশে পদক। ২০১০ সালে চন্দ্রগ্রহণ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই পোর্টালের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!