বাবাকে নিয়ে মনের কথা

বাবাকে নিয়ে মনের কথা

:: বিনোদন প্রতিবেদক – ঢাকা ::

আজ বিশ্ব বাবা দিবস। এই দিনে সন্তানের ভালোবাসায় সিক্ত হবেন প্রত্যেক বাবা। এ ভালোবাসা থেকে বাদ যাবেন না তারকাদের বাবারাও। শোবিজ অঙ্গনের তারকারা শুনিয়েছেন বাবাকে নিয়ে কিছু স্মৃতিকথা।

মিম

বাবা আমার জীবনের সাহস। তিনি সব সময় অনুপ্রাণিত করেন আমাকে। তিনি আমার সেরা বন্ধু, আমার সত্যিকারের হিরো। বাবা আমাকে শিখিয়েছেন কীভাবে সাহস ও বুদ্ধি খাটিয়ে জীবনে পথ চলতে হয়। ২০১৪ সালের একটা ঘটনা। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে মঞ্চের পেছনে দাঁড়িয়ে আমি। দুধ সাদারঙা গাউনে হাসিখুশি দেখে দু-একজন বলেও গেল, আমাকে দেখতে সেই রকম লাগছে! কিন্তু হঠাৎ করেই আমার মুখটা মলিন হয়ে যায়। কারণ মঞ্চে ওঠার কিছুক্ষণ আগে জানতে পারি, আমার বাবা অসুস্থ। কথা পর্যন্ত বলতে পারছেন না। উঠতে পারছে না বিছানা থেকেও। খবরটা শুনে নড়ারও উপায় ছিল না আমার। তাই বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে একাই গেলেন মা। এদিকে চুপ করে কিছুক্ষণ বসে থাকলাম আমি। এর পর ডাক পড়ল মঞ্চে ওঠার। হাসিমুখ নিয়েই হেঁটে এলাম। আমন্ত্রিত অতিথিরা কেউই বুঝতে পারেনি, এই হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল কী দুঃসংবাদ।

পপি

যেহেতু আমি কনজারভেটিভ ফ্যামিলির মেয়ে, তাই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের শুরুতে পরিবারের কারোরই তেমন কোনো সমর্থন পাইনি। আমার আব্বু শুরু থেকেই রুপালি পর্দায় অভিনয়ের বিপক্ষে ছিলেন। কিন্তু যখন আমি কাজ শুরু করি আর একের পর এক ভালো ভালো গল্পের চলচ্চিত্র নিয়ে পর্দায় হাজির হইÑ তখন আব্বু আমাকে সমর্থন দেওয়া শুরু করেন। যে কারণে পরবর্তী সময় ওনার অনুপ্রেরণাতেই আমি চলচ্চিত্রে নিজেকে আরও নিবেদিত হয়ে কাজ শুরু করি। আমার অনেক ছবির শুটিংয়ে আব্বু সঙ্গে গিয়েছেন এবং ধৈর্য ধরে আমার পাশে থেকেছেন। আমার আব্বু চুপচাপ স্বভাবের একজন মানুষ। প্রয়োজনের বাইরে তিনি কথা বলতে অভ্যস্ত নন। যথেষ্ট বিনয়ী একজন মানুষ। আব্বুর এই স্বভাবটাই আমি পেয়েছি। প্রয়োজনের বাইরে কথা বলতে পছন্দ করি না। সবাইকে বয়সানুযায়ী শ্রদ্ধা রেখে কথা বলি, ¯েœহ করি।

অপূর্ব

আমার বাবা ছিলেন পুলিশ অফিসার। ছোটবেলা থেকেই তার আদর্শে বেড়ে উঠেছি। বাবার আদর্শের যে বিষয়টি আমি নিজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লালন করি, তা হলোÑ সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কীভাবে ভালো থাকা যায়। পারিবারিক যে বন্ধন, সেটাকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ আমাদের নেই। একজন মানুষ ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে পারিবারিক শিক্ষাটাই প্রধান এবং সবার আগে। পরিবার থেকে শিক্ষা নিয়েই সে বাইরের পৃথিবীতে পা বাড়ায়। আমিও আমার বাবা-মা, ভাই-বোনের কাছ থেকে পারিবারিক শিক্ষা নিয়েই নিজেকে বাইরের পৃথিবীতে বিকশিত করছি। আমার বাবা আমাকে ছোট্ট বেলায় অপু বলে ডাকতেন, এখনো তাই ডাকেন। আজকের বিশেষ এই দিনে বাবা তোমাকে বলতে চাই, ‘সব সময় পাশে তোমাকে পেয়েছি। ছোটবেলা থেকেই চেষ্টা করেছ আমাদের ভালো রাখার। তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি।’

মারিয়া

ছোটবেলায় আব্বুর সঙ্গে আমি আর আমার ছোট বোন প্রতিদিন সকালে সংসদ ভবনে যেতাম। কারণ প্রতিদিন আমাদের হাঁটার নিয়ম ছিল। মেয়ে কাঁধে নিয়ে ঘোরার গল্প আমার নাটক-সিনেমায় যে রকম দেখেছি, আব্বু ঠিক সে রকম করেই কাঁধে নিয়ে ঘুরত আমাকে। চিপস আর আইসক্রিম খাওয়ার যত আবদার, সব মেটাত আব্বু। আর যখন স্কুলে যাওয়া শুরু করলাম, আব্বুর কাছে প্রতিদিন সন্ধ্যায় নিয়ম করে পড়তে বসতাম। আব্বু গণিতে খুব ভালো। আর হাতের লেখাও অসম্ভব সুন্দর। পড়তে বসা মানেই ছিল অঙ্ক করা আর হাতের লেখা কেন সুন্দর হচ্ছে না, তা নিয়ে কথা শোনা। দুষ্টু ছিলাম, তাই চেষ্টা করতাম কীভাবে সন্ধ্যার পর পড়াটা ফাঁকি দিয়ে টিভির সামনে বসা যায়। আর এখন বড় হওয়ার পর মনে হয়, সে রকম সময় যদি আবার কাটানো যেত! অনেক মিস করি আব্বুর সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো। আজ বাবাকে বলতে চাই, ‘তুমি আমার কতটা জুড়ে আছ, তা শব্দ নিয়ে বোঝানো যাবে না।’

মেহজাবিন

আমার কাছে প্রতিটা দিনই বাবা দিবস। বর্তমানে বিশে^র যে পরিস্থিতি, সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করিÑ তিনি যেন পৃথিবীর সব বাবা-মাকে ভালো রাখেন, সুস্থ রাখেন। প্রত্যেক সন্তানের চোখেই বাবারা সুপার হিরো, আমার চোখেও ঠিক তা-ই। কারণ এমন কিছু নেই, যা বাবা আমাদের জন্য করেননি। সবচেয়ে বড় কথা, আমার বাবা তার সন্তানদের ওপর আস্থা রেখেছেন। বাবা সব সময়ই এটা বলেনÑ আমরা যে কাজই করি না কেন, সেটাতে যেন শীর্ষে যেতে পারি। পড়াশোনার ব্যাপারে তিনি স্বাধীনতা দিয়েছেন, তবে ভালো ফলটা চেয়েছেন। আমাদের দৃঢ়চেতা হওয়ার শিক্ষা বাবাই দিয়েছেন। বিশেষ এই দিনে বাবাকে একটা কথা বলতে চাইÑ ‘তোমার জন্যই প্রতি মুহূর্তে অনুভব করি, আমাদের মাথার ওপর আস্থার টেকসই ছাদ আছে। মরণ এলেও জানি আমাদের শক্ত করে ধরে রাখবে তুমি। তোমাকে ভালোবাসি বাবা।’

কনা

ছোটবেলা থেকেই আব্বুর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা বন্ধুত্বের। প্রায় সব কিছুই আব্বুর সঙ্গে শেয়ার করতাম। মগবাজার গার্লস স্কুলে পড়ার সময় আমি আর আমার বড় বোন একই রিকশায় আব্বুর সঙ্গে যেতাম। আমি আব্বুর কোলে বসতাম আর আপু পাশে। একটু বড় হওয়ার পর আমি ওপরে বসতাম। এখন সেই দিনগুলো খুব মিস করি। আমার আম্মু আমার সঙ্গে বাইরের অনেক দেশে ঘুরেছেন। কিন্তু আব্বু বিমানে উঠতে চান না বিধায় তাকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। তাই আমার খুব ইচ্ছেÑ একদিন জোর করে হলেও আব্বুকে বিমানে উঠাব, দেশের বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাব।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

One response to “বাবাকে নিয়ে মনের কথা”

  1. […] ট্রাম্পের নির্বাচনী জনসভা শুরু বাবাকে নিয়ে মনের কথা করোনাকালীন শিশুর মানসিক যত্ন নিতে […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই পোর্টালের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!