সর্বশেষ:
ধনবাড়ীতে পিকআপ ভ্যান ও ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত -১ : আহত ৫ ‘ঘরই কাল হলো লাকির’ সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে বগুড়ায় সাংবাদিকদের মানববন্ধন বীর মুক্তিযোদ্ধা কয়েস উদ্দীনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন চলে গেলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ পৌর নির্বাচনে বগুড়ায় সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে সুজনের পদযাত্রা ও মানববন্ধন সাপাহারে অবৈধভাবে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে ২২ টি স’মিল মান্দায় বঙ্গবন্ধু’র ম্যুরাল নির্মান কাজের উদ্বোধন সাপাহারে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন অমর একুশে স্মরণে টাঙ্গাইল মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের শ্রদ্ধাঞ্জলি
করোনাভাইরাস : খাপ খাইয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ

করোনাভাইরাস : খাপ খাইয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ

সবকিছু আবার চালু করার পর তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেছে

:: নিউজ বুক ডেস্ক ::

বাংলাদেশে দুইমাসের বেশি সময় সাধারণ ছুটির বা অঘোষিত লকডাউনের পর আবার অনেক কিছু স্বাভাবিক হতে শুরু করার তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেল। সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে গেছে, গণপরিবহন-বিমান চলতে শুরু করেছে। বিপনিবিতান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা আবার সচল হয়ে উঠেছে।

ফলে দুইমাস ধরে ঘরে আটকে থাকার পরে এখন আবার বাইরে বের হতে শুরু করেছেন মানুষজন। অফিসে, কারখানায়, দোকানে যেতে হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বাড়িতে যেসব কড়াকড়ি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল, অনেক স্থানে সেসব শিথিল হচ্ছে।

কিন্তু সেই সঙ্গে আবার করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

সংক্রমণ বৃদ্ধির মাঝে সচল হয়ে ওঠা জীবনযাত্রার সঙ্গে কীভাবে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে মানুষ? সেটাই বর্ণনা করেছেন ঢাকার কয়েকজন বাসিন্দা:
সোহানা ইয়াসমিন

ঢাকার একজন বেসরকারি চাকরিজীবী

মার্চ মাসের শেষ থেকে শুরু করে মে মাস পর্যন্ত পুরো সময় বাসাতেই কাটিয়েছি। একবার শুধু অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে যেতে হয়েছিল। কিন্তু এছাড়া খুব একটা বাইরে যাইনি।

হোম অফিস চলছিল। তাই দিনের বেলা ল্যাপটপের সামনে অনেক সময় কেটেছে।

পহেলা জুন থেকে আবার আবার অফিস শুরু হয়েছে। আমি যে বিভাগে কাজ করি, তাতে অফিসে না গেলে হয় না। তাই আমাকে যেতেই হয়। কিন্তু আমাদের অফিসের পরিবহন ব্যবস্থা নেই। তাই সকালে যখন আমি বাসা থেকে বের হই, আমাকে অনেক ব্যবস্থা নিতে হয়।

এই প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও হাত-পা ঢাকা জামাকাপড় পড়ার পাশাপাশি মোজাও পড়ি। মাথা ভালো করে স্কার্ফ দিয়ে পেঁচিয়ে নেই। চোখে চশমা, মুখে মাস্ক পড়ে বের হই। আমার বাসা থেকে অফিস যেতে এক ঘণ্টার মতো সময় লাগে। পুরো সময়টা ঘেমেনেয়ে একাকার হয়ে যাই।

বাসা থেকে বের হয়ে প্রথমে একটা রিক্সা নিতে হয়। মেইন রোডে উঠে বাসে ওঠার সাহস পাই না। আগে মোটরসাইকেল রাইডে যেতাম। এখন আর সেটা ব্যবহারে সাহস হয় না। তাই সিএনজি করে অফিসে যাই। প্রতিদিন যেতে আসতে চারশো টাকা খরচ হয়ে যায়। সেই সঙ্গে একেকদিন একেকজন ড্রাইভারের পেছনে বসতে হয়। সিটে বসেও কাঁচুমাচু হয়ে থাকি, যেন কোন কিছুর সঙ্গে স্পর্শ না হয়।

অফিসে গিয়ে যতটা সম্ভব নিজের সিটেই থাকার চেষ্টা করি। খুব দরকার না হলে কারো টেবিলে যাই না, অন্যরাও আসে না।

দুপুরের খাবার বাসা থেকেই আগেও নিয়ে যেতাম, এখনো যাই। কিন্তু এখন আর সেটা নিয়ে ক্যান্টিনে যাই না। নিজের টেবিলে বসেই খাই।

এতো কিছু করার পরেও বাসায় ঢুকেই আজকের সব জামাকাপড় খুলে একটা বালতিতে সাবান পানিতে ভিজিয়ে রাখি। সকালে একবার গোছল করে বেরিয়েছি, বাসায় ঢুকে আবার গোছল করি।

সকালে কোন বাজার আনা হলে সেটা তখন পানিতে ভিজিয়ে রাখি। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে রান্নাবান্না করে রাখি।

মার্চ মাস থেকেই বাসার গৃহকর্মীকে আসতে না বলে দিয়েছিলাম। এরপর থেকে বাসার সব কাজ আমরা সবাই মিলে করছি।

কিন্তু সাধারণ ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ার পর বাসার সবার অফিস চালু হয়ে গেছে, সবাইকে সকালে বাইরে চলে যেতে হয়। ঘরে আগে সবাই মিলে সহযোগিতা করতো, এখন তো সবাইকে বাইরে যেতে হচ্ছে। তাই গৃহকর্মীকে আবার আসতে বলেছি।

আমার চিন্তাও বেড়েছে। ছেলে-মেয়ে তাদের অফিসে যায়। সারাক্ষণ তাদের নিয়ে চিন্তায় থাকি। যেভাবে রোগী বাড়ছে, তাতে সবসময়ে একটা ভয় হয়। ওরা যতক্ষণ বাড়িতে না আসে, ততক্ষণ চিন্তা হয়।

বহুদিন কোন আত্মীয়স্বজন বাসায় আসে না, আমরাও কারো বাসায় যাই না। কবে যে আবার যাবো, তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। সবার সঙ্গে অবশ্য ফোনে ফোনে যোগাযোগ হচ্ছে। কিন্তু ঢাকায় অনেক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন থাকার পরেও কয়েকমাস ধরে তাদের কারো সাথে দেখা হচ্ছে না।

মাঝখানে কিছুদিন আগে গ্রামের বাড়ি থেকে কয়েকজন আত্মীয় ঢাকায় এসেছিল, কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তাদের আর বাসায় আসতে বলিনি।

এই বছর কোরবানিও দেবো না বলে ভাবছি। কারণ কোরবানি দিতে হলে ছেলেকে আবার হাটে যেতে হবে, বাইরের লোকজন এসে মাংস কাটতে হবে। এই বছরটা এসব থেকে একটু দূরে থাকার কথা ভাবছি।

তৈরি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা

আমি যে কারখানায় চাকরি করি, সেটা আশুলিয়ায়। মিরপুর থেকে প্রতিদিন অফিসের গাড়িতে করে সেখানে যেতে হয়। গত দুইমাস একেবারে ঘরের মধ্যে ছিলাম, এমনকি বাজার করতেও নীচে নামিনি। অনলাইনে কেনাকাটা করেছি। কিন্তু এখন তো চাকরি। কারখানা খুলে গেছে, আর বাড়িতে থাকার উপায় নেই।

সকাল সাড়ে সাতটায় বের হই। প্রথম কয়েকদিন বাজার থেকে কেনা পিপিই পড়ে বের হয়েছিলাম। কিন্তু প্রচণ্ড গরমের কারণে সেটা বেশিক্ষণ পরে থাকা যায় না। এখন মাস্ক, মাথার টুপি, হ্যান্ড গ্লাভস পরে বের হই। মাস্ক, গ্লাভস ইত্যাদি কিনতে গিয়ে মাসের বেতনের বড় একটা খরচ বের হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কি আর করবো?

কিছুদিন আগে আমাদের সঙ্গে এক গাড়িতে যাতায়াত করতো, এরকম একজন আক্রান্ত হয়েছে বলে শুনেছি। গাড়িতেও সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই, কারণ এতো গাড়ি আমাদের নেই, একটা গাড়ি অনেককে শেয়ার করতে হয়। তাই বাধ্য হয়েই আমাদের সবাইকে যাতায়াত করতে হয়। তবে সবসময় মাস্ক, গ্লাভস পড়ে থাকি।

সারাদিন কারখানায় ভয়ে ভয়ে থাকি। অসংখ্য কর্মী, তাদের সাথে কাজ দেখতে যেতে হয়। যদিও প্রবেশ পথে তাদের পরীক্ষা করে দেখা হয়, কিন্তু তারপরেও কে যে আক্রান্ত, তা নিয়ে খানিকটা সংশয় থেকে যায়।

আগে অফিসের নীচে চা খেতে যেতাম। এখন সেসব দোকান বন্ধ হয়ে গেছে, আমিও অফিসের বাইরে বের হই না। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে অনেক মাস ধরে দেখা হয় না।

বাসায় এসে ভালো করে প্রতিদিন গরম পানি দিয়ে গোছল করি। আগে এক জামা দুইদিন পড়তাম, এখন প্রতিদিন এসে সাবান পানিতে ধুয়ে ফেলি।
মিজানুর রহমান

ব্যবসায়ী

গ্রিন রোডে আমার একটি দোকান আছে। দুইমাস পরে জুনের ১০ তারিখ থেকে দোকান খুলেছি। কতদিন আর বন্ধ রাখবো? কিন্তু দোকানে কোন বিক্রিবাট্টা নেই।

চারজন কর্মী কাজ করে। গত দুইমাস জমানো টাকা দিয়ে বেতন দিয়েছি। ব্যবসার যে অবস্থা, এমাসেও কোন আয় হবে না। কিন্তু স্টাফদের বেতন আছে, দোকান ভাড়া, বিদ্যুতের বিল আছে। সকাল সন্ধ্যা দোকান খুলে বসে থাকি, আর তো করার কিছু নেই। এদিকে বাসায় দুই ছেলে মেয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, আরেকটা পড়ে স্কুলে। নিজের ফ্ল্যাটে থাকলেও তিন ছেলে মেয়ের পড়ার খরচ, বাসার খরচ, ওষুধ মিলে একলক্ষ টাকা খরচ আছে।

দোকানে অনেকগুলো হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিনে রেখেছি। যারাই আসে, আগে হাত পরিষ্কার করতে বলি। অনেক গ্রাহক আসে, মুখে মাস্ক নেই। কিন্তু বের করে তো দিতে পারিনা। তবে একটা পরিবর্তন হয়েছে। আগে গ্রাহকরা আসলে হ্যান্ডশেক করতাম, চা খেতে বলতাম। এখন সেসব বন্ধ। টেবিলের সামনে বসার দুইটা চেয়ার ছিল, এখন সেখানে একটা চেয়ার রেখেছি।

বাসা থেকে আগে রিক্সায় আসতাম, এখন হেটে আসি।

আমি থাকি ঢাকার কাঠালবাজার বাজারের কাছে একটি রুমে। ভাই, মা আর আমি। স্বামী থাকে দেশে।

মার্চ মাসের শুরুতে গ্রামের বাড়ি, কুড়িগ্রামে চলে গিয়েছিলাম, কিন্তু প্রতিমাসের ঘরভাড়া তিন হাজার টাকা করে ঠিকই দিতে হয়েছে। যেটুকু টাকা জমিয়েছিলাম, তা সব শেষ। বাস চলাচল শুরু হওয়ার পর আবার ঢাকায় এসেছি।

আগে যেসব বাসায় কাজ করতাম, দুই বাসা থেকে বলে দিয়েছে, তারা আপাতত লোক রাখবে না। একবাসায় রান্নাবান্নার কাজ পেয়েছি। সেখানে যাওয়ার পর বিল্ডিংয়ের নীচে একবার সাবান দিয়ে হাত ধুতে হয়, আবার বাসায় ঢোকার পরে একবার হাত ধুতে হয়।

আমরা যেখানে থাকি, সেখানে একজনের রোগ হয়েছে বলে শুনছি। তারপরেও সেখানে থাকতে হয়। বাসা ছাড়লে বাসা তো পাওয়া যায় না, আর সবখানেই তো রোগ আছে। এখন আল্লাহর ওপর সব ছেড়ে দিয়েছি। কাজের জন্য দুই বেলা বাইরে যেতে হয়। মুখের কাপড় পড়ি।

আমরা গরীব মানুষ, কাজ না করলে তো টাকা নেই, বেতন নেই। এদিকে বাসা ভাড়া আছে, বাচ্চার খরচ আছে। আমাকে বলছে, প্রতিদিন যেন একটা জামা পড়ে না আসি। কিন্তু আমরা গরীব মানুষ, আমাদের কি এতো জামা কাপড় আছে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন

একটা বায়িং হাউজে কাজ করতাম। মালিক মার্চ মাসে অর্ধেক বেতন দেয়ার পর বলে দিয়েছে আর বেতন দিতে পারবে না। বাসার সবাইকে আগেই গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম।

জুনের ২১ তারিখ পার হয়েছে, এখনো আরেকটা চাকরি জোগাড় করতে পারিনি। বাড়িতেও টাকা পাঠাতে পারছি না। যে বাসায় থাকতাম, সেটা ছাড়ার নোটিশ দিয়ে দিয়েছি।

বাচ্চার তো স্কুল বন্ধ, কবে খুলবে ঠিক নেই। ততদিনে আশা করি একটা চাকরি যোগাড় করতে পারবো তখন আবার পরিবার ঢাকায় নিয়ে আসবো। কিন্তু যেখানেই যাচ্ছি, শুনি ব্যবসা ভালো না, নতুন লোক নেবে না।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয় তো আছেই, কিন্তু আমার তার চেয়েও বড় ভয় এই বেকার থাকা। জমানো টাকা তো বেশি নেই। কতদিন আর এভাবে চালাতে পারবো? আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির চেয়ে আমার কাছে এখন রুটিরুজি, সংসার বড় হয়ে গেছে। প্রতিদিনই কাজের খোঁজে বাইরে বের হতে হয়। মানসিক ভয়, সামাজিক দূরত্ব আর মহামারির সংক্রমণ

করোনাভাইরাসের এই প্রকোপ কতদিনে শেষ হবে, তা এখনো সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা। ফলে এই মহামারির প্রভাব পড়ছে শুরু করেছে সামাজিক, মানসিক ও আর্থিক জীবনে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ‘’এই সময়ে বাধ্য হয়ে ঘরের বাইরে যেতে হচ্ছে, অফিসে বা বাইরে চলাফেরা করতে হচ্ছে, তাদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষাই হলো এখন সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা বা আর কোন সুরক্ষা এখন কাজ করছে না। এটাই এখন আমাদের সম্বল। তার একটা হলো মাস্ক পড়া, আরেকটা দূরত্ব রক্ষা করা আর হাত ধোয়া। এই তিনটা জিনিস সবাইকে মেনে চলতে হবে, তাহলে আশা করা যাবে যে তিনি সংক্রমিত হবেন না।‘’

কিন্তু অফিস, চাকরি, ব্যবসা করতে গিয়ে যারা বাইরে যাচ্ছেন, তারা যেমন সবসময়ে একটা উদ্বেগে, চিন্তায় ভুগছেন, তাদের যে স্বজনরা বাড়িতে থাকেন, তারাও একটা মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময়ে খানিকটা ভয় পাওয়া, মানসিক চাপ থাকা স্বাভাবিক। কারণ সংক্রমণ বাড়ছে, অনেকেই নিয়ম মানছেন না, ফলে ভয় হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এই ভয় মাত্রাতিরিক্ত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা: মেখলা সরকার বলছেন, ‘’এখন যে অবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা সবাই যাচ্ছি, তাতে স্বাভাবিকভাবেই মানসিক চাপ বা ভয়ের উপাদান বাড়িয়ে দেয়ার অনেকগুলো ফ্যাক্টর রয়েছে। একদিকে আমাদের বাইরে যেতে হচ্ছে, কলিগ, প্রতিবেশী, দারোয়ান, ড্রাইভারসহ অনেকের সঙ্গে মিশতে হচ্ছে, আবার দেখতে পাচ্ছি হাসপাতালে জায়গা নেই, অনেকে মারা যাচ্ছেন। ফলে মানসিক চাপ বাড়বে। এরকম পরিস্থিতিতে এরকম চাপ তৈরি হতে পারে।‘’

সেটা অস্বীকার করার কিছু নেই। কিন্তু কেউ যদি অস্বাভাবিক বাড়তি চাপে ভোগেন, ঘুম না হয়, আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে ব্যাহত করছে, কাজ করতে পারছি না, তখন অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত।‘’ তিনি বলছেন।

তিনি পরামর্শ দিয়ে বলছেন, যেহেতু অনেককে বাইরে যেতে হচ্ছে, ঝুঁকি বাড়ছে, তাই সবার উচিত বিকল্প একটি পরিকল্পনা তৈরি করে রাখা, যাতে আক্রান্ত হলে কোথায় যাবেন, কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, কিছু টাকাপয়সা আলাদা করে রাখা উচিত। ফলে কেউ আক্রান্ত হলেও বিপদে পড়ে যাবেন না।
সামাজিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে বাংলাদেশের মানুষের সামাজিক সম্পর্কের ওপরেও প্রভাব পড়ছে।

অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন তারা বন্ধু, স্বজন বা প্রতিবেশীর বাড়িতে যান না। এমনকি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনদের বাসায় যাওয়া বা তাদের নিমন্ত্রণ করা হয় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলছেন, ‘’করোনাভাইরাসের প্রভাব রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক-সব দিকেই পড়েছে। একদিকে একটা শ্রেণী যেভাবে মেলামেশা করতেন, রেস্টুরেন্টে খেতে যেতেন, বেড়াতে যেতেন, তাদের সামাজিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়ছে। তারা আর সেগুলো করতে পারছেন না।‘’

‘’আবার অন্যদিকে আরেকটা শ্রেণীর চাকরি নেই, ব্যবসা নেই, নানারকম সংকটে পড়েছেন। যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তারাও সংকটে আছেন। পরিবার হিসাবে তাদের টিকে থাকার লড়াই চলছে।‘’ তাদের কিন্তু সামাজিক জীবন নিয়ে এখন চিন্তা নেই।‘’

‘’যেভাবে রোগের সংক্রমণ হচ্ছে, প্রতিদিন অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, তাতে এখনো আমাদের আগের মতো সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করার সময় আসেনি। মানুষ এখন টেলিফোনে, ডিজিটালই যোগাযোগে অভ্যস্ত হয়েছে। আমাদের সম্ভবত আরও কিছুদিন এরকমভাবে অব্যাহত রাখতে হবে। এখনো আগের মতো সামাজিক সম্পর্ক শুরু করার সময় আসেনি।‘’ বলছেন অধ্যাপক সাদেকা হালিম।

বিবিসি বাংলা থেকে

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

One response to “করোনাভাইরাস : খাপ খাইয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই পোর্টালের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!