যার মৃত্যুতে সংগীতাঙ্গনের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেলো

যার মৃত্যুতে সংগীতাঙ্গনের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেলো

এন্ড্রু কিশোর ও হানিফ সংকেত

:: নিউজ বুক ডেস্ক ::

আলম খান

‘‘১৯৭৭ সাল। ‘মেইল ট্রেন’ ছবিতে এন্ড্রু কিশোর প্রথম গান গেয়েছিল। আমার সুর করা গান। এটি নিয়ে অনেকে আমার কাছে অনেক কিছু শুনতে চান। অনেক পুরনো কথা। ঠিক মনেও পড়ে না এখন। তার চেয়ে বড় কথা, এন্ড্রুর সঙ্গে তো আমার স্মৃতি অনেক। অভাব নাই। তাই প্রথম দিককার গানের কথাটা সেভাবে মাথায় আসে না। অনেক অনেক গুণ ছিল তার। গানের প্রতি কী যে নিষ্ঠা, সততা- তা বলে বোঝানোর নয়। মানুষ হিসেবেও সে অন্যরকম ছিল। কী যে ভোজনরসিক! তার চেয়ে বড় কথা, সে ছিল ভালো মানুষ।

সে যখন অসুস্থ হলো, যাওয়ার আগে আমার কাছে বিদায় নিয়েছিল। এমনকি যখন চিকিৎসা চলছিল, এর মধ্যেও সে ফোনে আমার সঙ্গে কথা বলত। এরপর বিষণœ মন নিয়ে দেশে ফিরল। রাজশাহী যাওয়ার পর আমাকে ফোন দিয়েছিল। সব বলল। তার কষ্ট আমি আর নিতে পারছিলাম না। কয়দিন আগে ফোনে বিদায় নেওয়ার মতো করে বলল, ‘দোয়া কইরেন, যেন শান্তিমতো যেতে পারি। এটাই ছিল আমার সঙ্গে তার শেষ কথা!

আরও পড়ুন : রামেক হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হলো এন্ড্রু কিশোরের লাশ, সমাহিত করা হবে রাজশাহীতেই

রুনা লায়লা

এন্ড্রু কিশোর আর নেইÑ খবরটা শুনতে হবে তা ভাবিনি। যখন সিঙ্গাপুরে গেলেন চিকিৎসার জন্য, ভেবেছিলাম ক্যান্সার জয় করে ফিরে আসবেন আমাদের মাঝে। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতাম তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। তিনি ফিরলেন না। তার এই চলে যাওয়ায় আমার মনে কী যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা বলে বোঝাতে পারছি না। এখনো ভাবছি, মেধাবী মানুষকে এত তাড়াতাড়ি কেন চলে যেতে হয়। আর ভাবতে পারছি না। গলা কেঁপে আসছে। এখন এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে আছি, চাইলেই তো ছুটে যেতে পারছি না। গত সপ্তাহে দীর্ঘসময় টেলিফোনে কথা বলেছি। তিনিই সব বলে গেছেন, আমি শুধু কাতর হয়েছি। এমনও অনেক স্মৃতি তুলে এনেছেন, যেটা নিজেও ভুলে গেছি। এখন দোয়া করা ছাড়া আর কিছু করার নেই।

হানিফ সংকেত

আরও পড়ুন : যার মৃত্যুতে সংগীতাঙ্গনের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেলো

‘এন্ড্রু কিশোর আর নেই’, প্রিয় বন্ধুর মৃত্যু সংবাদটি নিজের হাতে এত তাড়াতাড়ি লিখতে হবে কখনো কল্পনাও করিনি। এই মুহূর্তে কানে বাজছে রাজশাহী থেকে বলা কিশোরের শেষ কথাগুলো, ‘দোয়া করিস বন্ধু, কষ্টটা যেন কম হয়, আর হয়তো কথা বলতে পারব না’। এর পরই খুব দ্রুত শরীর খারাপ হতে থাকে কিশোরের। আর আমারও যোগাযোগ বেড়ে যায় রাজশাহীতে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। অবশেষে সবাইকে কাঁদিয়ে আজ সন্ধ্যায় এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেয় এন্ড্রু কিশোর- বাংলা গানের ঐশ্বর্য, যার খ্যাতির চাইতে কণ্ঠের দ্যুতিই ছিল বেশি। যার মৃত্যুতে সংগীতাঙ্গনের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেলো। অনেক কষ্ট পেয়েছি বন্ধু, এত তাড়াতাড়ি চলে যাবি ভাবিনি- কিশোরের আত্মার শান্তি কামনা করছি।

আসিফ আকবর

১৯৯৮ সালের প্রথমবার এন্ড্রু দাদার সঙ্গে আমার সরাসরি দেখা হয়। উনি শ্রæতি স্টুডিও-১ গান রেকর্ডিং করছিলেন, আমি ছিলাম শ্রুতি স্টুডিও ২-এ। দাদা আমাকে আগে থেকেই চিনতেন। রেকর্ডিং শেষে বললেন, তুমি অনেক দূর যাবা। লেগে থাক।
আমি দাদার (এন্ড্রু কিশোর) অনেক কাছে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। ২২ বছর ধরে তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক। তিনি আমাকে খুব স্নেহ করতেন। সবসময় আমাকে রাগ কমাতে বলতেন। তার চলে যাওয়ায় ইন্ডাস্ট্রিতে খুব বড় ধরনের এক ক্ষতি হয়ে গেল। যেটা আর পূরণ হবে না। এখন আমাদের উচিত তাকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা। তার কাজ ও স্মৃতি সংরক্ষণ করা।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

One response to “যার মৃত্যুতে সংগীতাঙ্গনের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেলো”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই পোর্টালের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!