সর্বশেষ:
বগুড়ায় বাসের চাপায় সিএনজির ৪ যাত্রী নিহত ধনবাড়ীতে পিকআপ ভ্যান ও ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত -১ : আহত ৫ ‘ঘরই কাল হলো লাকির’ সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে বগুড়ায় সাংবাদিকদের মানববন্ধন বীর মুক্তিযোদ্ধা কয়েস উদ্দীনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন চলে গেলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ পৌর নির্বাচনে বগুড়ায় সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে সুজনের পদযাত্রা ও মানববন্ধন সাপাহারে অবৈধভাবে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে ২২ টি স’মিল মান্দায় বঙ্গবন্ধু’র ম্যুরাল নির্মান কাজের উদ্বোধন সাপাহারে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন
বন্যার পানিতে ভেসে গেছে কৃষকের স্বপ্ন

বন্যার পানিতে ভেসে গেছে কৃষকের স্বপ্ন

:: চপল মাহমুদ- ঢাকা ::

সারা দেশের চলমান বন্যায় এখন পর্যন্ত ২০টি জেলায় ২৪ লক্ষাধিক মানুষ পড়েছে বন্যার কবলে। বাস্তুচ্যুত হয়ে সরকারি আশ্রয়শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে ৫৬ হাজারও বেশি বন্যা দুর্গত মানুষ। এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ বাড়িঘর বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঁধ ও বাঁধের সুরক্ষা মতো অবকাঠামো। ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি জমির ফসল।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানা যায়, গত ২১ জুলাই পর্যন্ত দেশের ২০টি জেলার ৯৮ উপজেলার ৬০৩ ইউনিয়ন বন্যার কবলে পড়েছে। জেলাগুলো হচ্ছে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, রংপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জামালপুর, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর, ফরিদপুর, নেত্রকোনা, ফেনী, শরীয়তপুর, ঢাকা ও নওগাঁ।

কৃষি মন্ত্রণালয় সুত্রে জানা যায়, দুই দফায় চলমান বন্যায় কৃষিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

প্রথম পর্যায়ে ২৫ জুন হতে ৯ জুলাই পর্যন্ত অতিবৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে বন্যায় রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, জামালপুর, নেত্রকোণা, রাজশাহী, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল জেলাসহ ১৪টি জেলায় ১১টি ফসলের প্রায় ৭৬ হাজার ২১০ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে ৪১ হাজার ৯১৮ হেক্টর জমি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অঙ্কে এ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৪৯ কোটি টাকা। মোট ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৩ লাখ ৪৪ হাজার জন। দ্বিতীয় পর্যায় ১১ জুলাই হতে ১৯ জুলাই পর্যন্ত মানিকগঞ্জ, বগুড়া, টাংগাইল, নাটোর, নওগাঁ, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, জামালপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, ময়মনসিংহ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, শেরপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ২৬টি (আগের ১৪টিসহ) জেলায় ১৩টি ফসলের প্রায় ৮৩ হাজার হেক্টর আক্রান্ত হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ হয়নি।

অন্যদিকে এবছর কৃষক বোরো ধানের ভালো দাম পেয়ে আউশ ধান আবাদে আগ্রহী হয় এবং বেশি পরিমান জমিতে আউশ ধান আবাদ করে। কিন্তু বন্যায় আউশ ধান ছাড়াও আমন বীজতলা, কাউন, চিনা বাদাম, তিল, বেগুন, মরিচ, পটল, শশা, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, ঢেঁড়স, কাকরোল ও পেপেসহ সবধরনের সবজির খেত এখন পানির নিচে। হাজার হাজার বিঘা খেতের ফসল ডুবে যাওয়ায় অনেক কৃষক এখন দিশেহারা। এছাড়াও বন্যার পানিতে পুকুর ডুবে ভেসে গেছে লাখ লাখ টাকার মাছ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় কুড়িগ্রাম জেলার ৫৫টি ইউনিয়নের ৩৫৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে ৫ হাজার ৬৫৩ হেক্টর জমির ফসল। এর মধ্যে আমন বীজতলা ৪৩৫ হেক্টর, আউশ ৮২৫ হেক্টর, তিল ২৪০ হেক্টর, কাউন ৫ হেক্টর, চিনাবাদাম ৮০ হেক্টর, মরিচ ৫৮ হেক্টর এবং পাট অর্ধ নিমজ্জিত হয়েছে ৩৫৯০ হেক্টর। অপরদিকে ইতোমধ্যে শতাধিক পুকুর প্লাবিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মৎস্য চাষিরা।

কুড়িগ্রাম জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান বলেন, বন্যায় ১ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। টানা বৃষ্টি আর বন্যার কারণে কৃষিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমন বীজতলা তৈরি করে উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়াও বন্যার পর ক্ষতি নিরূপণ করে তালিকা তৈরি করা হবে। সেই হিসেবে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান জানান, বন্যার পানিতে জেলায় ৩ হাজার ১০৬ হেক্টর জমির পাট, ১৯৬ হেক্টর আউশ ধান ও ১২৮ হেক্টর শাক-সবজি, ৪৩ হেক্টর আমন ধানের বীজতলা, ৪৪ হেক্টর তিল ও ২০ হেক্টর জমির চিনাবাদাম ডুবে গেছে।

নীলফামারীর চরাঞ্চলের ৩ হাজার পরিবার বন্যায় পানিবন্দি। তিস্তার চরাঞ্চলের বাদাম খেত ও আমন ধানের বীজতলা হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে অনেক মৎস্য খামারের মাছ।

বন্যায় রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার ফসলি জমি ডুবে গেছে। ধান, ভুট্টা ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে দিনাজপুরসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দিনাজপুর সদর, ফুলবাড়ী, কাহারোল এবং বিরল উপজেলাসহ আরও কয়েকটি উপজেলা নিম্নাঞ্চল বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। কিছু জায়গায় ডুবে গিয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষকের আগাম তৈরি করা আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে গেছে।

সিরাজগঞ্জ জেলার চরাঞ্চলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যমুনায় পানি বৃদ্ধির ফলে চরের শত শত হেক্টর জমির পাট, তিল, বাদাম, ভুট্টা, আউশ, কাউন, আখ ও সবজির খেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জে ৯৫৫ হেক্টর জমির পাট, ৩৭১ হেক্টর তিল, ১০ হেক্টর ভুট্টা, ৫৫ হেক্টর আউশ, ২৩ হেক্টর সবজি, ১৭ হেক্টর কাউন, ৭৮ হেক্টর জমির আখ মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৫০৯ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকের ৫০ শতাংশ ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (ডিডি) মো. হাবিবুল হক জানান, বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রায় ৩০টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল। এতে করে ১ হাজার ৫০৯ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।

জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, জেলায় বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ৩ হাজার ৬৩২ হেক্টর জমির পাট, ২৮৬ হেক্টর জমির আউশ ধান, ২৯৩ হেক্টরের সবজি, ৬৫ হেক্টর বীজতলা, ৫ হেক্টর জমির তিল, ৫ হেক্টর জমির ভুট্টা ও ৫ হেক্টর জমির বাদাম।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভের খাষ ইউনিয়নের সবজি চাষি আব্দুল আলী জানান,
আমার দুই বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রকার সবজি করেছিলাম সেগুলো এখন পানির নিচে।

এবছর চাষিরা পটল, ঢেঁড়শ, চিচিঙ্গা, বেগুন, চালকুমড়াসহ যেসব সবজি চাষ করেছে সব খেতে পানি উঠে গাছ মরে গেছে।

জামালপুরের ইসলামপুর সদর উপজেলার কৃষক আমিনুল মোল্লা জানান, আমি এবছর তিন বিঘা জমিতে পাট এবং এক বিঘা জমিতে সবজি চাষ করেছিলাম। বন্যার পানিতে সব ফসল তলিয়ে গেছে। কি করে এই ক্ষতি পূরণ করবো বুঝে উঠতে পারছিনা।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই পোর্টালের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!