সর্বশেষ:
‘ঘরই কাল হলো লাকির’ সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে বগুড়ায় সাংবাদিকদের মানববন্ধন বীর মুক্তিযোদ্ধা কয়েস উদ্দীনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন চলে গেলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ পৌর নির্বাচনে বগুড়ায় সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে সুজনের পদযাত্রা ও মানববন্ধন সাপাহারে অবৈধভাবে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে ২২ টি স’মিল মান্দায় বঙ্গবন্ধু’র ম্যুরাল নির্মান কাজের উদ্বোধন সাপাহারে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন অমর একুশে স্মরণে টাঙ্গাইল মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের শ্রদ্ধাঞ্জলি পাইস্কা উচ্চ বিদ্যালয় ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার দাবীতে আলোচনা সভা
টাঙ্গাইলে’র ঐতিহ্যবাহী পোড়াবাড়ীর “চমচম”

টাঙ্গাইলে’র ঐতিহ্যবাহী পোড়াবাড়ীর “চমচম”

:: সাইফুল ইসলাম সবুজ- নিজস্ব প্রতিবেদক ::

টাঙ্গাইল শহরে’র পাঁচআনি বাজারে বিভিন্ন মিষ্টি’র দোকানে শোভা পাচ্ছে লালচে রঙের টাঙ্গাইলে’র ঐতিহ্যবাহী পোড়াবাড়ী চমচম। দেশ ছাড়িয়ে এখন সারা বিশ্বেই সুনাম রয়েছে এ চমচমে’র। নেই কোনো ভেজাল। গরুর একবারে খাঁটি দুধ আর নির্ভেজাল সব উপাদান দিয়ে তৈরি হয় টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী এ মিষ্টান্ন।

চুলোয় গরুর খাঁটি দুধ জ্বাল দিয়ে প্রথমে তৈরি করা হয় ছানা। পাঁচ কেজির মতো ছানার সঙ্গে মেশানো হয় ২৫০ গ্রাম ময়দা। এবার খুব ভালো করে মেখে মিষ্টির আকার দিয়ে চিনির শিরায় জ্বাল দিতে হয় কমপক্ষে আঁধা ঘণ্টা। ক্রমশ পোড়া ইটের মতো রং ধারণ করে এ লম্বা মিষ্টিগুলো। এভাবেই তৈরি হয় রসালো মজাদার পোড়াবাড়ীর চমচম।

মন ভুলানো এই চমচম তৈরির এই কৌশল জানান টাঙ্গাইল শহরের মিষ্টিপট্টি হিসেবে পরিচিত পাঁচআনি বাজারের পলাশ মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক গৌরঙ্গ কর্মকার (৫৭)। প্রায় ৩৭ বছর ধরে পোড়াবাড়ীর চমচম বানাচ্ছেন তিনি।

গৌরঙ্গ কর্মকার বলেন, লালচে রঙের পোড়াবাড়ীর চমচমের ওপর দুধ জ্বাল দিয়ে শুকিয়ে তৈরি গুঁড়া মাওয়া ছিটিয়ে দেওয়া হয়। স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় এ বিশেষ মিষ্টি আজও ধরে রেখেছে জনপ্রিয়তা। কেউ টাঙ্গাইল আসলে পোড়াবাড়ীর চমচমের স্বাদ নিতে ভোলেন না।

পোড়াবাড়ী মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক রবিন সরকার জানান, টাঙ্গাইলের চমচমের দামও খুব বেশি নয়। প্রকারভেদ ২’শত থেকে ৩’শত টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

পোড়াবাড়ীর চমচমের রয়েছে প্রায় ২’শত বছরের ইতিহাস। এক সময় এ চমচমের ‘রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত ছিল পোড়াবাড়ী গ্রাম। খাঁটি চমচম তৈরির জন্য সুনাম ছিল টাঙ্গাইল শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরের এ গ্রাম।


প্রায় ২’শত বছর আগে যশোর থেকে হাল নামে এক ব্যক্তি (কারিগর) প্রথম এ গ্রামে এসে এ মিষ্টি তৈরি করেন। সেখান থেকেই জনপ্রিয় হয় পোড়াবাড়ীর চমচম। মুখে দিলেই মিলিয়ে যাওয়া। চমচম খেতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন ভোজনরসিকরা। পোড়াবাড়ী গ্রামের বাইরে শুধু টাঙ্গাইল শহরের পাঁচআনিসহ কয়েকটি এলাকার কারিগর এ মিষ্টান্ন তৈরি করতে পারেন।

স্থানীয় পাঁচআনি বাজারের ৩৫ থেকে ৪৫টি মিষ্টির দোকানে প্রতিদিন তৈরি হয় পোড়াবাড়ী’র চমচম। বেশিরভাগ দোকানের মালিক নিজেরাই এ চমচম তৈরি করেন। তাদের এ কাজে সহায়তা করেন নিজের পরিবারের সদস্যরা। তাছাড়াও রয়েছেন ৩ থেকে ৪ জন করে সহযোগী।

বড় বড় মিষ্টির দোকানগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ১০ মণ চমচম বানানো হয়।

পোড়াবাড়ী’র চমচম তৈরির খাঁটি দুধ প্রয়োজন হয়। এ জন্য তারা টাঙ্গাইলের বিভিন্ন গ্রাম থেকে দেশি গাভীর দুধ সংগ্রহ করেন। দুধ সংগ্রহের জন্য প্রতিটি মিষ্টির দোকানে আলাদা কর্মী রয়েছে।

পোড়াবাড়ীর চমচম ছাড়াও এসব দোকানে রসগোল্লা, আমিত্তি, জিলাপি, কালোজাম, রাজভোগ ও দই তৈরি হয়।

তবে বেচা-বিক্রিতে শীর্ষস্থান দখল করে রয়েছে এ চমচম।

স্থানীয় গৌর ঘোষ দধি ও মিষ্টান্ন ভান্ডারের কারিগর জানান, পোড়াবাড়ীর চমচম তৈরির প্রধান উপকরণ হলো খাঁটি দুধের ছানা, ময়দা আর চিনি। এসব উপকরণে তৈরি চমচমে নরমভাব যেমন, তেমন ঘ্রাণও। আর এটা খেতে অতুলনীয়।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই পোর্টালের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!