বারহাট্টা ষ্টেশন : “লক্কর ঝক্কর ময়মনসিং ঢাকা যাইতে কতদিন”

বারহাট্টা ষ্টেশন : “লক্কর ঝক্কর ময়মনসিং ঢাকা যাইতে কতদিন”

আজিজুল হক ফারুক – :: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

অনুসন্ধানে জানা যায় ১৯৩০-৩১ সনে সম্পদের প্রাচুর্যে মুগ্ধ হয়ে অত্র এলাকায় বৃটিশ সরকার রেললাইন স্থাপন করেন। বারহাট্টা ষ্টেশনটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি ঐতিহ্য বহন করে আসছে। তখনকার বারহাট্টা থানা বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন গুলোতে যখন কোন রাস্তা-ঘাট এবং কোন যানবাহন ছিল না তখন পায়ে হেটে বারহাট্টা ষ্টেশনে এসে অনেক যাত্রী রেলগাড়িতে চলাচল করত। ঐ সময় এই এলাকার সকল শ্রেনীর লোকজনের একমাত্র চলাচলের বাহন ছিল ট্রেইন। বারহাট্টা শহরটি এক গলির শহর।

শহরের উত্তর পার্শ্বে কংশ নদী আর দক্ষিনে রেল লাইন। এ দুয়ের মাঝে বারহাট্টা বাজার। সেই জন্যে অত্র এলাকার মানুষের সময় কাটানোর মতো কোন জায়গা নেই।

স্বভাবতই কারণেই সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে কিছু মানুষ এখনও বারহাট্টা ষ্টেশনে এসে চা স্টলগুলোতে সময় কাটায়। কারণ অন্যান্য ষ্টেশনের তুলনায় পরিবেশগত দিক থেকে বারহাট্টা ষ্টেশন অনেক নিরাপদ। বাংলাদেশের অন্যতম কবি নির্মলেন্দু গুণ তার হুলিয়া কবিতায় বারহাট্টা ষ্টেশন কে সকল মানুষের কাছে আরও সুপরিচিত করে তুলেন।

এই ষ্টেশনটি মমতাময়ী মা তার সন্তানকে, স্ত্রী তার স্বামীকে, সন্তান তার বাবাকে, প্রেমিক রাতের আধারে বড় বৃক্ষের নিচে অশ্রæঝড়া চোখে প্রেমিকাকে বিদায় জানানোর নিরব সাক্ষী।

অনেক জানা-অজানা, ইচ্ছায়Ñঅনিচ্ছায় মানুষের রেলে কাটা পরা লাশের সাক্ষী। বৃটিশ সরকার রেললাইন স্থাপনের পর আর রেললাইন এবং বারহাট্টা ষ্টেশনের সংস্কার হয়নি। ২০০৯-২০১০ সালের দিকে বর্তমান সরকার বাংলাদেশের অনেক জায়গায় রেললাইন এবং ষ্টেশন সংস্কারের কাজে হাত দেয়।

তার মধ্যে বারহাট্টাও রয়েছে। বৃটিশ সরকারের সেই পুরনো লাল ইটের নকশায় বানানো এক রুম বিশিষ্ট বারহাট্টা রেল ষ্টেশনের ঘরটি ভেঙ্গে নতুন নকশায় ষ্টেশন সংস্কারের কাজ শুরু করে। ষ্টেশনের উপর পূর্ব পার্শ্বে একটি বিশাল জাম গাছ এবং পশ্চিমে একটি রেনট্রি গাছ থাকায় ফ্লাটফর্মের পুরোটা জুরে উপরের ছাউনী করা সম্ভব হয়নি।

যার ফলে দুই দিকের প্রায় অর্ধেক অংশ ছাউনী বিহিন অবস্থায় থেকে যায়। ক্রমে ক্রমে ষ্টেশনের কাজ সম্পন্ন হয়। ত্রæটিপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই একটু বৃষ্টি এলেই ষ্টেশনের বিল্ডিং থেকে এবং পুরো ছাউনী জুড়ে পানি পরে পুরো ষ্টেশন সেঁতসেঁতে হয়ে যায়। এমনকি পুরো ষ্টেশন জুড়ে পানি আটকে থাকে। একটু বৈরি আবহাওয়ায় যাত্রীরা নিরাপদে ষ্টেশনে অবস্থান করতে পারে না। অনেক জায়গায় এক সময় রেল গাড়িই ছিল মানুষের একমাত্র যানবাহন।

২২০.০০ বর্গ কিলোমিটারের বারহাট্টা উপজেলায় ১,৮০,৪৪৯ লোক বসবাস করে। তার মধ্যে বেশির ভাগ মানুষই রেলগাড়িতে চলাচল করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। পার্শ্ববর্তী আটপাড়া, মধ্যনগর ও কলমাকান্দা উপজেলারও অনেক লোক বারহাট্টা রেল ষ্টেশনকে চলাচলের জন্য ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু বারহাট্টা রেল ষ্টেশন এবং রেল ব্যবস্থাপনা কোনটাই সন্তোষজনক নয়। কারণ বারহাট্টার উপর দিয়ে বর্তমানে মোহনগঞ্জ থেকে ঢাকায় চারটি রেলগাড়ি চলাচল করে।

তার মধ্যে দুইটি আন্তঃনগর, একটি কমিউটার এবং একটি লোকাল। দুইটি আন্তঃনগর এবং একটি কমিউটার ট্রেনের জন্য যে আসন নির্ধারণ করা হয়েছে তা বারহাট্টা উপজেলার যাত্রীদের জন্য যথেষ্ট নয়। এমনকি বর্তমানে ষ্টেশন ফ্ল্যাটফর্ম থেকে পূর্ব এবং পশ্চিম পার্শ্বে আন্তঃনগর ট্রেন দুইটি তার কমপারটমেন্ট গুলো নিয়ে অনেক দূরে অবস্থান করায় যাত্রীরা তাদের নির্ধারিত কমপারটমেন্টে উঠতে গিয়ে সমস্যায় পরে।

রাতের বেলায় পর্যাপ্ত ষ্টেশনে আলো না থাকায় অনেক সময় যাত্রীরা দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়। এহন পরিস্থিতি মোকাবেলায় উল্লেখিত সমস্যাগুলো বাংলাদেশ রেল কর্তৃপক্ষ সমাধান করার পদক্ষেপ নিলে বারহাট্টা উপজেলার এবং দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে আগত রেলগাড়িতে চলাচলের যাত্রীদের দুর্ভোগ লাগব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই পোর্টালের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!