দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সোচ্চার সংস্কৃতিকর্মীরা

দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সোচ্চার সংস্কৃতিকর্মীরা

:: চপল মাহমুদ ::

দুর্নীতিবাজ ও অসাধু লোকদের হাতে চলে গেছে দেশের রাজনীতি। রাজনীতিতে এখন জনসেবার চেয়ে নিজের সেবাই মূল হয়ে গেছে।

যেখানে ভালো মানুষগুলো নিজের গুটিয়ে রাখছে রাজনীতি থেকে। তাই দেশের মানুষ এখন রাজনীতিবিদদের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। চলমান সময়ে গত কয়েকদিনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে রাজনীতিবিদের মুখোশে থাকা দুর্নীতিবাজদের স্বরূপ উন্মোচিত হচ্ছে একের পর এক। রাজনীতির নামে এসব অনাচারের প্রতিবাদে সোচ্চার এখন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গণ। দুর্নীতিবাজদের সমূলে নির্মূল করারও আহবান জানান সংস্কৃতিকর্মীরা।

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এক প্রতিবাদ সমাবেশ।

সম্মিলিতভাবে এই সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ গ্রæপ থিয়েটার ফেডারেশান, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, পথনাটক পরিষদ, চারুশিল্পী সংসদ, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ সংগীত সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা, জাতীয় কবিতা পরিষদ, পিপলস থিয়েটার এসোসিয়েশন ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ-এর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তৃতা প্রদান করেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, গ্রæপ থিয়েটার ফেডারেশানের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী লাকী, পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরা, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ফকির আলমগীর, নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি মিনু হক, থিয়েটার ডিরেক্টরস ইউনিটির আহŸায়ক অনন্ত হিরা, চারুশিল্পী সংসদের সভাপতি কামাল পাশা চৌধুরী, গ্রæপ থিয়েটার ফেডারেশানের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজীদ।

এসময় বক্তারা বলেন, নিত্যদিনকার সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা অনাচারে অসহায় দেশের মানুষ। ক্যাসিনোতে জুয়ার আসর, সেই সাথে মাদকের রমরমা ব্যবসা ও অস্ত্রের ঝনঝনানিতে দুষিত হয়ে পড়েছে রাজধানীসহ সারাদেশ। আমাদের জানা ছিল না খেলার ক্লাবে আসলে ক্যাসিনো চলছে, ভালো মানুষদের বদলে রাজনীতি অসৎ মানুষদের হাতে চলে গেছে। দুর্র্নীতি দমনে সরকার যে অভিযান শুরু করেছে আমরা এই অভিযানকে সাধুবাদ জানাই। ঠিক একইভাবে এটাও জানতে চাই কে, কে, কারা, কারা, কিভাবে এই সকল অনাচার চালিয়ে যাচ্ছে। এদের প্রত্যেকের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। পাশাপাশি এটাও বলতে চাই, সব কাজে প্রধানমন্ত্রীকেই কেন পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসতে হয়। তাহলে দেশে নানা জায়গায় এত সব বিভাগ, এতো কর্মকর্তা তারা কেন আছেন? আরো আগে কেন তাদের চোখে এসব ধরা পড়েনি।

তারা আরও বলেন, চলমান অভিযান নিয়েও নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমরা বলতে চাই বাংলাদেশের মানুষ এই দুর্নীতিবাজ, জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে সোচ্চার আছে, সংস্কৃতিকর্মীরাও সোচ্চার আছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই অভিযান যেন অব্যাহত থাকে। এই অভিযান আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই অভিযানের মধ্য দিয়ে সন্ত্রসীরা গা ঢাকা দিয়েছে। আরও যারা নেপথ্যে থেকে এ ধরণের অনাচার, অসামাজিক কার্যকলাপকে সহযোগিতা করছে, তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই।

বক্তারা বলেন, আমরা জানতাম দেশে দুর্নীতি ও অনাচার চলছে। কিন্তু এর মহোৎসব চলছে তা আমাদের জানা ছিল না। এভাবে একটি সমাজ চলতে পারেনা। দায়িত্ব ছিল আমাদের সরকার, প্রশাসন, আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর। সবাই ব্যর্থ হয়েছে। আমরা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে এক দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছি। চ‚ড়ান্ত এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যে অভিযান তাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আমরা এই অভিযানের সঙ্গে আছি। যারা এসবের সঙ্গে জড়িত আমরা তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করি। এসবে মূলে যারা আছেন তাদের সামনে আনার দাবি জানাই।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই পোর্টালের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!