অযত্নে অবহেলায় জরাজীর্ণ ঐতিহাসিক আটিয়া জামে মসজিদ

অযত্নে অবহেলায় জরাজীর্ণ ঐতিহাসিক আটিয়া জামে মসজিদ

জেলা প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল ::
কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় চারশ বছরের পুরনো দেশের অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ঐতিহাসিক আটিয়া জামে মসজিদটির সংস্কার হচ্ছে না। মসজিদটির তত্ত্বাবধানে থাকা জাতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাছে বারবার লিখিত ও মৌখিকভাবে সংস্কারের জন্য আবেদন করা হলেও অদৃশ্য কারণে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যার ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

এদিকে অনুমতি না থাকায় এলাকাবাসীও ইচ্ছে করলেও মসজিদটি সংস্কার করতে পারছে না। প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে ঐতিহ্যবাহী আটিয়া জামে মসজিদটি স্থান পেয়েছে উইকিপিডিয়াতেও। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে মসজিদটির নানা ঐতিহাসিক তথ্য। এছাড়া এক সময় সরকার দেশবাসীর কাছে পরিচিত করাতে দশ টাকার নোটে আটিয়া মসজিদটির ছবি মুদ্রণ করেছিল। সেটি অবশ্য এখন আর নেই।

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা সদর থেকে মসজিদটির দূরত্ব প্রায় আট কিলোমিটার। ১৬০৯ সালে মসজিদটি নির্মাণ করেন করটিয়ার জমিদার সৈয়দ খান পন্নী। এরপর ১৮৩৭ সালে মসজিদটি সংস্কার করেণ দেলদুয়ার জমিদার বাড়ির সদস্য রওশন খাতুন চৌধুরাণী। পরে দেলদুয়ারের জমিদার আবু আহম্মদ গজনবী ও করটিয়ার জমিদার ওয়াজেদ আলী খান পন্নীসহ কয়েকজন মিলে ১৯০৯ সালে পুনরায় মসজিদটি সংস্কার করেন।

চুন-শুড়কি দিয়ে নির্মিত মসজিদটি পূর্ব-উত্তর পাশে রয়েছে সুনিপুণ দুর্লভ কারুকার্য। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৪২ ফুট প্রস্থ ৩২ ফুট এবং উচ্চতা ৪৪ ফুট। একটি বড় আকৃতির গম্বুজসহ মোট চারটি গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের দেওয়াল ৮ থেকে সারে ৮ ফুট প্রশস্থ।

মসজিদের বর্তমান ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন আহাম্মেদ জানান, ২০০১ সালের পর থেকে মসজিদটিতে কোনো চুনকাম করা হয়নি। বিভিন্ন অংশে শেওলা পড়ে কালো হয়ে গেছে। দেয়ালের ইট-বালি খসে পড়ছে, মসজিদটির প্রধান গম্বুজের একটি অংশ ভেঙে পড়ায় বৃষ্টি হলে মসজিদে পানি পড়ছে। যার ফলে মুসল্লিদের নামাজ আদায় কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

ইমাম আরও জানান, জরুরি ভিত্তিতে মসজিদটির সংস্কার প্রয়োজন। মসজিদটি দেখার জন্য এখনো অসংখ্য দর্শনার্থী ভীড় করেন এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীরা। মসজিদটির সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

এই ঐতিহাসিক মসজিদটি সংস্কার প্রসঙ্গে দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক মারুফ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মসজিদ রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবার। যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশা করি, মসজিদটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে কতৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

স্থানীয় আতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়্যারম্যান প্রকৌশলী সিরাজ মল্লিক বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এই মসজিদের সংস্কারের প্রয়োজন। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। বরাদ্দ পেলেই সংস্কার করা হবে। সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি আতিয়া মসজিদের ছবিসহ ১০ টাকার নোটটি পুরনায় চালু করা হোক।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই পোর্টালের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!