৪‘শত কোটি টাকা ঘুষগ্রহণের আলোচিত সেই প্রকৌশলী এমএ হাইয়ের বাড়ী টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে

৪‘শত কোটি টাকা ঘুষগ্রহণের আলোচিত সেই প্রকৌশলী এমএ হাইয়ের বাড়ী টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে

:: টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ::

গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্তি প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে সম্প্রতি অবসর নিয়েছেন আলোচিত সেই প্রকৌশলী এমএ হাই ওরফে মো. আবদুল হাই। আইন শৃ্খংলা বাহিনীর হাতে গত ২০ সেপ্টেম্বর আটক হওয়া ঠিকাদার জিকে শামীমের দেয়া ৪‘শত কোটি টাকা ঘুষগ্রহণের আলোচিত সেই প্রকৌশলী এমএ হাই টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর মানুষ।

আইন শৃংখলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে আটক জিকে শামীম গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামকে ১ হাজার ১শ কোটি টাকা এবং গণপূর্তের ঢাকা জোনের অতিরিক্তি প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল হাইকে ৪‘শ কোটি টাকা ঘুষ দেয়ার কথা বলেছেন। গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকে এমএ হাইয়ের গ্রামের বাড়ী টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার সীমানা ঘেষা ধনবাড়ী উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ধরবাড়ী প্রকাশ পানালিয়া গ্রামের মৃত ছলিম উদ্দিনের ছেলে প্রকৌশলী এমএ হাই। তার ৯৫ বছরের বৃদ্ধ মা খোদেজা বেওয়া বেঁচে আছেন। দুই ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে বড় ভাই নুরুল ইসলাম সন্তানসন্ততি নিয়ে বসবাস করেন একই বাড়িতে। বড় ভাই নুরুল ইসলাম ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক। পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে ২.৭১ একর জমি আছে তাদের ৮ ভাই বোনের। এলাকায় বাড়তি কোন জমি বা সম্পত্তি করেননি এমএ হাই। তবে দেশে বা বিদেশে কোন স্থাবর-অস্থাবর সম্পাদ করেছেন কিনা তা এলাকার কেউ জানাতে পারেননি।

গ্রামবাসী ও পরিবার সূত্র জানায়, এমএ হাই আশির দশকের শুরুতে টাঙ্গাইল সদরের আশিকপুর প্রকৌশলী কার্যালয়ে সহকারি প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি শুরু করেন। চাকরি পাওয়ার শুরুতেই বিয়ে করানো হয় এমএ হাইকে। তার স্ত্রীর নাম বনানী সুলতানা। সংসারের অবস্থা ভালো না থাকায় মা খোদেজা অগ্রণী ব্যাংক মধুপুর শাখা থেকে ৩৮ হাজার টাকা লোন করে ২০ হাত দৈর্ঘ্যরে একটি টিনশেড বিল্ডিং করে বিয়ের অনুষ্ঠানাদি করেন। ফ্লোর প্লাস্টার পাকা না করা সে সময়কার ঘরটির আর উন্নতি হয়নি। ওই অবস্থার সেই ঘরে এখন তাদের মা খোদেজা বেওয়া থাকেন।

বুধবার সরেজমিনে সেই আলোচিত প্রকৌশলী এমএ হাইয়ের গ্রামের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় শতবর্ষী মা খোদেজা বেওয়া প্লাস্টার ছাড়া ওই ঘরটিতে বসবাস করছেন। পরিবার ও স্থানীয়রা অনেকে এত টাকা ঘুষ গ্রহণের খবরে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন এবং পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা-সমালচনা করছেন।

বাল্যবন্ধু আরশেদ আলী জানান, ছাত্র জীবনে মেধাবী ছিলেন এমএ হাই। দাম্পত্য জীবনে তিনি দুই ছেলে এক মেয়েরজনক। দুই ছেলেই প্রতিবন্ধী। আলোচিত ৪‘শ কোটি টাকা ঘুষ কেলেংকারির কথা তিনি শোনেছেন। তবে এমন কাজে আবদুল হাই যুক্ত থাকতে পারেন বিশ্বাস করতে তার কষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আকবর হোসেন জানান, ৪‘শত কোটি টাকা ঘুষ কেলেংকারির আলোচিত সেই প্রকৌশলী এমএ হাই তার ইউনিয়নের ধরবাড়ী প্রকাশ পানালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গ্রামের বাড়ীতে টিনের ঘর ছাড়া তেমন কিছু করেননি। মাঝে মধ্যে বাড়ীতে আসা যাওয়া করতেন। অন্য কোথাও কিছু করেছেন কিনা তা তার জানা নেই। তাকে ভদ্র লোক হিসাবেই জানতাম। তবে এখন তাকে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই পোর্টালের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design BY NewsTheme
error: Content is protected !!